স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: রাজ্যের উন্নয়নের স্বার্থে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিল্লি যাত্রাকে তীব্র কটাক্ষ করলেন লোকসভায় কংগ্রেসের দলনেতা অধীর চৌধুরী৷ তিনি বলেন, উন্নয়ন নিয়ে আলোচনার বিশেষ সময় হল, নীতি আয়োগের বৈঠক কিংবা ডেভলপমেন্ট কাউন্সিল নিয়ে যখন প্রধানমন্ত্রী বৈঠক ডাকেন ৷ কোনও সময়ই উন্নয়ন নিয়ে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী কখনও আলোচনা করেছেন কিনা সেটা আমার জানা নেই৷ কিন্তু হঠাৎ বাধ্য মেয়ের মতো উন্নয়ন নিয়ে আলোচনা করতে ছুটে গেলেন কেন সেটা ভাববার বিষয়৷

অধীর চৌধুরী আরও বলেন, রাজীব কুমারকে গ্রেফতার করা মানে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ফেঁসে যাওয়া৷ প্রাক্তন সিপিকে বাঁচাতে না পারলে মুখ্যমন্ত্রীর ভবিষ্যত ঝরঝরে হয়ে যাবে৷ আর এখন রাজীব কুমারকে বাঁচাতে পারেন একমাত্র মোদী৷ তাই মোদীর কথা দিদির এখন মনে পড়েছে৷ কিন্তু এমনি এমনি তো যাওয়া যায় না৷ একটা কিছু অজুহাত নিয়ে যেতে হবে৷ এটা মোদীর কাছে দিদির আত্মসমর্পন৷

মোদীর সঙ্গে দেখা করতেই আজ অর্থাৎ মঙ্গলবার দিল্লি যাচ্ছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আগামীকাল, বুধবার নয়াদিল্লিতে প্রধামমন্ত্রীর সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের কথা রয়েছে বলে সংবাদসংস্থা পিটিআইকে জানিয়েছেন এক আধিকারিক। কলকাতার প্রাক্তন পুলিশ কমিশনার রাজীব কুমারের নাগাল পেতে যখন মরিয়া সিবিআই, ঠিক সে সময়ই মোদী-মমতা সাক্ষাৎ তাৎপর্যপূর্ণ বলে মত সংশ্লিষ্ট মহলের একাংশের।

উল্লেখ্য, লোকসভা নির্বাচনের সময় থেকে একাধিকবার মোদীর বিরুদ্ধে সরব হয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বাংলায় নির্বাচনী প্রচারে এসে মমতাকেও আক্রমণ করতে ছাড়েননি মোদী। উনিশের নির্বাচনী পরবর্তী সময়েও মোদী বাহিনীর বিরুদ্ধে আক্রমণের ঝাঁঝ কমাননি তৃণমূলনেত্রী। সম্প্রতি এনআরসি ইস্যুতে বিরোধিতা জানিয়ে সোচ্চার হয়েছেন মমতা।

এদিন মঙ্গলবার বেলা পৌনে ২টো নাগাদ বিমানবন্দরে প্রবেশ করেন মুখ্যমন্ত্রী। উপস্থিত সাংবাদিকদের তিনি জানান, ‘রুটিন সফর’-এ দিল্লি যাচ্ছেন তিনি। বিমানবন্দরে তিনি বলেন, ‘আমি তো গোটা বছর কলকাতাতেই থাকি। দিল্লি খুব কম যাই। দিল্লিতে সংসদ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী সবাই রয়েছেন তাই কখনও কখনও রাজ্যের কাজে যেতে হয়। এটা রুটিন কাজ।’ তবে মুখ্যমন্ত্রীর এই দিল্লিযাত্রাকে শুধুমাত্র কংগ্রেসের অধীর চৌধুরী নন, বাম-বিজেপি সব বিরোধীদেরই দাবি, সারদা মামলায় রাজীব কুমারকে বাঁচাতে দিল্লি গিয়েছেন মমতা।