নয়াদিল্লি: লিকার ব্যারন বিজয় মালিয়ার কেস নিয়ে শুনানি রয়েছে ডিসেম্বর মাসের ১০ তারিখ৷ কিন্তু সিবিআই এর স্পেশাল ডিরেক্টর রাকেশ আস্থানাকে জোর করে ছুটিতে পাঠিয়েছে কেন্দ্রীয় সরকার৷ এরপরই তৈরি হয়েছে সমস্যা৷ ওই কেস নিয়ে কে প্রতিনিধিত্ব করবেন সেটি এখনও স্পষ্ট নয়৷

তবে শুধু বিজয় মালিয়ার কেসই নয়৷ এরকম বেশ কিছু কঠিন কেস নিয়েও এই মুহূর্তে বিপাকে দফতর৷ সূত্র মারফত জানা গিয়েছে, অফিসাররা ঝুলে থাকা এই কেসগুলির বিষয়ে কোনও সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন না৷ এই অবস্থায় কেউ কোনও সবকিছুই স্থগিত করে রাখা হয়েছে৷

আরও পড়ুন: চিনের চলচ্চিত্র উৎসবে শ্রেষ্ঠ বিদেশি অভিনেতা অজয় দেবগণ

নাম না বলতে চাওয়া এক সিনিয়র সিবিআই অফিসার জানিয়েছেন “এমন পরিস্থিতিতে বেশিরভাগ অফিসার নতুন কোনও দায়িত্ব নিতে চাইছেন না৷ তাঁরা তাঁরা কোনও কিছুই ফাইলবন্দি করতে চাইছেন না৷ এরফলে প্রচুর কেসের ক্ষেত্রেই সমস্যা তৈরি হচ্ছে৷ “

এদিকে ইন্টারপোল মেহুল চোকসির কেস নিয়ে সিবিআই এর ব্যাখ্যা চেয়ে চলেছে৷ কিন্তু চোকসির বিরুদ্ধে সেই ব্যাখ্যা এখনও পর্যন্ত দেওয়া হয়নি৷ সেই অফিসার জানিয়েছেন “মেহুল চোকসি ভারতের কারাগারের দরিদ্র অবস্থার বিষয়ে জানিয়েছে এবং তার বিরুদ্ধে মামলার কয়েকটি অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷ কিন্তু সিবিআই তার কোনও জবাবই দেয়নি৷”

আরও পড়ুন: পেট থেকে বেরোল মঙ্গলসূত্র চুড়ি ও পেরেক

সিবিআই চোকসির সহযোগী দীপক কুলকার্নির বিষয়েও কিছু করেনি সিবিআই৷ এই ধরনের সংবেদনশীল কেসে সঠিক পদক্ষেপ না করায় তাকে নিজেদের হেফাজতেও নেয়নি সিবিআই৷ মেহুল চোকসি কয়েকদিন আগেই অ্যান্টিগুয়া সরকারের বিরুদ্ধে মামলা করেছিল ভারতের তরফ থেকে প্রত্যর্পণের আবেদনটি পরীক্ষা করে দেখার জন্য৷ মামলাটির ১৪ই নভেম্বর শুনানি হওয়ার কথা৷

সিবিআইয়ের সূত্র জানায়, সিবিআিই বিতর্কের কারণে সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষেত্রে সকলেই ভয়ে রয়েছেন৷ কেউই সিদ্ধান্ত নিতে পারছেন না৷ সিনিয়র থেকে জুনিয়র অফিসার সকলেই ভয়ে রয়েছেন৷ “বেশ কিছু কেসে এর ফলে ভোগান্তি হচ্ছে৷ অনুমোদন মিলছেনা৷” জানিয়েছেন আরেকজন কর্মকর্তা৷

আরও পড়ুন: দলীয় বৈঠকে ভোল পালটে মৌসমের গলায় তৃণমূল বিরোধিতার সুর

মুজফফরপুরের মামলার ক্ষেত্রে, যেখানে সরকারি আবাসনে শিশুদের সঙ্গে যৌন হেনস্থার ঘটনা ঘটেছে সেই কেসের উপরেও এই ঘটনায় প্রভাব পড়েছে৷ ওই কর্মকর্তা বলেন “যদিও সংস্থা কয়েকদিন আগেই ওই আবাসনের কাছ থেকেই একটি মানুষের মাথার খুলি ও বেশকিছু হাড়গোড় উদ্ধার করেছে৷ কিন্তু এখনও পর্যন্ত ফরেনসিক দল ও চিকিৎসকদের দল গিয়ে ওই হাড়গোড় মাথার খুলি পরীক্ষা করে দেখেনি যে ওটি আসলে আবাসন থেকে নিরুদ্দেশ হয়ে যাওয়া সেই মেয়েটির কি না৷ “

প্রতীকী ছবি

কেসের নেওয়াও প্রায় বন্ধ বলা চলে৷ হ্রাস পেয়েছে কেসের রেজিস্ট্রেশন৷ ২২ অক্টোবর থেকে মাত্র সাতটি ছোট কেস ফাইল করা হয়েছে৷ যেখানে আগে প্রতি মাসে কমপক্ষে ৩৬ টি কেস ফাইল করা হত৷

আরও পড়ুন: ক্ষমতাশালীরা নেহরুকে অবজ্ঞা করলেও গণতন্ত্রের স্বার্থে তাঁকে মর্যাদা দেবই : সোনিয়া

কার্যকরী কর্মীদের অভাবই এই ঘটনার ঘটার প্রধান কারণ বলে মনে করা হচ্ছে৷ ডিরেক্টর ও স্পেশাল ডিরেক্টর দুজনকেই ছুটিতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে৷ তিন অ্যাকটিং ডিরেক্টর নাগেশ্বর রাও সহ অ্যাডিশনাল ডিরেক্টরকে সুপ্রিম কোর্টের কোনও নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে৷ “২3 ডিসেম্বরে প্রসিকিউশন পোস্টের পরিচালকের পদ খালি হয়ে যাবে এবং এর আগে আমাদের একজনকে বেছে নিতে হবে৷ প্রক্রিয়াটি শুরু হলেও কার্যকরী প্রধানের অনুপস্থিতিতে প্রভাব পড়েছে৷” এমনটাই জানান ওই অফিসার৷

সম্প্রতি একটি তামাশা চালু হয়েছে সিবিআইকে নিয়ে৷ বলা হচ্ছে সমাধির মাঠে নির্মিত নতুন ভবনে যাওয়ার পর থেকেই সিবিআইয়ের খারাপ সময় শুরু হয়েছে৷ অন্য এক অফিসার জানান “মাত্র একটা কেসের জন্য আমাদের চারজন সিনিয়র সমস্যার মধ্যে পড়েছেন৷” বলা হচ্ছে “এটি শুদ্ধিপূজা৷ কোনও শৈল্পিক জীবনযাত্রা নয়৷ এটাই আমাদের সীমানায় চালু করা প্রয়োজন৷ এখন সিবিআইকে একমাত্র বাঁচাতে পারে ঐশ্বরিক হস্তক্ষেপ৷”

আরও পড়ুন: ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কেস করল CNN