কলকাতা: চাহিদার তুলনায় কয়লা উৎপাদন কম হচ্ছে ফলে প্রয়োজন হচ্ছে আমদানির৷ গত বছরেই দরকার হয়েছে প্রায় ২০ কোটি টন কয়লা আমদানি৷ এবার বিভিন্ন রাষ্ট্রায়ত্ত ও বেসরকারি সংস্থাকে পুনর্বন্টন করা কয়লা ব্লকগুলি থেকে যাতে উৎপাদন দ্রুত শুরু করা যায় সে জন্য মাইনস্ অ্যান্ড মিনারেলস্ (ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রেগুলেশন) আইন সংশোধনের কথা ভাবছে কেন্দ্র।

সম্প্রতি কলকাতায় এক আলোচনাসভায় এমনটাই জানিয়েছেন, কেন্দ্রীয় কয়লা সচিব সুমন্ত চৌধুরী। তা ছাড়া, খনি থেকে কয়লা তোলার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি অনুমোদন সহজে পাওয়া যায় তার জন্য কেন্দ্রীয় কয়লা মন্ত্রক একটি এক-জানালা ব্যবস্থা চালু করতে চাইছে।

তাঁর বক্তব্য,বর্তমানে খনি বণ্টন হওয়ার পর বিভিন্ন ধরনের অনুমতি লাগে কেন্দ্রের কাছ থেকে এবং মাইনিং পরিকল্পনা জমা দিতে হয়। কেন্দ্র সেই মাইনিং পরিকল্পনা অনুমোদন করার পর খনি বণ্টন করা হয় সংশ্লিষ্ট সংস্থাকে, তখন সেই সংস্থা জমি লিজ নেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারের কাছে আবেদন করে।

এর পরে রাজ্য সরকার ফের মাইনিং পরিকল্পনার আগাম অনুমোদন চেয়ে কেন্দ্রের কাছে পাঠায় ৷ এই পদ্ধতিতে অহেতুক অতিরিক্ত ৭-৮ মাস দেরি হয়ে যায়৷ কেন্দ্রের কাছে রাজ্যকে যাতে আগাম অনুমোদন না নিতে হয়, তা নিশ্চিত করতে সংসদের আগামী অধিবেশনে সংশোধনী বিল নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

এদিকে কেন্দ্র আপাতত ৪৬টি কয়লা ব্লক নিলাম ও বণ্টন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এর মধ্যে ৩০টি ব্লক বেসরকারি ক্ষেত্রকে এবং ১৬টি কেন্দ্রীয় ও রাজ্য সরকারের রাষ্ট্রায়ত্ত বিভিন্ন সংস্থার কাছে দেওয়া হবে। যারা এই ব্লকগুলি পাবে তারা উৎপাদিত কয়লার ২৫ শতাংশ বাজারে বেচতে পারবে। তা ইতিমধ্যেই কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভা অনুমোদন করেছে। কয়লা সচিবের বক্তব্য, নিলামে অংশ নেওয়াতে আরও বেশি সংস্থাকে আগ্রহী করতেই এমন ব্যবস্থা৷ এই পথে খনি মালিকদের আয়ও বাড়বে বলে মনে করেছেন তিনি৷