টোকিও: অ্যাথলিটদের অভিযোগ, বিভিন্ন দেশের একাধিক স্পোর্টস বডিগুলোর লাগাতার বিরোধীতা। ফলাফল হিসেবে দীর্ঘ টালবাহানার পর স্থগিত রাখা হল ২০২০ টোকিও অলিম্পিক। নোভেল করোনা ভাইরাসের জেরে বিশ্বব্যাপী স্বাস্থ্য সংকট, মানুষের মৃত্যুমিছিলের কারণে এই স্থগিতাদেশ অবশ্যাম্ভাবী ছিলোই। অবশেষে লম্বা চাপান-উতোরের পর তা বাস্তবায়িত হল।

১৯৪৪ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের কারণে শেষবার স্থগিত রাখতে হয়েছিল ‘দ্য গ্রেটেস্ট শো অন আর্থ’। ৭৬ বছর পর বিশ্ব মহামারী করোনা আতঙ্কে চতুর্থবারের জন্য (১৯১৬, ১৯৪০, ১৯৪৪ পর) ফের স্থগিত রাখা হল অলিম্পিক। যা নিঃসন্দেহে স্থান করে নেবে ইতিহাসের পাতায়। মঙ্গলবারই আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির প্রেসিডেন্ট থমাস ব্যাচের সঙ্গে আলোচনা করে টোকিও অলিম্পিক একবছর পিছিয়ে দেওয়ার ব্যাপারে প্রস্তাব দেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে। অবশেষে দিন গড়াতেই বিষয়টিতে শিলমোহর পড়ল।

দীর্ঘ সময় নিলেও অবশেষে আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির সঙ্গে আলোচনা করে আয়োজক দেশের অলিম্পিক স্থগিতাদেশের সিদ্ধান্তে স্বস্তিতে অ্যাথলিটরা। ২৪ জুলাই, ২০২০ শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ২০২১ আগে অলিম্পিক যে অনুষ্ঠিত হবে না, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত করেছে আয়োজক দেশ। তবে চূড়ান্ত দিনক্ষণ নিশ্চিত নয় এখনও। পৃথিবীব্যাপী করোনা উদ্বেগের মধ্যেও শুরুর দিকে অলিম্পিক স্থগিত রাখার বিষয়টিকে বিশেষ পাত্তা দেয়নি আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটি কিংবা আয়োজক দেশ। একাধিকবার বিবৃতি মারফৎ অ্যাথলিটদের প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দিয়ে গেমস যথাসময়ে শুরু হবে বলে জানিয়েছিল তারা।

কিন্তু আইওসি’র কাছে অ্যাথলিটদের একের পর এক অভিযোগ। পৃথিবী জুড়ে বিভিন্ন স্পোর্টস বডিগুলোর বিরোধীতা এবং সর্বোপরি কানাডা ও অস্ট্রেলিয়ার নাম প্রত্যাহারের ঘটনার পর টনক নড়ে আইওসি’র। আলোচনার মাধ্যমে অলিম্পিক পিছিয়ে রাখার দিকটি খোলা রাখে তারা এবং একইসঙ্গে আগামী চার সপ্তাহের মধ্যে এব্যাপারে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণের কথা জানায় তারা।

এরপর আন্তর্জাতিক অলিম্পিক কমিটির দীর্ঘদিনের এক সদস্যের কথায় সোমবারই কার্যত নিশ্চিত হয়ে যায় যে অলিম্পিক পিছোচ্ছেই। মঙ্গলবার ২০২০ টোকিও অলিম্পিক অলিম্পিক স্থগিতাদেশের ঘোষণা হওয়া ছিল কেবল সময়ের অপেক্ষা। অবশেষে ভারতীয় সময় মঙ্গলবার বিকেলে জাপানের প্রধানমন্ত্রী শিনজো আবে এক বিবৃতিতে জানান, ‘বিশে মহামারী করোনার দাপটে ২০২০ অলিম্পিক সম্পূর্ণ মাত্রায় হওয়া কোনওভাবেই সম্ভব নয়।’