কলকাতা: তথাকথিত বড় দলই কী ছিনিয়ে নিয়ে যাবে শিরোপা? নাকি ইস্টার্ন রেলের পর ৬১ বছর বাদে কলকাতা লিগের খেতাব উঠবে কোনও ছোট দলের মাথায়? নির্ধারণ হয়ে যাবে রবিবাসরীয় বিকেলেই। খাতায়-কলমে বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসব দুর্গাপুজোর বোধন হতে বাকি আর মাত্র পাঁচ দিন। কিন্তু চলতি মরশুমে কলকাতা লিগের দশমী কার্যত রবিবারই। আর দশমীতে খেতাব জয়ের অদূরে দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছে ইস্টবেঙ্গল ও পিয়ারলেস।

ফিরে যাওয়া যাক মাসছ’য়েক আগে। আই লিগের খেতাব নির্ধারণের দিন এমনই এক পরিস্থিতির সম্মুখে দাঁড়িয়ে ছিল আলেজান্দ্রো গার্সিয়ার ইস্টবেঙ্গল। গোকুলামকে হারানোর পাশাপাশি খেতাব জয়ের জন্য সেদিন আপামর লাল-সমর্থকদের চোখ রাখতে হয়েছিল চেন্নাই-মিনার্ভা ম্যাচের দিকে। কারণ ইস্টবেঙ্গলকে আই লিগ জিততে হলে নিজেদের জয়ের পাশাপাশি চেন্নাইকে সেদিন ম্যাচ হারতে হত। ইস্টবেঙ্গল জিতলেও ম্যাচ হারেনি চেন্নাই। মিনার্ভাকে হারিয়ে লাল-হলুদের নাকের ডগা দিয়ে ট্রফি জিতে নিয়ে গিয়েছিল দক্ষিণের ক্লাবটি।

দুর্গাপুজোর আগে শেষ রবিবার কী তেমনই এক হতাশা গ্রাস করবে লাল-হলুদ সমর্থকদের, নাকি লিগ জিতে পুজোর আনন্দ দ্বিগুণ হবে? উত্তর মিলবে কয়েকঘন্টার মধ্যেই। তবে অবনমনের আওতায় থাকা ক্যালকাটা কাস্টমসকে শুধু হারালেই তো চলবে না, পাশাপাশি একইসময়ে অন্য ম্যাচে জর্জ টেলিগ্রাফের বিরুদ্ধে পয়েন্ট নষ্ট করতে হবে পিয়ারলেসকে। কারণ একই ম্যাচ খেলে সমসংখ্যক পয়েন্টে দাঁড়িয়ে থাকলেও গোলপার্থক্য জহর দাসের দলের অনুকূলে (৪+)। অর্থাৎ, পিয়ারলেস পয়েন্ট নষ্ট না করলে সেক্ষেত্রে বিরাট ব্যবধানে জয় ছাড়া গতি নেই লাল-হলুদের।

কিন্তু নির্ণায়ক ম্যাচে আলেজান্দ্রো পাচ্ছেন না চলতি লিগে ধারাবাহিকভাবে গোলের মধ্যে থাকা দলের বিশ্বস্ত সেনানী হাইমে কোলাডোকে। সেক্ষেত্রে আক্রমণভাগে রোনাল্ডো অলিভিয়েরার সঙ্গে শুরু করতে পারেন এসপাদা মার্টিন। গোল নষ্টের কারণে ইতিমধ্যেই যার বেশ নামডাক হয়েছে। পাশাপাশি মাঝমাঠে তনদম্বা সিং’য়েরও সার্ভিস পাচ্ছে না পদ্মাপাড়ের ক্লাব। একইসঙ্গে ৪০তম খেতাবের অদূরে দাঁড়িয়ে মাথায় রাখতে হচ্ছে গোল না হজম করার বিষয়টিও। তবে নির্ণায়ক ম্যাচের আগে এক ভিডিওবার্তায় শনিবার সমর্থকদের প্রতি বার্তা দিয়েছেন দলের হেডস্যার। স্প্যানিয়ার্ডের কথায়, ‘জয়ই প্রাথমিক লক্ষ্য আমাদের। কিন্তু অন্য ম্যাচের দিকে আমাদের তাকিয়ে থাকতে হচ্ছে। তবে আশা করছি খেতাব জিতে সমর্থকদের সঙ্গে আনন্দে মেতে উঠতে পারব।’

অন্যদিকে ইতিহাসের সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে তাল ঠুকছে পিয়ারলেস। কোচ জহর দাস মেগা ম্যাচের আগে রোমাঞ্চিত দলকে এমন জায়গায় পৌঁছে দিতে পেরে। তবে তাঁর কাজ এখনও শেষ হয়নি। পিয়ারলসে কোচের কথায়, মূলত বাঙালি ফুটবলারদের নিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে বঞ্চনার জবাব দিতে চাই। অন্যদিকে দলের মধ্যমনি আনসুমানা ক্রোমা আবার চ্যাম্পিয়ন হলে দলের ফুটবলারদের নিজেই বোনাস দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন। জর্জকে হারালেই মোটামুটি চ্যাম্পিয়ন তারা। কারণ গোলপার্থক্যে অনেকটাই এগিয়ে দল। তাই ইস্টবেঙ্গল ম্যাচের ফলাফলে নজর না রেখে নিজেদের সেরাটা মেলে ধরতে চান এই লাইবেরিয়ান। আর ইতিবাচক সবকিছু বাস্তবায়িত হলে ১৯৫৮ পর তিনপ্রধানের বাইরে গিয়ে কলকাতা লিগ পাবে নতুন চ্যাম্পিয়ন। স্বর্নাক্ষরে লেখা হয়ে থাকবে ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০১৯ দিনটি।

কার্যত অসম্ভব হলেও মোহনবাগান শিবিরেও রয়েছে খাতায়-কলমে লিগ জয়ের ক্ষীণ আশা। পিয়ারলেস-ইস্টবেঙ্গলকে তো হারতে হবেই, নিজেদেরও জিততে হবে বড় ব্যবধানে। কালিঘাটের বিরুদ্ধে শেষ ম্যাচে রবিবার মোহনবাগান পাচ্ছে না মিডিও জোসেবা বেইতিয়াকে। তবে চ্যাম্পিয়নের আশা দূরে রেখে শেষ ম্যাচে জয় দিয়েই লিগ অভিযান শেষ করতে চান বাগানের স্প্যানিশ কোচ কিবু ভিকুনা।