স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: চাইছি তোমার বন্ধুতা৷ এই বার্তা নিয়েই দশকের পর দশক ধরে এক বিশেষ রীতি পালন করে আসছে বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাদ ক্যাম্পাস৷ গোটা রাজ্যের মধ্যে একমাত্র এই ক্যাম্পাসই এক বিশেষ প্রেমদিবস উদযাপন করে৷

কথায় আছে সরস্বতী পুজো মানেই প্রথম দেখা, প্রথম প্রেম। আর তা যদি হয় বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে – তাহলে তো কথাই নেই। এই গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে নজরকাড়াভাবে ‘তত্ত্ব আদান প্রদান’এর মাধ্যমে প্রেম নিবেদনের একটা রেওয়াজ চলছে বিগত কয়েক দশক ধরে।

রেওয়াজ মেনেই সরস্বতী পুজোর পরের দিন ছাত্রাবাসে দল বেঁধে হাজির হয় ছাত্রীরা৷ পরস্পর পরস্পরকে ভালবাসার সাক্ষী হিসাবে তত্ত্ব আদানপ্রদান করে৷ সুসজ্জিত কাগজে মোড়া ট্রেতে বিয়ের তত্ত্ব পাঠানোর মতই বিভিন্ন খাবার স্ট্রবেরি, কাজু, কিসমিসের সঙ্গে থাকে চকোলেট, চিপস৷ আর সবকিছু ছাপিয়ে থাকে প্রেমের ইশারা।

ছাত্রীরা যখন ছাত্রাবাসে প্রবেশ করে তখন সেখানে সমস্ত রকম ছবি তোলা একেবারেই নিষিদ্ধ। ভেতরে কি কি হয় তাও জানাতে মানা। দীর্ঘদিন ধরেই চলে আসছে এই রীতি৷ ছাত্রীরা ছাত্রাবাসে প্রবেশ করার পর ছাত্ররাই বাইরে পাহারায় থাকে, যাতে অনভিপ্রেত কেউ ভেতরে ঢুকতে না পারে। জানা যায়, ভেতরে ছাত্রীরা ঢোকার পর তাদের রীতিমত আপ্যায়ন করা হয়। দেওয়া নানান খাবারও।

এরপর ছাত্রাবাসের ছাত্ররা হাজির হন সদলবলে বিভিন্ন ছাত্রী আবাসে। সেখানও একইভাবে ছাত্রদের আপ্যায়ন করেন ছাত্রীরা। উল্লেখ্য, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে গোলাপবাগ ক্যাম্পাসে রয়েছে সরোজিনী, গার্গী, প্রীতিলতা, মীরাবাঈ, নিবেদিতা, এবং বাবু জগজীবনরাম এই ৬টি ছাত্রী আবাস৷

অন্যদিকে, রয়েছে রবীন্দ্র, অরবিন্দ, বিবেকানন্দ, চিত্তরঞ্জন, নেতাজি, আইনস্টাইন এই ৬টি ছাত্রাবাসও৷ সরস্বতী পুজোর পরের দিনকে কেন্দ্র করে স্বভাবতই ছাত্রছাত্রীরা পরস্পরের মন রাঙিয়ে আরও একটু কাছে আসার চেষ্টা করেন৷ কিন্তু তা কখনই সীমা ছাড়ায় না। অনেকেই জীবনসঙ্গীও বেছে নিয়ে এদিনই কার্যত পাকা কথাও দিয়ে ফেলেন।

ছাত্রীরা এদিন জানিয়েছেন, একসঙ্গে সবাই পড়াশোনা করার পর সরস্বতী পুজোর বিসর্জনের দিন একে অপরকে তত্ত্বপ্রদানের মাধ্যমে সু সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং একতাবোধকে আরও সুদৃঢ় করার লক্ষ্য নিয়েই এই রেওয়াজ চলে আসছে। পাল্টা ছাত্ররাও একই কথা বলেছেন। ভ্যালেণ্টাইন্স ডে নয় সকলের মধ্যে একটা সুস্থ ভাল সম্পর্ক তৈরী করাই এই রীতির মূল লক্ষ্য।