Bangladeshi Journalist

ঢাকা: সরকারের দাবি সাংবাদিক নথি চুরি করেছেন। আর অভিযুক্ত সাংবাদিক ও বাংলাদেশের বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম একে ‘রাষ্ট্রীয় চোখ রাঙানি’ বলে চিহ্নিত করেছে। করোনা সংক্রমণের মাঝে সাংবাদিক বনাম সরকারের যুদ্ধংদেহী পরিস্থিতি। অভিযুক্ত মহিলা সাংবাদিকের জামিন নাকচ হওয়ায় তাঁকে জেলে পাঠানো হলো।

বিবিসি জানাচ্ছে, বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় সংবাদপত্র ‘প্রথম আলো’ তে কর্মরত সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে ঘিরে চরম বিতর্ক চলছে। তাঁর বিরুদ্ধে ‘অফিশিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্ট’ আওতায় মামলা দায়ের করা হয় সোমবার রাতে। মঙ্গলবার আদালত রোজিনা ইসলামের জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে।

সরকারপক্ষের অভিযোগ, সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম রাষ্ট্রীয় নথি চুরি এবং অনুমতি ছাড়া সেই নথির ছবি তুলেছেন। ঢাকার শাহবাগ থানায় তাঁর বিরুদ্ধে ১৮৬০ সালের দণ্ডবিধিতে চুরির অভিযোগ এবং ১৯২৩ সালের অফিসিয়াল সিক্রেটস অ্যাক্টে রাষ্ট্রীয় গোপন নথি সরানো ও অনুমতি না নিয়ে ছবি তোলার অভিযোগে মামলা করা হয়েছে।

বিবিসি আরও জানাচ্ছে সোমবার ঢাকায় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের কার্যালয়ে ঢুকে নথি চুরির চেষ্টা ও মোবাইল ফোনে ছবি তোলার অভিযোগে তাকে পাঁচ ঘণ্টার মতো আটকে রাখা হয়। এই ঘটনার কথা ছড়িয়ে পড়তেই সাংবাদিক মহল ক্ষোভে ফেটে পড়েন। পাল্টা অভিযোগ, মহামারি সময়ে দুর্নীতিতে জড়িতদের খবর ও স্বাস্থ্য মন্ত্রকের বিরুদ্ধে সমালোচনা মূলক সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের বিরুদ্ধে সরকার চোখ রাঙিয়েছে। অভিযুক্ত মহিলা সাংবাদিক বারবার স্বাস্থ্য মন্ত্রকের দুর্নীতি নিয়ে প্রতিবেদন লিখেছেন। সেই কারণে তিনি আলোচিত।

পরিস্থিতি আরও জটিল হয় স্বাস্থ্য মন্ত্রকের ডাকা সাংবাদিক সম্মেলন কক্ষে একযোগে বিভিন্ন পত্রপত্রিকা ও টিভি চ্যানেলের সাংবাদিকদের প্রতিবাদে। সবাই একযোগে সাংবাদিক সম্মেলন বয়কট করেন। স্বাস্থ্য মন্ত্রকের তরফে অনুরোধ করা হলেও কোনও সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে আসেননি। এর জেরে আরও অস্বস্তিতে শেখ হাসিনার সরকার।

জানা গিয়েছে করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির মাঝে স্বাস্থ্য মন্ত্রকে বিভিন্ন দূর্নীতি নিয়ে ওই বহুল প্রচারিত সংবাদপত্রে প্রতিবেদন বের হতে থাকে। তথ্য ও পরিসংখ্যান ভিত্তিক সেই প্রতিবেদনগুলি সরকারের কাছে যথেষ্ট বিব্রতকর। মঙ্গলবার সাংবাদিক রোজিনা ইসলামের জামিন না মঞ্জুর ও জেলে পাঠানোর নির্দেশের পর ক্রমে তেতে উঠছে বাংলাদেশের রাজনীতি।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.