সুপর্ণা সিনহা রায়, নয়াদিল্লি: ভারতে এই প্রথম কুড়িটি গাড়িতে গ্লাস পেন্টিং করে রেকর্ড গড়লেন স্যান্ড আর্টিস্ট কৌশিক বসু৷ নয়াদিল্লির নয়ডাতে ফিল্ম সিটি সেক্টর ১৬ এর বিরাট হলঘরে। দুপুর থেকে শুরু হয় কাজ। চলবে রাত প্রায় ১০টা পর্যন্ত। যা এক অভিনব প্রয়াস।গাড়ির কাঁচে লেখা হলো “let’s keep calm and recycle on #Lower The Window” আবার কোথাও কৌশিক লিখলেন “let’s spark change, not crackers. Help Delhi #Lower The Window” কুড়িটি গাড়ির কাঁচে করলেন পেইন্টিং৷ দিন দিন বেড়ে চলা দিল্লির পরিবেশ দূষন রোধে এ এক অভিনব পদক্ষেপ৷ প্রতিটি গাড়ির কাঁচে ছিল আলাদা আলাদা মেসেজ।

দিল্লির আকাশ দিনে দুপুরেই কুয়াশায় ঢাকা৷ এ তো কুয়াশা নয়! কলকারখানার ধোঁয়া বাতাসকে দিনের পর দিন করে তুলছে বিষাক্ত৷ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বাতাসে দূষণের মাত্রা ছিল প্রতি কিউবিক মিটারে ২৮৩.৪৩ মাইক্রোগ্রাম৷ এসব নিয়েই চিন্তিত মানুষ৷ চিন্তিত বেশ কিছু সংস্থা৷ পরিবেশবিদদের কপালেও ভাঁজ৷ কিন্তু কী করে কমানো যাবে এই দূষণের মাত্রা? নিজেকেই নিতে হবে অগ্রনী ভূমিকা৷ একজন একজন করে একশো তারপর হাজার তারপর কোটি৷ এভাবেই মানুষকে সচেতন হয়ে উঠতে হবে৷ সেই উদ্দ্যেশ্যকে সামনে রেখেই আজকের এই প্রয়াস। গাড়ির কাঁচে পথে চলতে গিয়েই যে ধুলো পরে তা দিয়েই করা হল পেইন্টিং৷

দীপাবলির আগে এমন সচেতনতা মূলক অনুষ্ঠান করল ভারতীয় সংস্থা টাটা মোটরস৷ ক্যাম্পেনের নাম দেওয়া হয়েছে “#লোয়ার দ্য গ্লাস”৷ দেশের ‘দিল’ দিল্লির এখন এমনই অবস্থা যে বাসিন্দারা খোলা নাকে শ্বাস-প্রশ্বাস নিতে পারছেন না৷ পরতে হচ্ছে মাস্ক৷ নাক মুখ ঢেকে বেরোতে হচ্ছে বাইরে৷ শুধু বাইরে কেন৷ দূষণ কি বেড রুমে ঢুকছেনা? আলবাত ঢুকছে৷ বাড়ির অন্দরমহলও বিষাক্ত করে তুলছে দিন কে দিন৷ সামনেই শীত৷ শীতে ঠাণ্ডার থেকেও বেশি ভোগায় বাতাস ও তার বিষ৷ বেশির ভাগ মানুষকেই হাসাপাতালে ছুটতে হয়৷ পাফ, নেবুলাইজার নিত্য সঙ্গী হয়ে দাঁড়ায় দিল্লিবাসীর৷ ঘণ বিষাক্ত কুয়াশায় ঢেকে থাকে দশ দিক৷ পরিবেশ সচেতনতা বাড়লে তবেই কমতে পারে এই কষ্ট৷ তা বোঝাতেই টাটা গোষ্ঠির এই প্রচার৷ শিল্পি কৌশিকও একমত এতে৷

কয়েকদিন আগেই নিজের গাড়িতেই হঠাৎ ইচ্ছে হল তাঁর ডাস্ট পেন্টিং করার৷ যেমন ইচ্ছা তেমনই কাজ৷ করে ফেললেন গোটা গাড়িতে ধুলোর পেইন্টিং৷ সেটা দেখেই তাঁর ডাক পড়ে দূষণ মোড়া শহর নয়াদিল্লিতে৷ এর আগেও বেশ কিছু জনসচেতনতা মূলক কাজে অংশ নিয়েছেন শিল্পি কৌশিক বসু৷ নয়াদিল্লির পরিবেশ দূষন ও তাঁর আজকের কাজ নিয়ে তিনি জানান, “আমি সবসময়ই জনসচেতনতা মূলক কজের সঙ্গে যুক্ত থাকার চেষ্টা করি। এরকম একটা ভালো কাজ করতে পেরে খুব ভালো লাগছে। এভাবেই একটু একটু করেই মানুষ যদি এগিয়ে আসেন, নিজেরাই ছোটোছোটো কজের মাধ্যমে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার চেষ্টা করেন তাহলেই আমরা অনেকটা এগোতে পারব। নয়াদিল্লি দূষণমুক্ত হয়ে উঠুক তাড়াতাড়ি। এটাই চাই।”

ইতিমধ্যেই লেখিকা তসলিমা নাসরিনও তাঁর শোসাল নেটওয়ার্কিং সাইট ফেসবুকের পেজে মাস্ক পরা ছবি দিয়ে বুঝিয়েছেন দিন দিন দিল্লির বাতাসে দূষণের মাত্রা এতটাই বেড়েছে যা নিয়ে তৈরি হচ্ছে শঙ্কা৷ তিনি প্রশ্ন রেখেছেন মাস্ক পরেও কি ফুসফুস দুটো বাঁচানো সম্ভব? তারই উত্তর দেবে সময় মানুষ ও সচেতনতার হার৷ তবে কৌশিকের আজকের শিল্পকর্ম দেশের মাটিতে নজির গড়ল৷

এর আগে কখনও দেশের মাটিতে এমন অভিনব জনসচেতনতা মূলক প্রচারে একসঙ্গে এতো গুলি গাড়ির কাঁচ রঙ করা হয়নি। এই প্রয়াস শুধু দেশের রেকর্ড হয়েই থেকে না গিয়ে ইতিবাচক ভূমিকা পালন করবে এই আশাতেই অপেক্ষার দিন গোনা শুরু করলেন শো দেখতে আসা দর্শক, শিল্পী কৌশিক বসু, অর্গানাইজার টাটা মোটরস ও গোটা দেশের মানুষ