স্টাফ রিপোর্টার কলকাতা: বাম থেকে ডান৷ বুদ্ধ থেকে মমতা৷ রাজ্যে পালা বদল হয়েছে৷ কিন্তু শাসকের চোখে আইপিএস রাজীব কুমারের নম্বরের পতন হয়নি৷ সব আমলেই রাজীব কুমার ছিলেন শাসক দলের নয়নের মণি৷ তাঁর ক্যারিয়ার গ্রাফও উঠেছে তরতরিয়ে৷ সব সময়ে তিনি থেকেছেন আলোচনার আবর্তে৷ এহেন আইপিএসের বাড়িতেই সিবিআই অভিযানের চেষ্টা৷ তাঁকে ঘিরেই অন্যমাত্রা পেয়েছে কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত৷

শাসকের চোখে নায়ক হোক, বা বিরোধী নজরের খলনায়ক এখন আইপিএস রাজীব কুমার৷ আপাতত তাঁকে কেন্দ্র করেই জমজমাট জাতীয় রাজনীতি৷ নজরে এই দুধে পুলিশ অফিসারের ভবিষ্যৎ৷ দেখে নেবো রাজীব কুমারের উথ্থানের ইতিবৃত্ত৷

১৯৮৯ সালে পশ্চিম বাংলা ব্যাচের এই আইপিএস বর্তমানে কলকাতার নগরপাল৷ সুরজিৎ কর পুরকায়স্তর জায়গায় দায়িত্বে আসেন তিনি৷ ২০১৬ থেকে তিলোত্তমার নিরাপত্তার নেতৃত্বে রাজীব কুমারই৷

নব্বইয়ের দশকে কয়লা মাফিয়াদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে সিনিয়রদের নজরে পড়েন রাজীব কুমার৷ বামফ্রন্ট সরকারের আমলে বিরোধিদের ফোনে আড়ি পাতার অভিযোগ উঠেছিল৷ সোচ্চার হয়েছিলেন তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ শোনা যায় সেই আড়িপাতা কাণ্ডের নেপথ্যে ছিলেন তরুণ আইপিএস রাজীব কুমার৷ ফলে সেই সময় মমতা ব্যানার্জীর প্রবল সমালোচনায় পরতে হয় তাঁকে৷ তবে প্রশংসিত হয়েছিলেন শাসক শিবিরের তরফে৷ পদোন্নতি হয় তাঁর৷ পুলিশ বিভাগের মধ্যে থেকেই অনেকে এই দাবি করেন৷

২০১১ সালে পালা বদল হয় রাজ্যে৷ ক্ষমতায় আসেন একদা তাঁর বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়া মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার৷ তবে বদলায়নি রাজীব কুমারের গুড বুকে থাকার রেকর্ড৷ ২০১৩ সালে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের গুড বুকে নাম উঠে আসে এই পুলিশ কর্তার৷ বিধাননগরেরপুলিশ কমিশনরেটের কমিশনার করা হয় রাজীব কুমারকে৷

সেই বছর এপ্রিলেই প্রকাশ্যে আসে সারদা চিটফান্ড কেলেঙ্কারি৷ তাঁর নেতৃত্বেই কাশ্মীর থেকে ধরা হয় সারদার মালিক সুদীপ্ত সেনকে৷ রাজ্য সরকার গঠন করে সিট৷ তারও প্রধান করা হয় তৎকালীন বিধাননগরের পুলিশ কমিশনারকে৷ তবে অভিযোগ ওঠে ধীরগতিতে তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার৷ অভিযোগ ছিল সারদায় জড়িত প্রভাবশালী ব্যক্তিদের জড়িত থাকার প্রমাণ ওই সময় লোপাট করা হয়েছে৷ যা হয়েছিল শাসক দলের নির্দেশে রাজীব কুমারের তত্ত্বাবধানে৷ তিনি আরও ঘনিষ্ট হয়ে পড়েন মুখ্যমন্ত্রীর৷ রটনা, তারই পুরষ্কার হিসাবে এই আইপিএসকে করা হয় কলকাতার পুলিশ কমিশনার৷

অপরাধ দমনের ক্ষেত্রে প্রযুক্তিকে কীভাবে সুচারুভাবে ব্যবহার করে কলকাতা পুলিশ৷ তার কৃতীত্ব কমিশনার রাজীব কুমারের বলে দাবি করা হয়৷ তিনি কলকাতা পুলিশের স্পেশ্যাল টাস্ক ফোর্সের প্রধানের দায়িত্বও পালন করেছেন৷ তার হাত ধরেই এই বিভাগ অনেকটা অত্যধুনিক পদ্ধতিতে সাজানো হয়েছে বলে জানা যায়৷
পেশাগত জীবনে বীরভুমের স্পেশাল এসপি, এনফোর্সমেন্ট ব্রাঞ্চ, কলকাতা পুলিশের ডেপুটি কমিশনার সহ সিআইডির একাধিক পদে বিভিন্ন সময় কাজ করেছেন রাজীব কুমার৷ ছাপ রেখেছেন সফলতার৷ তৃণমূল আমলে জঙ্গলমহলে মাওবাদী দমনেও সফলতা পেয়েছেন তিনি৷

এক নজরে রাজীব কুমারের ব্যক্তিগত জীবন…
১৯৬৬ সালে জন্ম ৩১সে জানুয়ারি জন্ম রাজীব কুমারের৷ ইউনিভার্সিটি অফ রুরকি (বর্তমানে ইন্ডিয়ান ইন্সটিটিউট অফ টেকনোলজি) থেকে কম্পিউটার সায়েন্স নিয়ে বিই পাস করেন তিনি৷ পরে ইন্ডিয়া পুলিশ সার্বিস পাষ করে যোগ দেন চাকরিতে৷ বাবা আনন্দ কুমার পেশায় ছিলেন স্কুল মাস্টার৷ স্ত্রী ইন্ডিয়ান রেভিনিউ সার্ভিসে কর্মরত৷ রয়েছে একমাত্র পুক্র সন্তান-ও৷

এহেন রাজীব কুমারই বর্তমানে বিতর্কের কেন্দ্রে৷ সারদা কর্ণধারের লাল ডায়েরি ও পেন ড্রাইভ বাজেয়াপ্ত করেছিল সিট৷ সিবিআইকে কেন তা হস্তান্ত করা হয়নি? প্রশ্নের মুখে রাজীব কুমার৷ তাঁকে নজরে রাখে সিবিআই৷ জল্পনা তৈরি হয় তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারে কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার আধিকারীকরা৷ এই খবরের মধ্যেই গত ৩১শে জানুয়ারি ৫৩ বছর বয়সে পদার্পণ করেন রাজীব কুমার৷ জন্মদিনের ঠিক তিন দিনের মাথায় সিবিআই আধিকারীকরা হানা দেন তার লাউডন স্ট্রিটের বাড়িতে৷ সরব হন মুখ্যমন্ত্রী৷ শুরু হয় কেন্দ্র রাজ্য সংঘাত৷ বিতর্কে কেন্দ্রে থাকা ওই পুলিশ অফিসারের ভবিষ্যৎ কী? নজরে মঙ্গলবারের সুপ্রিম কোর্টের রায়৷