স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ডাক্তারিতে ভর্তির জন্য কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া শুরুর আগে রাজ্যের মেধাতালিকা প্রকাশ করতে হবে৷ এবং, রাজ্য কোটার আসনে রাজ্যেরই ছাত্র-ছাত্রীরা যাতে ভর্তি হতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে হবে৷ ছাত্র সংগঠনের তরফে শুক্রবার রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা দেবাশিস ভট্টাচার্যর কাছে এমনই দাবি জানানো হল৷

দিন কয়েক আগে রাজ্যের শিক্ষামন্ত্রী পার্থ চট্টোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছাত্র সংগঠনগুলির বৈঠকেও এই দুই বিষয় উত্থাপন করেছিল এআইডিএসও৷ এ দিন এই ছাত্র সংগঠনের তরফে রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার কাছে এই দুই বিষয়ের উপর স্মারকলিপি পেশ করা হয়৷ বিষয়গুলি বিবেচনা করে দেখা হবে জানিয়েছেন রাজ্যের স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তা৷

এআইডিএসও-র রাজ্য সভাপতি ডাক্তার মৃদুল সরকার জানিয়েছেন, গত বছর রাজ্যের মেধাতালিকা প্রকাশের আগেই ডাক্তারিতে ভর্তির জন্য কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছিল৷ রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীরা বুঝতে পারছিলেন না মেধাতালিকায় তাঁদের অবস্থান কোথায়৷ অথচ, কাউন্সেলিংয়ের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণের জন্য দুই হাজার টাকা জমা দিতে হচ্ছিল৷ এ ভাবে সকলের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার বিষয়টি অবিচারের শামিল৷

একই সঙ্গে এআইডিএসও-র রাজ্য সভাপতি জানিয়েছেন, ডাক্তারিতে রাজ্যের ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য ৮৫ শতাংশ আসন রয়েছে কোটা হিসাবে রয়েছে৷ অথচ, রাজ্যের বাসিন্দা কি না, এই বিষয়টি যাচাইয়ের জন্য তিনটি ক্যাটেগরির মধ্যে ‘বি’ অংশে এমনই রয়েছে, কোনও পড়ুয়ার মা-বাবা অথবা অন্য কেউ এ রাজ্যের বাসিন্দা কিংবা এ রাজ্যের কোনও ঠিকানায় ওই পড়ুয়া থাকেন, এ সবের মধ্যে কোনও একটি প্রমাণ করতে পারলে তিনি রাজ্য কোটার আসনে ভর্তির সুযোগ পেতে পারেন৷

ডাক্তার মৃদুল সরকার বলেন, ‘‘এই বি অংশের মাধ্যমে দুর্নীতির সুযোগ রয়েছে৷ কোনও পড়ুয়া এ রাজ্যের কোনও ঠিকানায় থাকেন, এই বিষয়টি প্রমাণ করা খুব কঠিন নয়৷ রাজ্যের কোটার আসনে ভর্তির জন্য রাজ্যের বাসিন্দার প্রমাণের বিষয়টি যথাযথ ভাবে হওয়া উচিত৷’’ একই সঙ্গে তিনি বলেন, ‘‘সর্ব ভারতীয় স্তরের মেধাতালিকার ভিত্তিতে নয়৷ রাজ্যের জন্য পৃথক মেধাতালিকা প্রকাশের আগে ডাক্তারিতে ভর্তির প্রক্রিয়া যাতে শুরু করা না হয়, তার জন্যেও আমরা স্বাস্থ্য-শিক্ষা অধিকর্তার কাছে আর্জি রেখেছি৷’’