শেখর দুবে, কলকাতা: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের আগে ও পরে ‘রাম’ নাম নিয়ে রাজ্যে বিতর্ক তৈরি হয়েছে৷ জয় শ্রীরাম স্লোগান শুনে দু’বার কনভয় থেকে নেমে এসে স্লোগান তোলা লোকদের তাড়া করেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ সোশ্যাল মিডিয়া থেকে সংবাদমাধ্যম, মুখ্যমন্ত্রীর এহেন আচরণ নিয়ে আলোচনা চলছে সর্বত্র৷

আগে এ নিয়ে মুখ খুললেও এবার মুখ্যমন্ত্রীর রাম বিতর্ক নিয়ে মুখ খুলতে নারাজ বাংলার বিশ্বহিন্দু পরিষদ৷ হিন্দু সংগঠনটির পূর্বাঞ্চলের প্রধান সচিন্দ্রনাথ সিনহা বলেন, ‘‘রাজ্যে চাকরি, নারী সুরক্ষা, এনআরসির মতো বিষয়গুলি নিয়ে যাতে আলোচনা না হয়ে সে কারনেই উনি রাম নাম নিয়ে পড়েছেন৷’’

সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের ফলে স্পষ্ট রাজ্যে হিন্দু ভোট একত্রিত করে নিজেদের দিকে টানতে সক্ষম হয়েছে বিজেপি৷ মূলত হিন্দু ভোটের কারণেই বাংলার ১৮টি লোকসভায় পদ্ম ফুটতে সুবিধে হয়েছে৷ শেষ কয়েক বছরে বিজেপি হিন্দু দেবতা রামের নামে তোলা স্লোগান ‘জয় শ্রীরাম’কে নিজেদের পক্ষে ব্যবহার করতে পেরেছে৷ বাংলাতেও জয় শ্রীরাম স্লোগানের উত্তর খুঁজে পাননি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ স্বাভাবিকভাবেই জয় শ্রীরাম আসলেই তাঁর কাছে বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে৷

প্রতীকী ছবি

ভোটের আগে চন্দ্রকোনাতে মুখ্যমন্ত্রীকে দেখে কয়েকজন জয় শ্রী রাম স্লোগান দেয়। বেজায় চটে গিয়ে গাড়ি থেকে নেমে যান মমতা। স্লোগান দেওয়া তিন ব্যক্তিকে আটক করে পুলিশ৷ লোকসভা ভোটের পরে এই একই ছবি দেখা গিয়েছে ভাটপাড়া এবং কাঁকিনাড়া এলাকায়। এক্ষেত্রেও গাড়ি থেকে নেমে একই ভঙ্গিমায় ছুটে গিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা৷ ভাটপাড়ার ঘটনায় দশ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল৷ জয় শ্রী রাম বলার ‘অপরাধে’ গ্রেফতার হওয়া নিয়ে হয়েছে তীব্র বিতর্ক। যা নিয়ে চর্চা শুরু হয়েছে জাতীয় রাজনীতিতে৷

জয় শ্রীরাম শুনে মুখ্যমন্ত্রীর আচরণ নিয়ে সচিন্দ্রনাথ বলেন, ‘‘রাজ্যে হিন্দুরা সংখ্যাগুরু৷ রাজ্যের মুখে হিন্দু দেবতার স্লোগান শুনে তেড়ে যাচ্ছেন৷ এরচেয়ে দ্রুততার সঙ্গে যদি উনি এসএসসির চাকরির জন্য যারা আনশন করছেন তাদের কাছে যেতেন তাহলে লোকসভায় এতগুলো সিট হারাতে হত না৷ মানুষ ওঁর চালাকিটা ধরে ফেলেছে৷ এভাবেই জয় শ্রীরাম নিয়ে স্লোগানের বিরোধিতা কর উনি ইচ্ছাকৃতভাবে রাজ্যে সাম্প্রদায়িক শক্তিগুলিকে উৎসাহ দিচ্ছেন৷ হিন্দু ও মুসলিম জনতার মধ্যে বিভেদ তৈরি করছেন৷ এসব না করে রাজ্যের মানুষের উন্নয়নের ব্যাপারে নজর না দিলে ২০২১-এ আরও খারাপ দিন আসছে ওঁর জন্য৷’’