স্টাফ রিপোর্টার, বর্ধমান: শনিবার বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের দূরশিক্ষা বিভাগের অডিটোরিয়ামে মেডিয়েশন সংক্রান্ত এক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়। এদিনের সভায় উপস্থিত ছিলেন, কলকাতা হাইকোর্টের দুই বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি ও মধুমতি মিত্র।

হাইকোর্টের অরিজিনাল সাইডের রেজিস্ট্রার অনির্বাণ দাস, বর্ধমান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. নিমাই চন্দ্র সাহা, বর্ধমানের অতিরিক্ত জেলা শাসক (সাধারণ) অরিন্দম নিয়োগী, অতিরিক্ত পুলিস সুপার প্রিয়ব্রত রায় সহ জেলা প্রশাসনের কর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সেখানে বক্তব্য রেখে বিচারপতি শহিদুল্লাহ মুন্সি, বর্তমান সময়ে মেডিয়েশন বা মধ্যস্থতার মাধ্যমে মামলার নিষ্পত্তির উপর বিশেষ গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, আদালতে মামলার পাহাড় জমে রয়েছে। মানুষ দ্রুত বিচার পাচ্ছেন না। মানুষের কাছে এখনও দ্রুত বিচার পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়নি। এর পিছনে নানা কারণ রয়েছে। প্রতিদিন মানুষ মামলা করছেন। প্রতিবছর মামলার সংখ্যা বাড়ছে। দেশে জনসংখ্যার তুলনায় বিচারকের সংখ্যা অনেক কম। পর্যাপ্ত বিচারক না থাকায় বিচারে বিলম্ব হচ্ছে।

এরপরই তিনি কলকাতা হাইকোর্টের উদাহরণ টেনে আনেন। বিচারপতি বলেন, কলকাতা হাইকোর্টে ৮০ জন বিচারপতি থাকা উচিত। কিন্তু, সেখানে এখন ৪১ জনকে নিয়ে কাজ চলছে। ফলে, হাইকোর্টে মামলা ঝুলে থাকছে। মানুষের কাছে দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে বিচার ব্যবস্থায় পরিবর্তন জরুরি। সে কথা মাথায় রেখেই

মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তির কথা ভাবা হয়েছে। দেওয়ানি কার্যবিধির সেকশন ৮৯ চালু করা হয়েছে। মানুষের কাছে দ্রুত বিচার পৌঁছে দিতে এই পরিবর্তন আনা হয়েছে। সেখানে বিকল্প ব্যবস্থায় বিরোধের নিষ্পত্তির উপর জোর দেওয়া হয়েছে। বিচারপতি ও বিচারকদেরও মেডিয়েশন নিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।

এটা এমন একটা ব্যবস্থা যেখানে আলোচনার মাধ্যমে বিরোধের দ্রুত নিষ্পত্তি করা সম্ভব। মধ্যস্থতার মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তিতে সাধারণ মানুষের হয়রানি অনেক কমবে। খরচও কমবে। এতে আদালতের উপরও চাপ অনেকটাই কমবে। বিচারপতি মধুমতি মিত্র মেডিয়েশনের মাধ্যমে কিভাবে মানুষের কাছে দ্রুত বিচারকে পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হবে তার বিস্তারিত ব্যাখ্যা করেন।