স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘ভাসানে হরিবোল!! মাননীয়া আপনি চুলোয় যান!’ রেড রোডে ভাসানের কার্নিভ্যালকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে এমনই মন্তব্য করেছেন এক ছাত্রী৷ আর, তার জেরেই, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ওই ছাত্রীকে ‘সবক’ শেখাতে, তাঁরই বাড়ির কাছে ‘নাগরিক কমিটি’র নামে টাঙানো হল ফ্লেক্স৷ ওই ফ্লেক্সে যেমন ওই ছাত্রীর ছবি এবং পরিচয় দেওয়া হয়েছে৷ তেমনই, ফেসবুকে ওই ছাত্রী এবং অন্যদের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যও তুলে দেওয়া হয়েছে ওই ফ্লেক্সে৷

আরও পড়ুন: মুখ্যমন্ত্রীর দুর্নাম হচ্ছে! তৃণমূল-সংগঠনের নিশানায় স্বাস্থ্য দফতর

কেন? কারণ, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের জন্য ওই ছাত্রীকে ‘ধিক্কার’ জানিয়েছে ওই ‘নাগরিক কমিটি’৷ এমনই বক্তব্য রয়েছে ওই ফ্লেক্সে৷ আর, এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে একদিকে যেমন শুরু হয়েছে রাজনৈতিক তরজা৷ তেমনই, অন্যদিকে আবার প্রশ্নের মুখে নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার-ও৷ ওই ছাত্রী বাম রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত৷ অন্যদিকে, ওই ‘নাগরিক কমিটি’র সদস্যরা যে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন, সেই বিষয়টি যেমন স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন৷ তেমনই, জানিয়েছেন ওই ছাত্রীও৷

আরও পড়ুন: Auto-Crazy যাত্রীর জন্যই চালক জারি রাখে Autocracy

তবে, মত প্রকাশের অধিকার সত্ত্বেও যেভাবে ওই ছাত্রীর ছবি এবং পরিচয় সহ ফ্লেক্স টাঙিয়ে ‘ধিক্কার’ জানিয়েছে ওই ‘নাগরিক কমিটি’, সেই বিষয়ে সচেতন নাগরিক সমাজের বিভিন্ন অংশে দেখা দিয়েছে উদ্বেগ৷ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ অবশ্য এমনই মনে করছে যে, ‘ধিক্কার’ জানানো নয়, আসলে এ ভাবে ওই ছাত্রীকে ‘সবক’ শেখাতে চাইছে ওই ‘নাগরিক কমিটি’র সদস্যরা৷ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম টেক-এর ওই ছাত্রীর নাম রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায়৷ তিনি দমদমের ক্লাইভ হাউস এলাকার বাসিন্দা৷ গত ১৪ অক্টোবর বিকেলে কলকাতার রেড রোডে দুর্গাপুজোর ভাসানের যে কার্নিভ্যালের আয়োজন করেছিল রাজ্য সরকার, সেই বিষয়কে কেন্দ্র করে ফেসবুকে তিনি এমন মন্তব্য করেছিলেন, ‘ভাসানে হরিবোল!! মাননীয়া আপনি চুলোয় যান!’

আরও পড়ুন: ত্রিপুরার যৌনকর্মীদের জন্য স্পনসর চাইছে বাংলার দুর্বার

স্বাভাবিক ভাবেই, তাঁর এমন মন্তব্যকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে অন্য নানা মন্তব্য এবং পাল্টা মন্তব্য-ও করা হয়েছে৷ তবে, রবিবার, ১৬ অক্টোবর তিনি জানতে পারেন, তাঁর ছবি এবং পরিচয় সহ ফেসবুকের ওই সব মন্তব্য ফ্লেক্সে ছাপিয়ে তাঁর-ই বাড়ির কাছে টাঙানো হয়েছে৷ এই বিষয়ে রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ‘‘কারও নাম উল্লেখ করে ফেসবুকে আমি কোনও মন্তব্য করিনি৷ জানি না, মাননীয়া শব্দটি কার কার গায়ে লেগেছে৷ একজন নাগরিক হিসেবে আমি আমার মতামত প্রকাশ করেছি৷ তার জন্য এই ভাবে একটি মেয়ের নামে ছবি সহ ফ্লেক্স দেওয়া হবে? যেহেতু একটি মেয়ের নামে এ ভাবে ছবি সহ ফ্লেক্স দেওয়া হয়েছে, তাই এই বিষয়টি অনেকেই অন্য ভাবে নেবেন৷ কিন্তু, অন্যভাবেও তো আমাকে ধিক্কার জানানো যেত৷ তবে, আমাকে ধিক্কার জানানোর জন্য আমি গর্বিত৷’’

আরও পড়ুন: শান্তির খোঁজে মুখ্যমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিলে যৌনকর্মীদের পুজোর টাকা

শুধুমাত্র তাই নয়৷ এ দিন তিনি বলেন, ‘‘আজ সকালে আমার বাড়িতে এসে হুমকিও দেওয়া হয়েছে৷ তার পরে ওই ফ্লেক্সের বিষয়টি আমি জানতে পারি৷’’ তবে, এই বিষয়টি নিয়ে তিনি যে লড়ে যাবেন, সে কথা জানাতেও তিনি ভোলেননি৷ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘দেড় কোটি টাকা খরচ করে ভাসানের কার্নিভ্যাল করা হয়েছে৷ এই টাকা তো নাগরিকদের করের টাকা৷ অথচ, রাজ্যের অনেক মানুষ খেতে পান না৷ চাকরি নেই৷ কেন একজন নাগরিক হিসেবে মতামত প্রকাশ করতে পারব না?’’ এই বিষয়ে মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর-এর রাজ্য সহ সভাপতি রঞ্জিত শূর বলেন, ‘‘এই ঘটনায় আমরা উদ্বিগ্ন৷ ফেসবুকের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে মারাত্মক প্রবণতা তৈরি হয়েছে৷ অশোভন মন্তব্য না করে কেউ কারও সমালোচনা করতেই পারেন৷ তার জন্য এ ভাবে ফ্লেক্স টাঙানো হবে? আমরা চাইছি, এই বিষয়ে মুখ্যমন্ত্রী হস্তক্ষেপ করুন৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুকে ওই ছাত্রী কোনও খারাপ মন্তব্য করেননি৷ আমরা ওই ছাত্রীর পাশে আছি৷’’ ফেসবুকে ওই ছাত্রীর পাশে থাকার কথা জানিয়েছেন তাঁর বন্ধুরাও৷ তবে, ওই ‘নাগরিক কমিটি’র তরফে অবশ্য কোনও বক্তব্য মেলেনি৷fb-post-02

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের
(০২) সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা
(০৩) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০৪) মুমূর্ষুর প্রাণরক্ষায় ক্যাসুয়ালটি ব্লক চাইছেন ডাক্তাররা
(০৫) সরকারি নির্দেশেই অকেজো মাল্টি-সুপার হাসপাতাল
(০৬) দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ
(০৭) সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

_____________________________________________________________________