তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: এখানে পুজোর কাজ করেন হিন্দু মুসলিম সবাই৷ চাঁদা তোলা থেকে শুরু করে পুজোর সব আয়োজনেই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করেন এলাকার প্রতিটি মানুষ৷ ‘সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি’ শব্দটা এখানে কথার কথা নয়।

বহুল ব্যবহৃত এই শব্দের সার্থক প্রতিফলন বাঁকুড়ার কোতুলপুরের উত্তর পল্লী সার্বজনীন দুর্গোৎসব কমিটির পুজো মণ্ডপ। এখানে এলাকার সমস্ত হিন্দু-মুসলিম পরিবার যেমন একসাথে পুজোর আয়োজন করেন, তেমনই অংশগ্রহণেও কোনও বাছবিচার নেই। বরং একসাথে পুজোর আয়োজন করে গর্বিতই দুই সম্প্রদায়ের মানুষ।

থিমের রমরমায় গা ভাসায় না কোতুলপুরের এই পুজো কমিটি৷ এখানকার উদ্যোক্তারা পুজোপাঠ, পুষ্পাঞ্জলি আর ভোগ নিবেদনের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের মধ্যে সমাজ সচেতনতা তৈরী করতে নানান উদ্যোগ গ্রহণ করেন। সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, মিশন নির্মল বাংলার মতো চলতি সরকারি প্রকল্পের পাশাপাশি পুজোর চারদিন স্বাস্থ্য পরীক্ষা, চক্ষু পরীক্ষা, থ্যালাসেমিয়া, রক্তদান শিবিরের আয়োজন করা হয়। তাছাড়া সব শ্রেণীর মানুষের মিলিত অংশগ্রহণে ধারাবাহিক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন তো থাকেই।

এলাকার মানুষও এটা ভেবে গর্বিত হন জেলার মধ্যে সম্ভবত একমাত্র এই পুজো মণ্ডপেই পুজোর আয়োজনে ধর্ম কোন বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। এলাকার হিন্দু পরিবারগুলির পাশাপাশি মুসলিম পরিবারের তরফেও সমানভাবে পুজোর চাঁদা দেওয়া হয়। গত চার বছর ধরে পুজোর এই ছবিটাই দেখতে অভ্যস্ত কোতুলপুরের মানুষ। আর পুজো কমিটির সম্পাদক নিজে একজন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষ।

আরও পড়ুন : পুজোর মুখে খুশির খবর, ছুটি বাড়ল সরকারি কর্মীদের

সম্পাদক শেখ শান্তনুর নেতৃত্বে পুজোর চাঁদা তোলা থেকে অনুষ্ঠান সূচি তৈরী, ভোগের মেনু তালিকা তৈরীতে ‘ধর্ম’ কোন বাধা হয়না সভাপতি অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায়দের কাছে। দুই সম্প্রদায়ের মানুষ হাতে হাত মিলিয়ে গত চার বছর যেমন এই পুজোর আয়োজন করে এসেছেন, আগামী দিনেও ঠিক তেমনটাই করে আসবেন বলে উদ্যোক্তারা জানালেন।

পুজোর আর মাত্র হাতে গোনা ক’টা দিন বাকি। চলছে শেষ মুহূর্তের প্যাণ্ডেল তৈরীর কাজ। প্যাণ্ডেল শিল্পীদের ঠুক-ঠাক পেরেক আর হাতুড়ির শব্দে এখন সরগরম কোতুলপুর উত্তর পল্লী। পুজো মণ্ডপ তৈরীর তদারকির মাঝে সম্পাদক শেখ শান্তনু বলেন, এখানে ধর্ম কোনও বাধা নয়। এই পুজোয় দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এক সাথে সমানভাবে আনন্দ করি। আমরা মনে করি এই কোন বিশেষ সম্প্রদায়ের নয়। পুজো আমাদের উত্তর পল্লী বাসিন্দা বৃন্দের পুজো।

আরও পড়ুন: পট চিত্র তুলে ধরে হবে রায়গঞ্জের পুজো মণ্ডপে

তিনি আরও বলেন এবছর আমরা সমাজ সচেতনতার উপর বেশী জোর দিতে চেয়েছি। সেফ ড্রাইভ সেভ লাইফ, থ্যালাসেমিয়া বিষয়ে প্রচার অনুষ্ঠান যেমন থাকছে, তেমনি মদ্যপান, ধূমপানের মতো বিষয়গুলি নিয়েও সাধারণ মানুষকে সচেতনতামূলক বার্তা দিতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। যখন আমাদের এলাকার কোনও অসুস্থ রোগীর রক্তের প্রয়োজন হয়, তখন আমাদের মাঝে ধর্ম কোনদিন কোনও বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি। পুজোর ক্ষেত্রেই বা সেই বাধা কেন? প্রশ্ন তোলেন তিনি৷

সম্পাদক শেখ শান্তনুর সুরে সুর মিলিয়ে সভাপতি অমিয় বন্দ্যোপাধ্যায় বলেন, এখানে ক্লাব, খেলাধুলা থেকে সমস্ত কাজ হিন্দু-মুসলিম দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এক সাথে করে চলেছি। হিন্দুদের উৎসব বলে মুসলিম ভায়েদের দূরে ঠেলে দেওয়া নয়। কাজী নজরুল ইসলামের কবিতার লাইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ মোরা এক বৃন্তে দু’টি কুসুম হিন্দু মুসলমান’ ৷

আরও পড়ুন: পুজো শুরু মহিষাদল রাজ বাড়িতে

তাঁরা প্রায় সাতশো জন সদস্য এভাবেই কাজ করে অভ্যস্ত বলে জানান তিনি৷ একই সঙ্গে তিনি বলেন, তথাকথিত ‘অচ্ছুৎ’ এখানে কিছু নেই। আমরা তা মানিনা। সব সম্প্রদায়ের, সব জাতির মানুষ এক সাথে পাশাপাশি বসে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার নামই উৎসব। গত চার বছরের এই ধারাবাহিকতা আগামী চারশো বছরেও কোতুলপুরে অব্যাহত থাকবে বলে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে জানান।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।