সৌপ্তিক বন্দ্যোপাধ্যায় : ‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে’। এবার ভোটে জিততে বিজেপি’র অস্ত্র হতে চলেছে শ্রীকৃষ্ণও। রাম মন্দির, রাম জন্মভূমি, জয় শ্রীরাম এসবই বিজেপির ইউএসপি। এই তালিকায় নয়া সংযোজন শ্রীকৃষ্ণও। হাওড়ায় বিজেপির দেওয়াল লিখন যেন তারই প্রমাণ। কৃষ্ণ কৃষ্ণ স্লোগানটি আবার তৃণমূলের স্লোগান থেকে ধার করা বলে অভিযোগ।

‘কৃষ্ণ কৃষ্ণ হরে হরে, বিজেপি এবার ঘরে ঘরে’ মধ্য হাওড়ায় লোকসভা ভোটের প্রচারে এটাই এবারে পদ্ম ব্রিগেডের স্লোগান। এই একই স্লোগান ব্যবহার হয়েছে তৃণমূলের ক্ষেত্রেও। সেটিও দেখা গিয়েছে মধ্য হাওড়াতেই।

তৃণমূলের স্লোগান , “হরে কৃষ্ণ হরে হরে, তৃণমূল ঘরে ঘরে।” একই স্লোগান একটু খালি ওলট পালট। স্লোগান নিয়ে হাওড়া তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষে জানানো হয়েছে, এই স্লোগান তাদের। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময়েই এই স্লোগান তারা বানিয়েছিল, সেটাই এখন বিজেপি উলটে পালটে ব্যবহার করছে বলে দাবি।’ তৃণমূল এও জানাচ্ছে যে , ‘বিজেপির বাংলায় স্লোগান তৈরির মতো ক্ষমতা নেই। তাই তারা এর ওর থেকে ধার নিয়ে কাজ চালাচ্ছে।”

প্রসঙ্গত বিজেপির এই ধার করা স্লোগান থেকে গান বানিয়ে নেওয়া নিয়ে এখনও বিতর্ক চলছে। বিতর্কে জড়িয়েছেন আসানসোলে বিজেপির সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়।

‘এই তৃণমূল আর না’ লাইন শোনা গিয়েছিল বামেদের এক ছাত্র নেত্রীর স্লোগানে। হুবহু সেখান থেকে নিয়েই বিজেপির বাংলায় থিম সং তৈরি হয়। বামেরা তাদের স্লোগান টুকলির অভিযোগ জানানোর পাশাপাশি ওই গানের বিরুদ্ধে নির্বাচন বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ করেছিল তৃণমূল কংগ্রেস। এরপর ওই গান গাইতে বা ব্যবহার করতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে নির্বাচন কমিশন। যদি সেই নিষেধাজ্ঞাকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে বহু জায়গাতেই এই গান ব্যবহার করার খবর মিলেছে। এসবের মাঝেই নয়া বিতর্ক যেন উসকে দিয়েছে ‘কৃষ্ণ’ কাণ্ড।

বিজেপির হাওড়ার প্রার্থী রন্তিদেব সেনগুপ্ত এই প্রসঙ্গে বলেছেন , “আমি ঠিক জানি না কোথায় এটা ব্যবহার করা হয়েছে তবে এটা বলতে পারি যে , এখন এর স্লোগান ও নিচ্ছে , ওর স্লোগান সে নিচ্ছে এমন হয়। এটা নিয়ে বিতর্কের কিছু আছে বলে আমি মনে করি না। নিতেই পারে।”