ব্যারাকপুর: ২০১৫সালের পুর ভোটের আতঙ্ক রাজ্যবাসীর মন থেকে গেঁথে রয়েছে বেশ ভালোভাবে। নির্বাচনে লাল সন্ত্রাসের প্রত্যাবর্তনে ভীত বঙ্গবাসী অনেকটাই বিমুখ হয়েছিলেন শাসকদলের প্রতি। এহেন পরিস্থিতিতেও নিজের সৎ ভাবমূর্তি ধরে রাখতে মরিয়া গাড়ুলিয়া পুরসভার ১৪নং ওয়ার্ডের পুরপিতা রবীন দাস।

পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার রবীনবাবু রাজনীতির আঙিনায় পা রেখেছেন গত পুরভোটের সময় থেকেই। নিজের পেশার প্রতি বিরাগভাজন হয়েই কী রাজনীতিতে আসা? এই প্রশ্নে তার পরিষ্কার জবাব, “আমি এখনও পেশায় ইন্টেরিয়র ডিজাইনার। মানুষের জন্য কাজ করতে আর আমার নিজের এলাকার উন্নয়নের অংশীদার হতেই নির্বাচনে দাঁড়িয়েছিলাম। রাজনীতি আমার পেশা নয়।” এই কথাগুলো সব রাজনৈতিক ব্যক্তিরাই বলে থাকেন। এটা নতুন কিছুই নয়। এই বিষয়টিও পরিষ্কার করে বুঝিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের টিকিটে জিতে আসা কাউন্সিলর রবীন দাস। গাড়ুলিয়া পুর এলাকায় পৌরপ্রধান ছাড়া একমাত্র ১৪নং ওয়ার্ডে আলাদা অফিস রয়েছে পুরপিতার জন্য। সাধারণত সকলেই এলাকার পার্টি অফিসেই সব কাজ করেন। তাঁর কথায়, “আমার ওয়ার্ডকে রাজনীতির রঙ থেকে দূরে রাখতে এলাকার মানুষের জন্য আলাদা অফিস করেছি। কারণ অনেকেই আছেন কোনও পার্টি অফিসে বা নিজের বিরোধী দলের পার্টি অফিসে যাওয়া পছন্দ করেননা।”

Kali

তাঁর ওয়ার্ডে একটামাত্র প্রাইমারি স্কুল আছে। সেই স্কুলের পড়ুয়াদের নিয়মিত খাতা প্রদান করে থাকেন বলে দাবি করেছেন পুরপিতা রবীন। এছাড়াও গাড়ুলিয়া পুর এলাকায় রয়েছেন বহু সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষ। তাঁদের একটা বড় অংশ রয়েছে রবীনের ১৪নং ওয়ার্ডে। এলাকার প্রথম মাদ্রাসা স্কুলটিও রবীন দাসের ওয়ার্ডেই স্থাপিত হতে চলেছে পুরপিতার উদ্যোগে। মাদ্রাসার কাজ অনেকটাই হয়ে গিয়েছে এবং বিধানসভা নির্বাচন বিধির গেরোয় সেই কাজ আটকে রয়েছে বলে জানিয়েছেন রবীন দাস। তাঁর দাবি, “পাঁচ বছরে এমন কিছু করব যেটা এলাকায় দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।” খানিক মস্করা করে জানিয়ে দিলেন যে তিনিই হতে চলেছেন এলাকার ‘রবিনহুড’।

Dinesh

 

নিজের ওয়ার্ড এলাকায় পুজো, ইফতার পার্টি কিংবা কচিকাঁচাদের নিয়ে বিচিত্রানুষ্ঠান সবকিছুতেই জড়িয়ে থাকে রবীনের নাম। এই নিয়ে অবশ্য নানান কথা ঘোরাফেরা গাড়ুলিয়ার রাজনীতির অন্দরমহলে। বিরোধীদের কটাক্ষ, “ছাপ্পা ভোটে জিতে ওপরে ওপরে কাজ দেখাচ্ছে। আসলে ধান্দাটাই মূল লক্ষ্য।” ঘাসফুল শিবিরেও আছে পুরসভার কনিষ্ঠ জনপ্রতিনিধিকে নিয়ে টিপ্পনী। যদিও সেসব নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ রবীনবাবু বললেন, “এই বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক। আমি নিজের কাজ নিয়ে থাকতে চায়। অনেকেই জানেনা আমার ওয়ার্ডে অনেক গরীব ঘরের মেয়ের বিয়েতে আমি টাকা দিয়ে সাহায্য করেছি। কিন্তু কাউকে কিচ্ছু জানতে দিইনি।” জনপ্রতিনিধি হিসেবে কাজের নিরিখে পাঁচ বছর পর বিনা বাধায় ফের জেতার বিষয়ে নিশ্চিত ৩৪বছরের রবীন দাস।

mi6il