হুগলী: একই পরিবারের চার সদস্যের আত্মহত্যার ঘটনায় চাঞ্চল্য ছড়াল হুগলীর চন্ডীতলা থানার জনাইয়ের মালিপাড়াতে। মা-বাবা-দিদি-ভাইয়ের আত্মহত্যার নেপথ্যে পরিবারের সম্মান না অন্য কোনও কারণ রয়েছে, তার উত্তর খুঁজছে পুলিশ।

পুলিশ জানিয়েছে, রবীন পন্ডিত বাড়ির কর্তা। তার স্ত্রী কল্পনা, মেয়ে সুস্মিতা ও ছেলে সুশোভন। তারা সকলেই মালিপাড়ার বাড়িতে থাকতেন। পেশার রাজমিস্ত্রির যোগারে হিসেবে কাজ করতেন রবীন। অভাবের সংসার থাকলেও তাদের মধ্যে কোনও অশান্তি ছিল না। এদিন সকাল থেকে রবীন ও তার পরিবারের কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে ও ঘরের দরজা বন্ধ দেখে প্রতিবেশীদের সন্দেহ হয়। এরপরে তারা রবীনদের ডাকাডাকি করেন। কোন সাড়াশব্দ না পেয়ে বেলা বারোটা নাগাদ প্রতিবেশীরা রবীনের বাড়ির দরজা ভেঙে দেখেন দুটি ঘরে রবীন তার স্ত্রী কল্পনা ও তার ছেলে সুশোভন ও মেয়ে সুস্মিতা গলায় দড়ি দিয়ে ঝুলছে। স্থানীয়রা চন্ডীতলা থানায় খবর দিলে পুলিশ এসে মৃতদেহ নামায়। এরপরে মৃতদেহ পরীক্ষা করতে গিয়ে ছেলে সুশোভনের হাতে পেন দিয়ে লেখা ‘আমরা কেউ মরতে চাইনি। আমাদের মৃত্যুর জন্য আমার পিসির ছেলে রঞ্জিত দায়ী।’

সূত্রের খবর, দিনমজুরের কাজ করলেও ভালো স্বভাবের জন্য সকলের কাছে প্রিয় ছিল রবীন ও তার গোটা পরিবার। পারিবারিক সম্পর্কের জেরে রবীনের বোনের ছেলে রঞ্জনের আসা যাওয়া ছিল তাদের বাড়িতে। মাঝেমাঝেই রঞ্জিত তার মামা রবীনের বাড়িতে আসা যাওয়া করত। সুস্মিতার সঙ্গে সম্পর্ক গাঢ় হয়ে ওঠে রঞ্জনের। বছর খানেক ধরে সেই সম্পর্ক চলতে থাকে। বুধবার মেয়ের সঙ্গে সম্পর্কের কথা জানতে পাড়েন রবীন। সকালবেলাতেই তিনি বাকসার দত্তপাড়াতে রঞ্জনের বাড়িতে গিয়ে তার কাছে সম্পর্কের কথা জানতে চান। রঞ্জিত সব সম্পর্কের কথা অস্বীকার করে তাকে অপমান করে বাড়ি থেকে তাড়িয়ে দেয়। ক্ষোভে দুঃখে অপমান আর হতাশায় ওই দিন দুপুরে বাড়ি ফিরে কান্নায় ভেঙে পড়েন রবীন। এরপরে নিজেদের সম্মান বাঁচাতে আত্মহত্যার পথ বেছে নেয় রবীন তার স্ত্রী ছেলেমেয়েরা। ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়তেই মৃতদের আত্মীয়ের কঠোর শাস্তির দাবি করে গ্রামের লোকজন পুলিশের দ্বারস্থ হয়েছেন। পরে পুলিশ পৌঁছে মৃত রবীন পন্ডিত(৪৫)কল্পনা পন্ডিত(৪০)সুস্মিতা পণ্ডিত(২১) সুশোভন পন্ডিতের(১৭) দেহ উদ্ধার করে৷ গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন অভাবের সংসার হলেও রবীনের পরিবার ভালো ছিল। রঞ্জিত ওদের আত্মীয় হলেও ওদের বিশ্বাস আর ভালোমানুষির সুযোগ নিয়েছে। অভিযুক্তদের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তিরও দাবি উঠেছে৷