আগ্রায় গিয়ে অবশ্যই প্রথেম দেখতে হবে তাজহমহল৷ ভালবাসার প্রতীক এই স্মৃতিসৌধের প্রতি রয়েছে যুগ যুগ ধরে দেশ বিদেশের পর্যটকদের আকর্ষণ৷ মুধল সম্রাট শাহজাহান তার প্রিয়তমা পত্নী মমতাজের মৃত্যুর পর তাঁর স্মৃতিতে গড়ে তোলেন বিশ্বের সপ্তম আশ্চর্যের অন্যতম সৌধটিকে৷

পারস্যের শিল্পী ঈশা খাঁ এবং ওস্তাদ আহমেদ লহরীর নেতৃত্বে ২০ হাজার শ্রমিক ২২ বছরের পরিশ্রমের ফলে গড়ে ওঠে এটি৷ খরট হয়েছিল তখন ৪০ লক্ষ টাকা৷ শুক্রবার বাদে প্রতিদিন সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে এবং পূর্ণিমার আগে দুদিন এবং পরের দুদিন রাতে চাঁদের আলোতে তাজমহল দেখতে দেওয়া হয়৷

আরও পড়ুন: বেকারদের জন্য সুখবর, ১০ লক্ষ চাকরির ঘোষণা মুখ্যমন্ত্রীর

আগ্রায় গেল তাজমহলের পাশাপাশি দেখতে হবে তাজমহল থেকে ২ কিমি দূরে অবস্থিত আগ্রাফোর্ট ৷ সম্রাট আকবরের তৈরি এই দুর্গ মোগল স্থাপত্যের নিদর্শন৷ গভীর পরিখা বেষ্ঠিত লাল রঙের বেলে পাথরের দুর্গটি ১৫৬৫ সালে তৈরি ৷

হিন্দু ও মধ্য এশিয় স্থাপত্য শৈলিতে তৈরি এই দুর্গে ঘুরে দেখে নেবেন জাহাঙ্গীরমহল যেখানে এক সময় রাখা থকাত ময়ূর সিংহাসন৷ গেলে দেখতে পাবেন জনগণের অভাব অভিযোগ শোনার জন্য দেওয়ান-ই-আম এবং গণ্যমাণ্যদের সঙ্গে সম্রাটের মিলিত হওয়ার স্থান দেওয়ান-ই-খাস৷

আরও পড়ুন: জাহাজে গ্যালন গ্যালন তেল আসছে চিনে! কেন জানেন?

এছাড়া দেখবেন যোধাবাই মহল, শাহজাহানের দুই মেয়ে জাহানারা এবং রোশনারার মহল শিসমহল, নাগিনা মসজিদ ৷ এই দুর্গে পুত্র ওরঙ্গজেবের বন্দী করে রেখেছিলেন পিতা শাহজাহানকে ৷ সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত খোলা থাকে দুর্গ৷ তাছাড়া সন্ধ্যায় থাকে ইংরেজি এবং হিন্দিতে লাইট অ্যান্ড সাউন্ড৷

সেকেন্দ্রায় রয়েছে সম্রাট আকবরের স্মৃতি সৌধ৷ সম্রাট জীবিত অবস্থায় এই সৌধ নির্মাণের কাজ শুরু করেন যদিও তা শেষ হয় জাহাঙ্গীরের আমলে৷ এখানে চারটি প্রবেশ তোরণ বহন করছে চারটি ভিন্ন ধর্মের সংস্কৃতি৷ যা ধর্মীয় সম্প্রীতির বার্তা বহন করছে৷ চারতলা সৌধের তিনতলা লাল পাথরের কাজ এবং চতুর্থতলায় রয়েছে সাদা পাথরের কাজ৷

আরও পড়ুন: বিকিনি পরে স্মোক করছেন বলেই তিনি Bad Mom!

ফতেপুর সিক্রি হল সম্রাট আকবরের অতীত রাজধানী৷ আগ্রা থেকে প্রায় ৪০ কিমি দূরে অবস্থিত এই স্থানটি ৷ ১৫৭১-৮৫ সালে এখান থেকেই আকবর শাসন পরিচালনা করতেন৷ ইন্দো-ইসলামিক শৈলীতে আকবরের গড়া এই রাজপ্রাসাদে বসত নবরত্ন৷

সেই নবরত্নের অন্যতম বুদ্ধিমান ব্যক্তিটি হলেন বীরবল , তাঁর প্রাসাদও ওখানে অবস্থিত৷ এই ফতেপুর সিক্রির ঢুকতে গোলেই চোখে পড়বে ৫৪ মিটার উচ্চ বুন্দল দরওয়াজা যা বানানো হয়েছিল আকবরের গুজরাত বিজয়ের স্মৃতিতে৷ এদিকে আকবর নিঃসন্তান থাকায় সেখানে সেলিম চিস্তির কাছে আসেন সন্তান কামনায়৷ সেলিম চিস্তির আশীর্বাদে আকবরের রানির গর্ভে জন্ম হয় এক সন্তানের এবং তাঁকে সম্মান জানাতে ওই পুত্রের নাম রাখা হয় সেলিম৷ পাশাপাশি সেখানে শ্বেত পাথরের অপূর্ব কারুকার্যে ভরা সেলিম চিস্তির দরগা নির্মাণ করা হয় ৷

আরও পড়ুন: পাক সেনার হেডকোয়ার্টারে হামলা ভারতের, দেখুন ভিডিও

আকরবের তিন রানি হিন্দু মুসলিম এবং খ্রিষ্টান হওয়ায় তিন রানির তিরকমের মহলা রয়েছে ৷ ফলে সেখানে মন্দির, নমাজ পড়ার জায়গা এবং চার্চের আদল লক্ষ্য করা যায়৷ এখানেই রয়েছে পাঁচমহল হাওয়ামহল ইবাদৎখানা ৷ আকবরের সৃষ্টি সর্ব ধর্ম দিন-ইলাহি প্রবর্তন করা হয়েছিল এই ইবদৎখানায়৷

আরও পড়ুন: মাসুদ আজহার ইস্যুতে ফের ভারতকে ধাক্কা দিল চিন