স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: প্রতিবারের মতো এবারও মেধাতালিকায় দশের মধ্যে জায়গা করে নিল প্রান্তিক জেলা বাঁকুড়া৷ প্রথম থেকে চতুর্থ স্থানের মধ্যে থাকতে না পারলেও পঞ্চম থেকে দশম স্থানের মধ্যে রয়েছে এই বাঁকুড়া জেলা৷

এবছর বাঁকুড়া জেলায় পাশের হার ৭৯.৫৯ শতাংশ৷ গোগরা হাই স্কুল ও বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন হাইস্কুলের ছাত্রী ৬৮৫ নম্বর পেয়ে পঞ্চম স্থান অধিকার করেছে সৌমী নন্দী ও সৃজা পাত্র৷ অনমিত্রা মুখোপাধ্যায় বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন হাইস্কুলের ছাত্রী ৬৮২ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে৷

একই নম্বর প্রাপ্ত দেবারতি পাঁজা বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাইস্কুলের ছাত্রীও অষ্টম স্থান অধিকার করেছে৷ এর পাশাপাশি দিশা মণ্ডল বিবেকানন্দ শিক্ষানিকেতন হাইস্কুলের ছাত্রীও একই স্থানে রয়েছে৷ সিমলাপাল মদনমোহন হাইস্কুলের ছাত্র রূপ সিনহাবাবু ৬৮২ নম্বর পেয়ে অষ্টম স্থান অধিকার করেছে৷ ৬৮১ নম্বর পেয়ে নবম স্থান অধিকার করেছে ভিসানপুর হাইস্কুলের ছাত্র সায়ন নন্দী ও বাঁকুড়া মিশন গার্লস হাই স্কুলের ছাত্রী অন্বেষা দেঘুরিয়া৷ দশম স্থানে রয়েছে ৬৮০ নম্বর প্রাপ্ত বারজোরা হাই স্কুলের ছাত্র গৌরব মণ্ডল৷

এদের মধ্যে সিমলাপালের অনতিদূরে জুনকুড়া গ্রামের বাসিন্দা রুপ সিংহবাবু৷ বাবা একটি বেসরকারি সংস্থার এজেন্ট৷ শিক্ষক দাদুর অনুপ্রেরণা সাফল্য পেতে বিশেষ সাহায্য করেছে তাঁকে৷ একই সঙ্গে শিক্ষকদের ভূমিকাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে রূপ৷ ভবিষ্যতে ডাক্তার হওয়ার স্বপ্ন দেখা রূপ প্রয়োজনের বেশি কখনোই পড়াশোনা করেনি বলে জানিয়েছে৷ একই সঙ্গে এই কৃতি ছাত্র খেলাধূলা আর গল্পের বই পড়তেও সমানভাবে ভালোবাসে৷

রূপ সিংহবাবুর শিক্ষক সুব্রত সিংহমহাপাত্র বলেন, বরাবর পড়াশোনায় ভালো রূপ৷ ভালো ফল করবে তারা সে বিষয়ে আত্মবিশ্বাসী ছিলেন৷ পরবর্তী ক্ষেত্রেও রূপের ভালো ফলের প্রত্যাশা করেন তিনি।

পঞ্চম স্থান আধিকারিক কৃতি ছাত্রী সৌমী নন্দী পরীক্ষার আগে একেবারে ছকে বাঁধা নিয়মেই পড়াশুনা করেছে৷ রবীন্দ্র সঙ্গীতের ভক্ত এই কৃতি ছাত্রীর প্রিয় বিষয় জীবন বিজ্ঞান ও ইংরেজি। আশানুরূপ ফলাফল হলেও রাজ্যে একেবারে পঞ্চম স্থান অধিকার করবে একথা কখনোই ভাবেনি সে। তার এই সাফল্য বাবা, মা আর শিক্ষকদের উৎসর্গ করতে চায় সৌমী। তার এই সাফল্যে খুশি সহপাঠী, শিক্ষক থেকে পাড়া প্রতিবেশীরাও।

তাঁর বাবা একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক। মা কোতুলপুর গ্রামীণ হাসপাতালের সেবিকা। দু’জনেই পড়াশোনার ক্ষেত্রে যথেষ্ট উৎসাহিত করেছেন তাঁকে৷ সকালেই ফলাফল প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গেই এই কৃতি ছাত্রীর বাড়িতে যান রাজ্যের মন্ত্রী ও স্থানীয় বিধায়ক শ্যামল সাঁতরা। ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি তার হাতে উপহার সামগ্রীও তুলে দেন মন্ত্রী শ্যামল সাঁতরা।

বাঁকুড়া জেলা থেকে ষষ্ঠ স্থান অধিকার করল শ্রুতি সিংহমহাপাত্র৷ সে প্রথমে বাড়ির কাছে খাতড়ার একটি বেসরকারি স্কুলে পড়াশোনা করত৷ তারপর ষষ্ঠ শ্রেণীতে এসে বাঁকুড়া শহরের এই স্কুলে ভরতি হয়। ভবিষ্যতে বিজ্ঞান নিয়ে পড়াশোনা করতে চায় সে৷

অন্যদিকে, নবম স্থান আধিকারিক সায়ন নন্দী প্রতিদিন প্রায় দশ ঘন্টা পড়াশোনা করত৷ তাঁর অন্যতম প্রিয় বিষয় ক্রিকেট। তার এই সাফল্যের পিছনে অন্যতম প্রেরণাদাত্রী তাঁর মা। পাশাপাশি বাবা আর শিক্ষকদের ভূমিকাও কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করছে সে। ভবিষ্যতে একজন শিক্ষক হওয়ার স্বপ্ন দেখে সে৷ পরীক্ষা দিয়েই সে আশা করেছিল ৬৮০ নম্বার পাবে। ফলাফল প্রকাশের পর দেখা গেল তার প্রাপ্ত নম্বর ৬৮১। মেধা তালিকায় তার নাম থাকবে একপ্রকার সে নিশ্চিত ছিলই বলে জানাল সায়ন নন্দী।

এদের পাশাপাশি গৌরব মণ্ডল দশম স্থান অধিকার করেছে৷ বড়জোড়া মণ্ডল পাড়ার বাসিন্দা সে৷ এই কৃতি ছাত্র প্রথম থেকেই অত্যন্ত বিনয়ী ও মেধাবী হিসেবে এলাকায় পরিচিত। তার বাবা সুবোধ মণ্ডল প্রাক্তন সেনা কর্মী।

আজকের দিনটির প্রতীক্ষায় দশ বছর আগে সেনাবাহিনী থেকে অবসর নিয়ে নতুন করে কোনও চাকরির চেষ্টা করেননি তিনি। এমনটাই জানানোর পাশাপাশি তিনি ছেলের এই সাফল্যের পিছনে সমস্ত কৃতিত্ব দিলেন মা ও শিক্ষকদের। তাঁর মা বললেন, ‘আমি আর পাঁচটা মায়ের মতোই করেছি। আলাদা কিছু নয়।’

স্কুলের প্রধান শিক্ষক ফালগুনী মুখোপাধ্যায় বলেন, ‘আমরা আশা করেছিলাম গৌরব মেধা তালিকায় আসবে। ওর সাফল্যে আমরা খুশি।’

পপ্রশ্ন অনেক: একাদশ পর্ব

লকডাউনে গৃহবন্দি শিশুরা। অভিভাবকদের জন্য টিপস দিচ্ছেন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ।