কলকাতা: কেটে গিয়েছে দশ দশটা বছর। রাজাকে ছাড়াই চলছিল তাঁর রাজত্ব। একদিন আচমকাই হয় তার আগমন। কিন্তু বদলে গিয়েছে ঠাঁটবাট। কোথায় রাজার সেই বেশ! মাথায় জট। পরনে নেংটি এ যে নাগা সন্ন্যাসী। তার এই রূপ দেশে স্তম্ভিত রাজ্যবাসী। মুক্তি পেল ‘এক যে ছিল রাজা’-এর গান ‘মহারাজ’। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের এই গানটি এখানে গেয়েছেন শাহানা বাজপেয়ী।

ভাওয়াল রাজার জীবন সিনেপর্দায় তুলে ধরছেন সৃজিত মুখোপাধ্যায়। যেখানে রাজার ভূমিকায় রয়েছে যীশু। নায়কের কথায়, “এখন পর্যন্ত তিনি যতগুলি সিনেমা করেছেন তার মধ্যে ‘রাজ যে ছিল রাজা’ সবথেকে ফিজিক্যাল চ্যালেঞ্জিং ছবি ছিল তাঁর কাছে। যেখানে শীতর সকালে গঙ্গায় ড়ুব দেওয়া থেকে, প্রায় খালি গায়ে বরফের দেশে ঘুরে বেড়ানো কি করতে হয়নি তাঁকে।”

আরও পড়ুন: পুজা-দেবের রোম্যান্সে বাধা দিচ্ছে কারা?

আসলে ‘এক যে ছিল রাজা’ ভাওয়াল রাজত্বের কথা বলবে । বলবে এক নারী আসক্ত রাজার সন্ন্যাসী হয়ে ওঠার কাহিনি। এই পর্যন্ত আমরা সকলে জানি। এমনকি পরিচালক নিজেও জানিয়েছেন তাঁর এই ছবি পুরোপুরি ঐতিহাসিক ভিত্তিক।

যদিও ক্যামেরার লেন্স পার হতে গিয়ে লেগেছে কিছুটা রং। যেমন এসেছে নারীবাদ ও স্বাধিনতা সংগ্রামের কাহিনি। কিন্তু এসব ছাড়াও রয়েছে আরও এক গল্প। না সৃজিতের তৈরি করা নয়! ইতিহাসের পাতাতেই ছিল এই কাহিনি। শুধু ছিল আড়ালে। ভাই বোনের ভালবাসার গল্প। যেখানে একদিকে যেমন রয়েছে ভাওয়াল রাজ ও তাঁর বোন। তেমনি অন্যদিকে বিভাবতি দেবী ও তাঁর ভাইয়ের গল্প।

আরও পড়ুন: রাজনন্দিনী কীভাবে হয়ে উঠলেন ভাওয়ালের রানি?

ইতিহাসের দললি বলছে। রাজার সঙ্গে তাঁর মেঝো বোনের সম্পর্ক ছিল নিবিড়। তাই দাদার মৃত্যুর খবর পেয়েও কোনওদিন সে বিশ্বাস করেনি সে কথা। বিভিন্ন জায়গায় খুঁজে ফিরেছে দাদাকে। আর অপেক্ষা করেছে তার ফিরে আসার। তাই সন্ন্যাসীকে ভাওয়াল রাজা প্রমাণ করতে জান-প্রাণ এক করে দিয়েছিল সে। তেমনি নিজের বোন বিভাবতির জন্য কি করেননি তার ভাই! ভাওয়াল সন্ন্যাসীর পাশাপাশি ভাই-বোনের এই ভালবাসার কথা বলবে সৃজিত। ছবিতে মুখ্য ভূমিকায় রয়েছেন যীশু সেনগুপ্ত, জয়া এহসান, রাজনন্দিনী, অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত। ছবির ট্রেলার, টিজার, পোস্টার সাড়া ফেলে দিয়েছে টলিপাড়ায়।