কলকাতা: ফের টাটাকে সিঙ্গুরে ফেরানোর উদ্যোগ শুরু হল৷ কারণ শুক্রবার সেখানকার চাষিদের একাংশের নেওয়া সই করা দাবি পত্র তুলে দেওয়া হল সদ্য জয়ী বিজেপি সাংসদ লকেট চট্টোপাধ্যায়ের হাতে ৷ সাংসদ এই দাবি পত্র প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর মাধ্যমে টাটা গোষ্ঠীর দফতরে পাঠান হবে৷ ওই দাবি পত্রে ১৫৭ জন চাষির সই রয়েছে৷ ভোটে জেতার পর এদিনই প্রথম সিঙ্গুরে যান লকেট চট্টোপাধ্যায়৷ এদিনের কর্মসূচি পুরোপুরি অরাজনৈতিক বলে দাবি করা হয়েছে৷ তাছাড়া বেকারদের চাকরির জন্য অন্যান্য শিল্পপতিদেরও সেখানে আসার আহ্বান জানান সদ্য জয়ী এই সাংসদ৷

বাম জমানায় তৎকালীন টাটা গোষ্ঠীর চেয়ারম্যান রতন টাটা এরাজ্যের সিঙ্গুরে ন্যানো গাড়ির কারখানা গড়তে গেলে স্থানীয় চাষিদের একাংশের বাধার মুখে পড়েন৷ সেই অনিচ্ছুক চাষিদের জমি অধিগ্রহণের বিরোধিতা করা আন্দোলন এমন পর্যায়ে যায় যে গোটা দেশের নজর কাড়ে ৷ আর বাংলার তৎকালীন বিরোধী নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সেই আন্দোলনে চাষিদের পাশে দাঁড়িয়ে রাজ্যে তিনি তাঁর রাজনৈতিক জমিকে আরও সুদৃঢ় করেন৷ বিরোধিতার মুখে পড়ে টাটার ন্যানো প্রকল্প এই রাজ্যের সিঙ্গুর থেকে সরিয়ে গুজরাটের সানন্দে নিয়ে যান৷

টাটাকে সিঙ্গুর থেকে তাড়ানোর কিছুদিনের মধ্যে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিঙ্গুরের জমি আন্দোলনের সুফল পান৷ রাজ্যে পালাবদল হওয়ায় ক্ষমতায় আসেন তিনি৷ তবে তিনিও মুখ্যমন্ত্রী হয়ে অনিচ্ছুক চাষিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি পালনের জন্য চাষিদের জমি ফেরানোয় উদ্যোগী হন৷ কিন্তু তা করতে গেলে টাটাদের সঙ্গে রাজ্য সরকারের বিবাদের জেরে মামলা শুরু হয়৷ বেশ কিছুদিন ধরে আইনি লড়াই চলার পরে অবশেষে সুপ্রিম কোর্ট চাষিদের জমি ফিরিয়ে দেওয়ার নির্দেশ দেয়। তারপর সেই মতো জমি ফেরানোর প্রক্রিয়া শুরু করে রাজ্য সরকার৷

জমি ফিরছে ঠিকই কিন্তু সেটা কেমন জমি সেই প্রশ্নও ওঠে ৷ কারণ ওই জমির উপরে থাকা ন্যানো গাড়ির কারখানার কাঠামো উপড়ে যেটা ফেরত দেওয়া হচ্ছিল সেটা আদৌ চাষযোগ্য রয়েছে তো ?

২০১১ সালে রাজ্যে পালা বদল হয়ে ক্ষমতায় এসেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আর তার আট বছর পরে ২০১৯ সালে লোকসভা ভোটে বিজেপির কাছে বড় ধাক্কা খেতে হল শাসক দলকে ৷ ৪২টি আসনের মধ্যে তৃণমূল পেল ২২টি আর বিজেপি-র ঝুলিতে ১৮টি আসন৷ রাজ্যের শাসক দলকে হতাশ করেছে সিঙ্গুরের মানুষ। উল্টে সেখানে এবার শিল্পের দাবিতে মিছিল হল। এই বিধানসভা কেন্দ্রটি পড়ছে হুগলি লোকসভা কেন্দ্রতে৷ আর ওই কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী লকেট চট্টোপাধ্যায়ের প্রচারের সময় বলেছিলেন আবার জয়ের পরেও জানিয়েছেন, সিঙ্গুরে টাটারা যাতে ফের ওইখানে কারখানা গড়তে আসেন সেই চেষ্টাই করবেন৷ চাষিদের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে এবার তাই লকেককে উদ্যোগ নিতে দেখা গেল৷