নয়াদিল্লিঃ গোটা দেশে লকডাউন। ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত সারা দেশ এমনই স্তব্ধ থাকবে। ঘোষণা করেছেন দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তার পরেও পরিস্থিতি ঠিক হবে কি না তা এখনও কেউ বলতে পারছে না। কারণ ক্রমশ আক্রান্তের সংখ্যা এ দেশে বেড়েই চলেছে। প্রায় ১০০০ ছুঁয়েছে ভারকে আক্রান্তের সংখ্যা আর মৃত্যু হয়েছে ২৫ জনের। আর এই অবস্থায় দরকার ৩৮ মিলিয়ন বা ৩৮০০০০০০টি মাস্ক। দেশেরই এক তদন্তকারী সংস্থা সমীক্ষা এমনই বলছে।

রয়টার্স সূত্রে খবর ৩৮ মিলিয়ন মাস্কের সঙ্গে ৬০ লক্ষ ২০হাজার ব্যক্তিগত প্রতিরোধকারী যন্ত্রেরও প্রয়োজন রয়েছে করোনার মোকাবিলা করতে। এর জন্য প্রায় বেশ কিছু কোম্পানিকে মাস্ক ও প্রতিরোধ করার যন্ত্র প্রস্তুত করতে বলা হয়েছে। আক্রান্তের সংখ্যা যেমন বাড়ছে, তেমনই বাড়ছে মাস্ক ও করোনা প্রতিরোধকারী সামগ্রীর চাহিদা। এমনকী, স্বাস্থ্যকর্মীরাও পর্যাপ্ত পরিমাণে এই সামগ্রীগুলি পাচ্ছেন না বলে জানিয়েছে ওই সমীক্ষা চালানো সংস্থা। ইনভেস্ট ইন্ডিয়া জানাচ্ছে তারা ভেন্টিলেটর, আইসিইউ মনিটর, ও অন্যান্য কিট, মাস্কের জন্য ৭৩০কোম্পানির সঙ্গে যোগাযোগ করেছে।

তার মধ্যে ৩১৯টি কোম্পানি সামগ্রী প্রস্তুত করার জন্য নিশ্চিত করেছে। ইনভেস্ট ইন্ডিয়া জানাচ্ছে, এই মুহূর্তে কোম্পানিগুলির মাত্র ৯০ লক্ষ ১০ হাজার মাস্ক দেওয়ার ক্ষমতা ছিল। আর চিকিৎসা সামগ্রী ও যন্ত্র প্রস্তুত করতে পেরেছে ৮ লক্ষ। কিন্তু ইনভেস্ট ইন্ডিয়া নামক এই সংস্থা সমীক্ষার দ্বারা জানতে পেরেছে এখনও দরকার ৩৮ মিলিয়ন মাস্ক। ভারতের জনসংখ্যা ১৩০ কোটি। তাই এই দেশে করোনা অত্যাধিক মাত্রায় ছড়িয়ে পড়লে বা কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হলে এই দেশের অবস্থা বিপজ্জনক হবে।

সবাইকে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াও বেশ কঠিন হয়ে উঠবে। তাই এই অবস্থাকে এখন থেকেই নিয়ন্ত্রণে রাখতে সারা দেশে লকডাউন ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী। স্বাস্থ্য আধিকারিক লাভ আগরওয়াল জানিয়েছেন, মাস্ক ও চিকিৎসা সামগ্রী সাপ্লাইয়ের জন্য যথাসাধ্য চেষ্টা করছে। কিন্তু সঠিক কোনও নম্বর তিনি বলেননি যে ঠিক কতগুলি সামগ্রীর আয়োজন করছে সরকার।

চিকিৎসকরাও পর্যাপ্ত পরিমাণে চিকিৎসা সামগ্রী না থাকায় বেশ চিন্তিত। বিহারে যেখানে কোভিড ১৯ এর মূল চিকিৎসা হচ্ছে সেখানে সেখানে চিকিৎসকদের সঠিক প্রতিরোধকারী পোশাক নেই। আর সেখানেই পাঁচ জন করোনা ভাইরাসের রোগীর চিকিৎসা চলছে। তাই আতঙ্ক তৈরি হয়েছে, এমনটাই জানিয়েছেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের প্রেসিডেন্ট আর কে রমন।

রবিবার মন কি বাত অনুষ্ঠানে ফের জাতির উদ্দেশে বক্তব্য রেখেছেন মোদী। তিনি বলেছেন সামাজিক দূরত্ব বাড়ুক। কিন্তু পরিচিতের সঙ্গে মানসিক দূরত্ব নয়। কিন্তু যে ভাবে এই করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে ২১ দিন লকডাউনে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসবে নাকি লকডাউনের সময়সীমা আরও বাড়বে তা সময়ই বলতে পারবে।