স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘নাগরিক কমিটি’র নামে নয়৷ তৃণমূল কংগ্রেস চাইলে, ‘ভাসানে হরিবোল!! মাননীয়া আপনি চুলোয় যান!’-এর বিরুদ্ধে দলের ব্যানারেই ফ্লেক্স টাঙানো হতো!

ফেসবুকে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের এম টেক-এর ছাত্রী রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায়ের ওই মন্তব্যকে কেন্দ্র করে জারি থাকা রাজনৈতিক তরজার মধ্যে এ বার এমনই মন্তব্য করলেন স্থানীয় কাউন্সিলর বাপি মিত্র৷ যদিও, বিতর্ক আরও তীব্র হওয়ায়, সোমবার বিকেলেই তৃণমূল কংগ্রেসের তরফে ওই ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হয়েছে৷ তবে, তার পরেও যেভাবে ওই ছাত্রীর মন্তব্যকে রাজনীতি হিসেবে না দেখার কথা জানিয়ে স্থানীয় কাউন্সিলরই এমন বলেছেন, তার জেরেও আবার আরও তীব্র হচ্ছে রাজনৈতিক তরজা৷ শুধুমাত্র তাই নয়৷ তৃণমূল কংগ্রেসের বিরোধিতা করার জন্যই ওই ফ্লেক্স খোদ ওই ছাত্রীর দলের তরফে টাঙানো হয়েছিল বলেও জানিয়েছেন স্থানীয় কাউন্সিলর৷

আরও পড়ুন: ফেসবুকে হরিবোল!! ছাত্রীকে ‘সবক’ শেখাল তৃণমূলের ‘কমিটি’

গত ১৪ অক্টোবর রাজ্য সরকার আয়োজিত রেড রোডে ভাসানের কার্নিভ্যালকে কেন্দ্র করে ফেসবুকে রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায় এমনই মন্তব্য করেছিলেন যে, ‘ভাসানে হরিবোল!! মাননীয়া আপনি চুলোয় যান!’ ওয়াকিবহাল মহলের বিভিন্ন অংশ এমনই মনে করছে যে, সোশ্যাল মিডিয়ার ওই মন্তব্যের জেরেই, ওই ছাত্রীকে ‘সবক’ শেখাতে তাঁরই বাড়ির কাছে ‘নাগরিক কমিটি’র নামে ফ্লেক্স টাঙিয়েছিল তৃণমূল কংগ্রেস৷ ওই ফ্লেক্সে ওই ছাত্রীর ছবি এবং পরিচয় সহ ফেসবুকে তাঁর এবং অন্যদের মন্তব্য-পাল্টা মন্তব্যও তুলে দেওয়া হয়েছিল৷ কারণ, ওই ফ্লেক্সের বক্তব্য অনুযায়ী, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সম্পর্কে ‘কুরুচিকর’ মন্তব্যের জন্য ওই ছাত্রীকে ‘ধিক্কার’ জানিয়েছিল ওই ‘নাগরিক কমিটি’৷

আরও পড়ুন: সারদাকাণ্ডে এক সাংবাদিকের আত্মহত্যা এবং মিডিয়া

দমদমের ক্লাইভ হাউস এলাকার বাসিন্দা রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায় সোমবার রাতে বলেন, ‘‘আমি জানতে পেরেছি, আজ বিকেলে ওই ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হয়েছে৷’’ তবে, ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হলেও তিনি আতঙ্কে রয়েছেন বলেও জানিয়েছেন৷ কেন? তাঁর কথায়, ‘‘এই ঘটনার পরে এখনও আমি দমদমের বাইরে পা রাখিনি৷ কিন্তু, এর পরে দমদমের বাইরে যেতে হবে৷ ক্যাম্পাসে যেতে হবে৷ আমাকে যে তখন কোন ধরনের ঘটনার সম্মুখীন হতে হবে, সে সব ভেবেই আতঙ্কে রয়েছি৷’’ এমনও জানা গিয়েছে যে, স্থানীয় বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নির্দেশে সোমবার ওই ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হয়েছে৷ এই বিষয়ে ব্রাত্য বসুর বক্তব্য জানার জন্য ফোন করা হয়৷ তবে, তিনি ফোন না ধরায় তাঁর কোনও বক্তব্য মেলেনি৷

আরও পড়ুন: দলবদলের সঙ্গেই বাতিল করতে হবে জনপ্রতিনিধি-পদ

যদিও, এই বিষয়ে সোমবার রাতে স্থানীয় কাউন্সিলর বাপি মিত্র বলেন, ‘‘ওই ফ্লেক্স নিয়ে বিতর্ক দেখা দেওয়ার জন্য আমরা আজ ওই ফ্লেক্স খুলে দিয়েছি৷ এই বিষয়টিকে আমরা রাজনীতি হিসেবে দেখছি না৷ সেই জন্য ব্রাত্য বসুকে জানানো হয়নি৷’’ কিন্তু, মন্ত্রী ব্রাত্য বসুর নির্দেশে ওই ফ্লেক্স খুলে নেওয়া হয়েছে বলে শোনা যাচ্ছে…৷ তিনি বলেন, ‘‘ফ্লেক্সটি খুলে দেওয়ার পরে ব্রাত্য বসুর সঙ্গে কথা হয়েছে৷ তাঁকে জানিয়েছি৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ফেসবুকে কেউ বিরোধিতা করতেই পারেন৷ কিন্তু, ভাষাজ্ঞান থাকা উচিত৷ ফেসবুকে গঙ্গায় চুবিয়ে আনার কথা বলেছেন ওই ছাত্রী৷ এই ধরনের মন্তব্য করা উচিত নয় বলছি না৷ কিন্তু, না লিখলেই ভালো৷’’ এই প্রসঙ্গে রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমি কারও নাম উল্লেখ করিনি৷ ওনাকে বলেছি৷ উনি যে কেউ হতে পারেন৷’’

আরও পড়ুন: সন্তানের পরিচয় জানাতে প্রথমেই আসুক মায়ের নাম!

‘নাগরিক কমিটি’র নামে ওই ফ্লেক্স আপনাদের দলের তরফে দেওয়া হয়েছিল বলে অভিযোগ করা হচ্ছে…৷ বাপি মিত্র বলেন, ‘‘ফেসবুকে কেউ কিছু লিখতেই পারেন৷ তবে, ফেসবুকের বিরোধিতা আমরা ফেসবুকেই করব৷ আমি একশো শতাংশ নিশ্চিত, নিজেদের দলের প্রচারের জন্য তৃণমূল কংগ্রেসের বিরুদ্ধে ওরাই এই ফ্লেক্স টাঙিয়েছিলেন৷ তৃণমূল কংগ্রেস এটা করলে আমরা পার্টির ব্যানারেই করতাম৷’’ কিন্তু, ওই ছাত্রী বলছেন, কে বা কারা ওই ফ্লেক্স টাঙিয়েছিলেন, সেটা খুঁজে বের করা উচিত…৷ তিনি বলেন, ‘‘এত বড় ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে খোঁজ করা সম্ভব নয়৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘ওই ছাত্রীর বাবা-মা-কে জিজ্ঞাসা করলেও বলে দেবেন, প্রচার পাওয়ার জন্য নাগরিক কমিটির নাম করে এই ফ্লেক্স দেওয়া হয়েছিল৷ তবে, এ বিষয়টিকে আমরা রাজনীতি হিসেবে দেখছি না৷ ওই ছাত্রীর বয়স কম৷ নতুন রাজনীতি করছেন৷ ভুল হতেই পারে৷’’ স্থানীয় কাউন্সিলরের এই ধরনের মন্তব্যের প্রেক্ষিতে রাজশ্রী চট্টোপাধ্যায় বলেন, ‘‘আমার শিক্ষাগত একটা অবস্থান রয়েছে৷ তাই, এ ভাবে নিজের প্রচারের জন্য আমার প্রয়োজন পড়ে না৷’’

_____________________________________________________________________

আরও পড়ুন:
(০১) শিক্ষক হওয়ার জন্য চাকরি ছাড়তে হচ্ছে চিকিৎসকদের
(০২) সিলেবাসে চাই ওষুধবিজ্ঞান, পাঠে মগ্ন স্কুল-পড়ুয়ারা
(০৩) ভালো বাসা-র তুলনায় ইলিশ যে বেশি ভালোবাসার!
(০৪) মুমূর্ষুর প্রাণরক্ষায় ক্যাসুয়ালটি ব্লক চাইছেন ডাক্তাররা
(০৫) সরকারি নির্দেশেই অকেজো মাল্টি-সুপার হাসপাতাল
(০৬) ‘চিকিৎসায় উন্নয়নের নামে ভাঁওতা দিচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রী’
(০৭) ‘সারদার সত্যকে ধামাচাপা দিয়েছে মমতার সরকার’

_____________________________________________________________________