ক্যানবেরা: সত্যজিত রায়ের বাদুড় বিভীষিকার রোমাঞ্চকর দুনিয়া বরাবর পাঠককে শিহরণ আবেশে বেঁধে রেখেছে৷ সেই গল্পের রেশ ধরেই যদি ধরে নেওয়া যায় বাদুড় মাত্রই ভয়াবহ তাহলে সব সমস্যার সমাধান হয়৷ তবে এই প্রাণীকে যতই মানুষের প্রতিপক্ষ ভয়ঙ্কর রূপে হাজির করা হয়েছে সাহিত্যে তাকে বাদ দিলে বাস্তবটা অন্যরকম৷ রক্তচোষা বাদুড় অর্থাৎ ড্রাকুলার কথাই ধরুন৷ জগৎ জুড়ে ভয়ঙ্করের প্রতীক৷ তবে এসব কাল্পনিক দুনিয়ার বাইরে বাস্তবের এই প্রাণীরও অসুখ করে৷ আর সেই রোগীদের চিকিৎসার জন্য আস্ত একটা হাসপাতাল রয়েছে৷

দুনিয়ায় একমাত্র বাদুড় হাতপাতাল৷ সে এক চমকে দেওয়ার মতো ব্যাপার৷ কত রকম রোগ, আঘাত নিয়ে বাদুড় আসছে-আউট ডোর, ইনডোর পেশেন্ট, সার্জারি, মেডিসিন বিভাগে হইহই ব্যস্ততা চলছে৷ রোগীকে নিয়ে চিকিৎসকদের গবেষণা, তার ওষুধ দেওয়া সবই হচ্ছে যথা নিয়মে৷ এমনই হাসপাতালটি রয়েছে অস্ট্রেলিয়ায়৷ নাম-Tolga Bat Hospital

একবার উঁকি দেওয়া যাক এই বাদুড় হাসপাতালেরে ভিতরে৷ টোলগা বাদুড় হাসপাতালটি চালু হয় ১৯৯০ সালে৷ নিজেদের সম্পর্কে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে- ‘We are a community group that works for the conservation of bats and their habitat through rescue and landcare work, advocacy, education and research.’ তার মানে বাদুড়দের নিয়ে গবেষণা করা আর তাদের সম্পর্কে জানা৷ অস্ট্রেলিয়ার 134 Carrington Rd, Carrington QLD 4883 এই তার ঠিকানা৷

বিবর্তন ও অস্তিত্বের লড়াই প্রাণী জগতের নিরন্তর প্রক্রিয়া৷ সেই সূত্র মেনে বাদুড়দের দলবলও সামিল হয়েছে৷ ফলে ইকো সিস্টেমের সঙ্গে তার নিবিড় যোগ৷ বিশেষজ্ঞরা দেখেছেন, কতরকম আবহাওয়ার পূর্বাভাষ তারা বুঝতে পারে৷ সেই গবেষণা ধরেই চলছে আরও নিত্য নতুন বিষয় আবিষ্কার৷ তারমানে রক্ত খেকোদের দলবল বলে যারা কুখ্যাত তাদের নিয়েই প্রাণী বিজ্ঞানীরা বিশেষ আগ্রহী৷

আমাদের নজর কিন্তু সেই বাদুড়দের হাসপাতালে৷ ১৯৯০ সালে এই হাসপাতাল-গবেষণাগারটি শুরুর পর মূলত পরজীবী সংক্রমণে ধুঁকতে থাকা বাদুড়দের চিকিৎসা করানোর কাজটি চালু হয়েছিল৷ এর পাশাপাশি দেখা যায়, ইলেকট্রিকের তারে বা উড়ে যাওয়ার সময় কিছুতে ধাক্কা লেগে জখম হওয়া বাদুড়দের সংখ্যাও কম নয়৷ তাদের জন্য খোলা হয় বিশেষ বিভাগ৷ আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে হাসপাতালের বিভাগ৷নিজেদের ওয়েবসাইটে Tolga Bat Hospital জানাচ্ছে, তাদের কর্মীরা বাদুড়দের সুস্থ করেন৷ পরে তাদের আবার জঙ্গলে বা উপযুক্ত পরিবেশে ছেড়ে দেওয়া হয়৷ অন্তত এক হাজারের মতো অসুস্থ বাদুড় উদ্ধার ও তাদের চিকিৎসা করে এই হাসপাতাল৷ বাদ যায়না বাদুড় ছানা। তাদের দুধ খাওয়ানো৷ গরম কাপড়ে মুড়ে রাখার মতো কাজও হয়ে থাকে৷ এছাড়া বাদুড়ের অন্যতম খাদ্য বিভিন্ন ফলের যোগানও থাকে হাসপাতালে৷ ক্রমাগত তাদের উপর লক্ষ রেখে চলেন কর্মী ও বিশেষজ্ঞরা৷ বাদুড়দের আচরণ নিয়ে বিস্তর তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এই হাসপাতালে৷ তা রীতিমতো চমকপ্রদ৷ অন্ধকারে তাদের অতি শক্তিশালী দৃষ্টি শক্তি নিয়েও চলছে গবেষণা৷ হয়ত ভবিষ্যতে এই শক্তি কাজে লাগবে মানুষের৷

ক্রমে ছড়িয়েছে এই বাদুড় হাসপাতালের নাম৷ অস্ট্রেলিয়ায় যাওয়া দর্শকরা সেটা দেখতে যান এখন৷ যেহেতু সন্ধের পরেই বাদুড়দের দলবল সচল হয় তাই এই হাসপাতাল দেখার সুযোগ তখনই৷ তখনই হাতের কাছে নেমে আসে সাহিত্যে শিহরণ জাগানো সেই বাদুড়দের দলবল৷ গুলিগুলি চোখে তারা চেয়ে থাকবে আপনার দিকে৷

আপনি হয়ত জানতেও পারছেন না-ওই দৃষ্টিতে বাদুড় আপনাকে পুরোপুরি জেনে নিচ্ছে৷