প্রতীকী ছবি

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা : শোকজ এর পরে সরিয়ে দেওয়া হল টালিগঞ্জ থানার ওসি অনুপ কুমার ঘোষকে। তার জায়গায় আসছেন দক্ষিণ বন্দর থানার ওসি সরোজ প্রহরাজ। মাতালদের ধরে থানায় আনার মাসুল দিতে হল পুলিশকে৷

গত রবিবার রাতে থানার ভিতরে ঢুকে পুলিশকে মারধর করে জনতা। ওই রাতে বিষয়টি লালবাজার কে জানানো হয়নি, চাওয়া হয়নি অতিরিক্ত ফোর্স। এমনটাই দাবি লালবাজারের। সেই কারণেই শো-কজ করা হয়েছিল টালিগঞ্জ থানার ওসি অনুপ ঘোষকে৷ তার উত্তরে খুশি নয় লালবাজার। তাই এবার তাকে টালিগঞ্জ থানার ওসির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হল। পাঠানো হলো গোয়েন্দা বিভাগে। তার জায়গায় আসছেন দক্ষিণ বন্দর থানার ওসি সরোজ প্রহরাজকে।

ঘটনার পর গত সোমবার বিকালে টালিগঞ্জ থানায় যান গোয়েন্দা-প্রধান মুরলীধর শর্মা ও ডেপুটি কমিশনার (দক্ষিণ) মিরাজ খালিদ৷ তাঁরা ঘটনার তদন্ত করে কলকাতা পুলিশ কমিশনার অনুজ শর্মাকে একটি প্রাথমিক রিপোর্ট দেন৷ সেই রিপোর্টের ভিত্তিতেই টালিগঞ্জ থানার ওসি অনুপ ঘোষকে প্রথমে শোকজ করা হয় এবং পরে তাকে টালিগঞ্জ থানা থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় ৷ ঘটনার প্রায় ১২ ঘন্টা পরে স্বতঃপ্রনোদিত মামলা শুরু করে লালবাজার৷ অভিযুক্তদের খোঁজে শুরু হয় তল্লাশি৷ দেড় দিন পরে ৭ জনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। ঘটনার সূত্রপাত গত রবিবার রাতে৷

প্রকাশ্যে রাস্তায় মদ্যপান করে চেতলার চার বাসিন্দা৷ টালিগঞ্জ থানার পুলিশ অভিযান চালিয়ে ওই যুবকদের আটক করা হয়৷ তাদেরকে থানায় নিয়ে আসার সময় একজন পালিয়ে যায়৷ পালিয়ে যাওয়া যুবকই এলাকা থেকে আরও অনেককে নিয়ে হাজির হয় থানায়৷ চলে তান্ডব৷ থানার ভিতরে ঢুকে কর্তব্যরত পুলিশকে মারধর করা হয়৷ এখানেই শেষ নয় থানা লক্ষ্য করে ছোড়া হয় ইট পাটকেল৷ সেই তিন জনকে আটক করা হলেও পরে তাদেরকে থানা থেকেই ছেড়ে দেওয়া হয়৷ শহর কলকাতার বুকে আক্রান্ত পুলিশ৷ এই বিষয় বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ জানান, রাজ্যের পুলিশ সাধারণ মানুষকে কি নিরাপত্তা দেবে৷

এবার দেখছি পুলিশকেই নিরাপত্তা দিতে কেন্দ্রীয় বাহিনী লাগবে৷ তবে লালবাজার সূত্রে খবর, হামলাকারীদের রেয়াত করা হবে না৷ ইতিমধ্যেই পুলিশ স্বতঃপ্রনোদিত মামলা শুরু করেছে৷ অভিযুক্তদের খোঁজেও শুরু হয়েছে তল্লাশি৷ খুব তাড়াতাড়িই তাদের গ্রেফতার করা হবে৷ এর আগে ২০১৪ সালে উন্মত্ত জনতা আলিপুর থানায় হামলা চালিয়েছিল৷ সেইবার জনতার হাত থেকে বাঁচতে টেবিলের তলায় পুলিশকে লুকোতেও দেখা গিয়েছিল