রায়পুর: একাধিক অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে৷ বোমা বিস্ফোরণ, লুঠ, গুলির লড়াইয়ে একাধিকবার যুক্ত ছিলেন তিনি৷ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তার মাথার দাম ধরা হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা৷ বহুদিন ধরেই মাওবাদী নেতা রবিকে খুঁজছিল পুলিশ৷

সেই মাওবাদী নেতা আত্মসমর্পণ করল পুলিশের হাতে৷ ছত্তিশগড়ের জঙ্গল এলাকা কাঁপিয়ে বেড়ানো রবি, স্ত্রী বুধরি ও দুই সন্তান নিয়ে পুলিশের কাছে বৃহস্পতিবার আত্মসমর্পণ করে৷ ছত্তিশগড় পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করে সে ও তার পরিবার৷

আরও পড়ুন- হোম ধর্ষণ কাণ্ড: দেশ জুড়ে বনধের ডাক লালুর দলের

সংবাদ সংস্থা এএনআই জানাচ্ছে শুধু রবি নয়, তার স্ত্রী বুধারির মাথার দামও ৫ লক্ষ টাকা ঘোষণা করেছিল পুলিশ৷ এরা দুজনেই একাধিক নাশকতা মূলক কাজের সঙ্গে যুক্ত ছিল বলে জানাচ্ছে পুলিশ৷ ছত্তিশগড়ের সুকমার কেরলাপাল থেকে ২০১২ সালে সুকমার কালেক্টর অ্যালেক্স পল মেননের অপহরণের পিছনে এই মাওবাদী দম্পতির হাত ছিল বলে মনে করা হয়৷ এছাড়াও একাধিক লুঠ ও বোমা বিস্ফোরণের সঙ্গে যুক্ত এই দম্পতি৷

আরও পড়ুন- “শিলচর বিমানবন্দরে যেন জঙ্গি রয়েছে”

আত্মসমর্পণের সময় রবি ও বুধরি পুলিশকে জানায়, সাধারণ গরিব মানুষদের সেবা করতেই তারা মাওবাদী দলে নাম লিখিয়েছিল৷ কিন্তু ধীরে ধীরে সেই উদ্দ্যেশ্য থেকে সরে আসে তারা৷ পাশাপাশি, সরকারের প্রতি ঘৃণা থেকেও এই মাওবাদী হওয়ার কথা ভেবে ছিল তারা৷

কিছুটা জোর করেই তাদের রাষ্ট্রদ্রোহিতার পথে নামতে বাধ্য করা হয়৷ কার্যত ভুল বোঝানো হয়েছিল তাদের বলে জেরায় জানিয়েছে ওই মাওবাদী দম্পতি৷ কিন্তু পরে তারা নিজেদের ভুল বুঝতে পেরেছে বলে দাবি করে ওই মাওবাদী নেতা৷

আরও পড়ুন- এবার বেকার যুবকদের পেনশন দেবে রাজ্য সরকার

বৃহস্পতিবারই ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রী রমন সিং মাওবাদীদের কাছে আত্মসমর্পণের আবেদন জানান৷ পাশাপাশি তিনি বলেন, যদি আত্মসমর্পণ না করা হয়, তবে যেন যৌথবাহিনীর হাতে নিকেশ হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে তারা৷

মানা ক্যাম্প এলাকায় পুলিশ প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে একটি প্যারেডের অনুষ্ঠানে যোগ দেন মুখ্যমন্ত্রী৷ সেখানেই মাওবাদীদের প্রতি এই কড়া বার্তা দেন তিনি৷ তিনি এও জানান, তল্লাশি ও সংঘর্ষের মাধ্যমে সুরগুজা জেলাকে মাওবাদী মুক্ত ঘোষণা করেছে রাজ্য সরকার৷ এই রকম জেলার সংখ্যা আরও বাড়বে বলে বার্তা দেন তিনি৷