মুম্বইঃ ভারতে করোনা হানা দেওয়ার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত মহারাষ্ট্র। একের পর এক করোনা আক্রান্তের খোঁজ মিলতে শুরু হলেও ধারাভি বস্তির ঘটনা চিন্তা দ্বিগুণ বাড়িয়েছে। এবার পরিস্থিতি আরও জটিল কারণ নতুন করে ১৬২ জনের সংক্রমণ হয়েছে, সেই তথ্য সামনে এনেছে মহারাষ্ট্র স্বাস্থ্য দফতর।

রাজ্য সরকারের তরফে এমন তথ্য স্বাভাবিকভাবেই চিন্তা বাড়িয়েছে। ১৬২ জনের সংক্রমণের ঘটনার পর মোট করোনা পসিটিভের সংখ্যা ১২৯৭ জন।

শুধুমাত্র আক্রান্তই নয়, মৃত্যুরসংখ্যার নিরিখেও ভারতের সকল রাজ্যগুলির মধ্যে সবার আগে রয়েছে মহারাষ্ট্র। মহারাষ্ট্রে এপর্যন্ত মৃত্যু হয়েছে ৭২ জনের, যা প্রায় গোটা দেশের অর্ধেক।

নাজেহাল অবস্থা বাণিজ্যনগরী মুম্বইয়ের। শহরে COVID-19-এ মোট আক্রান্তের সংখ্যা ৭১৪, যাঁদের মধ্যে ৪৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে মুম্বইয়ের যে অঞ্চলটিকে নিয়ে চিন্তা সব থেকে বেশি, সেই ধারাভি বস্তি এখনও পর্যন্ত আক্রান্ত ১৩। মৃত্যু হয়েছে দু’জনের। এশিয়ার বৃহত্তম বস্তিতে করোনা সংক্রমণের খোঁজ গোটা দেশের ভয় বাড়াচ্ছে।

মুম্বইয়ের পরই পুণে, যেখানে মোট আক্রান্ত ১৯৯। মারা গিয়েছেন ১৭ জন। এছাড়া করোনা রোগীর সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে থানে, নাগপুর, সাতারা, পিম্পড়ি-চিঞ্চাওয়াড়, আহমেদনগর থেকেও। বিশাল এলাকায় করোনা ছোবল মেরেছে মহারাষ্ট্রে।

মার্চ মাসের ৯ তারিখ প্রথম করোনা রোগীর খোঁজ পাওয়া গিয়েছিল পুণেতে। আক্রান্ত হয়েছিলেন দুবাই-ফেরত এক দম্পতি। পরদিন আরও তিনজনের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া যায়। তারপর থেকেই ক্রমশ বেড়ে চলেছে আক্রান্তের সংখ্যা।

পরিস্থিতির ভয়াবহতা দেখে মুম্বই এবং পুণে পুরনিগম মাস্ক পরা বাধ্যতামূলক করেছে। এই দুই শহরে রাস্তায় মাস্ক না পরে বেরোলেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে বলে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।

তবে মহারাষ্ট্র করোনা পরীক্ষানিরীক্ষা অনেক বাড়িয়ে দিয়েছে। কারণ অনেক বেসরকারি ল্যাবেও এখন এই পরীক্ষা হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন আক্রান্তের সংখ্যা বাড়লেও গোষ্ঠী সংক্রমণের আশঙ্কা তৈরি হয়নি।