পূজা মন্ডল, কলকাতা: আজ আষাঢ়ী পূর্ণিমা। আপামর বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের কাছে আজকের দিনটা অত্যন্ত আনন্দের। সেই সঙ্গে পুণ্যের। কারণ আজকের দিনেই ভগবান বুদ্ধকে সন্তান রূপে লাভ করার স্বপ্নাদেশ পান মাতা মহামায়া দেবী। তাই এই দিনটিকে স্মরণ করে পূজা-প্রার্থনার আয়োজন করা হল মঙ্গলবার। এদিন শহর কলকাতায় টালিগঞ্জের বৌদ্ধ মঠে পুণ্য়তিথি উপলক্ষ্যে ভগবান বুদ্ধকে স্মরণ করে অহিংসার বাণী প্রচার করলেন বৌদ্ধ সাধুরা।

সেই সঙ্গেই আজকের দিনের মাহাত্ম্য সবিস্তারে kolkata24x7-কে জানালেন টালিগঞ্জ সম্বোধি বৌদ্ধিস্ট মনাস্টেরির প্রধান ড. অরুণজ্যোতি ভিক্ষু মহারাজ। মহারাজ বলেন, আড়াই হাজার বৎসর আগের ঘটনা। কপিলাবস্তু নগরে আষাঢ়ী পূর্ণিমা উপলক্ষ্যে সাড়ম্বরে রাজা শুদ্ধোধনের মহিষী রানি মহামায়া উপোসথ ব্রত অধিষ্ঠান করলেন। সে রাত্রে রানি স্বপ্ন মগ্ন হয়ে দেখলেন তার চারদিকে অধিষ্ঠান করে আছেন দেবগণ। তাঁরা এসে পালঙ্কসহ মহামায়াদেবীকে নিয়ে গেলেন হিমালয়ের পর্বতের উপরে সুবিস্তৃত এক সমতল ভূমিতে। মহামায়াকে সুউচ্চ মহাশাল বৃক্ষতলে রেখে সশ্রদ্ধ ভঙ্গিমায় এক প্রান্তে দাঁড়ালেন।

তারপর তাঁকে তাদের মহিষীগণ এসে হিমালয়ের অনবতপ্ত হৃদে (মানস-সরোবর ) স্নান করিয়ে দিব্য (স্বর্গীয়) বসন ভূষণ ও মাল্যগন্ধে সমলকৃত করলেন। অনতি দূরে শোভা পাচ্ছিল এক রজতপর্বত। সেই পবর্তোপরি ছিল এক সুবর্ণ প্রাসাদ। সেখানে দেবগণ পালঙ্ক সহ দেবীকে সেই প্রাসাদে নিয়ে গিয়ে দিব্যশর্য্যায় শয়ন করালেন। তখন একটি শুভ্রশুন্ড একটি শ্বেতপদ্ম রূপ ধারণ করে অবলীলাক্রমে সুবর্ণ প্রাসাদে প্রবেশ করল। তৎপর ধীরে ধীরে তিন বার মাতৃশয্যা প্রদক্ষিণ করে রাণীর জঠরে প্রবেশ করল।

তবে স্বপ্নে দেখলেও বাস্তবেই ঘটল এই ঘটনা। উত্তরাষাঢ়ী নক্ষত্র যোগে মাতৃকুক্ষিতে প্রতিসিন্ধ গ্রহণ হলেন ভাবী বুদ্ধ বোধিসত্ত্ব। পরদিন প্রত্যুষে দেবী রাজাকে স্বপ্ন বৃত্তান্ত জানালেন। রাজা কাল বিলম্ব না করে চৌষট্টি জন জ্যোতিবিদ এনে স্বপ্নের ফল জানতে চানলেন। বিপ্রগণ বললেন, মহিষী সন্তান সম্ভবা। লাভ করবেন এক দেব দুর্লভ পুত্ররত্ন।

পড়ুন: আষাঢ়ী পূর্ণিমায় জমজমাট বেলুড় মঠ, ভক্তদের উপচে পড়া ভিড়

তাছাড়া আজকের দিনটির একটি অন্য মাহাত্ম্য রয়েছে। সিদ্ধার্থ গৌতমের বয়স তখন ২৯। তখন শুদ্ধোধন কুমার সিদ্ধার্থ গৌতমকে সুন্দরী যশোধরার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করালেন। ফিরে এলো সেই আষাঢ়ী পূর্ণিমা তিথি। এদিনেই সিদ্ধার্থ পিতা-মাতা, স্ত্রী-পুত্র,ভোগ বিলাস,রাজ্য,ধন,সব কিছুকে তুচ্ছ মনে করে মহাভিনিক্রমণ অর্থাৎ সংসার ত্যাগ করলেন।

সিদ্ধার্থ বুদ্ধ মানবকূলে জন্ম নেওয়ার জন্য মাতৃগর্ভে (রাণী মহামায়া) প্রতিসন্ধি গ্রহণ, সিদ্ধার্থের গৃহত্যাগ, সর্বপ্রথম গৌতম বুদ্ধ কর্তৃক ধর্মচক্র প্রবর্তন সূত্র দেশনা বা বৌদ্ধ ধর্মমত প্রচার, প্রাতিহার্য ঋদ্ধি তথা আধ্যাত্মিক শক্তি প্রদর্শন এবং গৌতম বুদ্ধের পরলোকগত মা (রাণী মহামায়া) কে অভিধর্ম দেশনা আজকের দিনেই।তাই এই পূর্ণিমাতেই বৌদ্ধ ভিক্ষু সংঘের ত্রৈমাসিক বর্ষাব্রত বা ওয়া অধিষ্ঠান গ্রহণ করা হয়ে থাকে।