কৃষ্ণনগর: আজ হাঁসখালি যাচ্ছেন যুব তৃণমূল সভাপতি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়৷ নিহত বিধায়ক সত্যজিৎ বিশ্বাসের পরিবারের সঙ্গে দেখা করবেন তিনি৷ সভা করার কথা রয়েছে যে মাঠে সরস্বতী পুজো হয়েছিল সেখানেই৷ এই মাঠেই সরস্বতী পুজোর উদ্বোধনে গিয়ে আততায়ীদের হাতে খুন হন কৃষ্ণগঞ্জের বিধায়ক৷

আরও পড়ুন: উদ্ধার শুভেন্দু ঘনিষ্ঠ তৃণমূল নেতার দেহ

ক্ষমতায় তৃণমূল৷ অথচ দলের বিধায়কেই প্রকাশ্যে হত্যা করা হল৷ আতঙ্কে রাজ্যের শাসক দলের নেতা, মন্ত্রী, বিধায়ক থেকে সাধারণ কর্মী৷ এলাকায় রয়েছে ভয়ের পরিবেশ৷ এই পরিস্থিতিতে রবিবারই নদিয়া জেলার তৃণমূল সভাপতি, সংগঠনে জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত নেতা অনুব্রত মণ্ডলরা গিয়েছিলেন সত্যজিতের বাড়িতে৷ কথা বলেন নিহত বিধায়কের স্ত্রী রূপালী বিশ্বাসের সঙ্গে৷ তাঁর ফোনে কথা হয় মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গেও৷

কিন্তু এতেই পরিস্থিতি যে স্বাভাবিক হওয়ার নয় তা বুঝেছেন তৃণমূল নেতৃত্ব৷ আতঙ্ক এতটাই যে মুখ্যমন্ত্রীর কড়া নির্দেশও সেখানে অকেজ৷ ভয়ের কারণে শাসক দলের মন্ত্রী, বিধায়করা জেলা ছেড়ে চলে আসতে চাইছেন কলকাতায়৷ এই ঘটনা বাস্তবে ঘটলে প্রায় ফাঁকা পড়ে থাকবে সংগঠন৷ দলের নিচের তলার কর্মীদের মনোবল-ও ঠেঁকবে তলানিতে৷ মানুষের কাছে লোকসভার আগে যা অত্যন্ত নেতিবাচক বার্তা হয়ে পৌঁছবে৷ এর সুযোগ নিতে পারে বিরোধী বিজেপি৷ স্বাভাবিকভাবেই আতঙ্কিত জেলা সংগঠনের পদাধিকারীদের আস্থা দিতেই তড়িঘড়ি অভিষেকের এদিনের নদিয়ায় যাওয়া বলে মনে করা হচ্ছে৷

তবে তৃণমূল জেলা সংগঠনের অন্দরে কান পাতলে শোনাল যাচ্ছে অন্য কথা৷ দলের বিধায়কের হত্যা৷ তৃণমূল মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় শক্তিগড় হাসপাতালে গেলেও যাননি নিহতের বাড়িতে৷ তৃণমূল নেত্রীও প্রকাশ্যে কিছু বলেননি৷ কেন চুপ দলের উচ্চ নেতৃত্ব? এই প্রশ্নই এখন ঘুরপাক খাচ্ছে নদিয়ার তৃণমূল কর্মীদের মনে৷ পুঞ্জীতভূত হচ্ছে অসন্তোষ৷ যা ১৯শের ভোটের আগে যা অস্বস্তি বাড়াতে পারে জোড়া-ফুল শিবিরের৷

আরও পড়ুন: প্রত্যেকদিন কংগ্রেসের ধমক খাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী, কর্ণাটকে কটাক্ষ মোদীর

পঞ্চায়েত ভোটে নদিয়ায় পাপড়ি মেলতে শুরু করেছে পদ্ম ফুল৷ গোষ্ঠীদ্বন্দ্বে জীর্ণ তৃণমূলের সংগঠন৷ এই পরিস্থিতিতে বিধায়ক খুনের ঘটনায় সিন্দুরে মেঘ দেখছে রাজ্যের শাসক দল৷ ফলে মনে করা হচ্ছে ড্যামেজ কন্ট্রোলে মমতার দূত হয়ে সোমবরাই হাঁসখালি যাচ্ছেন যুব তৃণমূল সভাপতি৷