কলকাতা:  বাংলার ৪২ লোকসভার কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪ নম্বর লোকসভা কেন্দ্র হল এই মেদিনীপুর। এই কেন্দ্রে একটানা ১০টি নির্বাচনে জিতেছে সিপিআই।যথাক্রমে সিপিআইয়ের নারায়ণ চৌবে দুবার, ইন্দ্রজিৎ গুপ্তা পাঁচবার ও প্রবোধ পাণ্ডা একটি উপনির্বাচন-সহ তিনবার বিজয়ী হয়ে সংসদে যান। ২০১৪ সালে প্রথম লালদুর্গে ফাটল ধরে।

এককালের লালদুর্গ মেদিনীপুর এখন সবুজে সবুজ। প্রায় তিন দশক বামেদের দখলে থাকা মেদিনীপুর‌ নড়বড়ে হতে শুরু করে ২০০৮–‌এর পঞ্চায়েত নির্বাচন থেকেই৷ ২০০৯ সালের লোকসভা ভোটে সিপিআইয়ের প্রবোধ পান্ডা জিতলেও তাঁর ব্যবধান কমে দাঁড়ায় ৫০ হাজার-এ। ২০১৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে মেদিনীপুর পুরোপুরি তৃণমূলের দখলে আসে। ১ লক্ষ ৮৭ হাজার ভোটে জেতেন তৃণমূল প্রার্থী সন্ধ্যা রায়। তার পর আর তৃণমূলকে পিছন ফিরে তাকাতে হয়নি।

মেদিনীপুর লোকসভা কেন্দ্রের মধ্যে সাতটি বিধানসভা কেন্দ্র হল- এগরা, দাঁতন, কেশিয়াড়ি, খড়গপুর সদর, খড়গপুর, নায়ারণগড় ও মেদিনীপুর। এই সাতটি কেন্দ্রই পশ্চিম মেদিনীপুর জেলার অধীন।

২০১৪-র নির্বাচনে এই কেন্দ্র থেকে তৃণমূল কংগ্রেসের সন্ধ্যা রায় সিপিআইয়ের প্রবোধ পাণ্ডাকে ১ লক্ষ ৮৬ হাজার ৬৬৬ ভোটে পরাজিত করেন। সন্ধ্যা রায় ভোট পান ৫,৮১,৮৬০টি। নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী প্রবোধ পাণ্ডার প্রাপ্ত ভোট ৩,৯৫,১৯৪। বিজেপির প্রভাকর তিওয়ারি পান ১,৮০,০৭১ ভোট। কংগ্রেসের বিমল রাজ পান পেয়েছিলেন ৪৮,৯১৪ ভোট।

তৃণমূল কংগ্রেস এবার গতবারের সাংসদ সন্ধ্যা রায়কে প্রার্থী করেনি। কংগ্রেস ছেড়ে তৃণমূলে য়োগ দেওয়া হেভিওয়েট মানস ভুঁইয়াকে এবার তৃণমূল প্রার্থী করেছে। বিজেপির প্রার্থী হয়েছেন দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। সিপিআই প্রার্থী করেছে বিপ্লব ভট্টকে। শিবসেনার প্রার্থী অশোক সরকার। কংগ্রেস প্রার্থী করেছে শম্ভুনাথ চট্টোপাধ্যায়কে।

পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন এই কেন্দ্রটিতে এবার হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে৷ কারণ মেদিনীপুর কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী ডাঃ মানস ভুঁইয়া সবংয়ের ভূমিপুত্র। তিনি ৮ বারের বিধায়ক। রাজ্যসভার সাংসদ। অন্যদিকে, বিজেপি–র প্রার্থী খড়্গপুরের বিধায়ক দিলীপ ঘোষ। যিনি বাংলায় বিজেপির সেনাপতি৷ তবে শেষ হাসি কে হাসবে সেটা জানা ২৩ মে৷