কলকাতা: নেই পর্যাপ্ত উপস্থিতি৷ তাও আবদার বসতে দিতে হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায়৷ শুক্রবার এই দাবিতেই আন্দোলনে সামিল হয় হেরম্বচন্দ্র কলেজের বি কম প্রথম বর্ষের পড়ুয়াদের একাংশ৷ এবার আন্দোলনকারী পড়ুয়াদের হয়ে শিক্ষামন্ত্রীর কাছে সওয়াল করলেন তৃণমূল ছাত্র পরিষদের সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য৷ তাঁর দাবি, ‘এবারের মতো বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম শিথিল করা হোক৷’ শিক্ষমন্ত্রী অবশ্য স্পষ্ট জানিয়ে দেন, ‘‘আন্দোলনকারীদের দাবি অনৈতিক৷ প্রশাসনকে বলেছি কড়া হাতে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে৷’’ তবে নিজের দলের ছাত্র সংগঠনের সভাপতির বক্তব্য নিয়ে এদিন কিছু বলেননি তিনি৷

প্রথমে বেহালা কলেজ৷ পর্যাপ্ত উপস্থিতির অভাবে কলেজের বহু পড়ুয়াতেই বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বসার অনুমতি দেয়নি কর্তৃপক্ষ৷ প্রতিবাদে সরব হয় পড়ুয়ারা৷ আন্দোলনকারীদের নিশানায় ছিল কলেজের ছাত্র সংসদ৷ পড়ুয়াদের একাংশ অভিযোগ করে কম উপস্থিতি যাদের তাদের থেকে টাকা নিয়ে উপস্থিতির হার বাড়ানো হবে বলে অন্যায়বাবে অর্থ সংগ্রহ করছে ছাত্র সংসদ৷ বেহালা কলেজের ছাত্র সংসদ টিএমসিপির দখলে৷ এরপর পদক্ষেপ করে প্রশাসন৷

আরও পড়ুন: “ভগবান করুন রাহুলের কাছ থেকে হিন্দুত্ব শিখতে না হয়”

কিন্তু ব্যাধি দূর হয়নি৷ উপস্থিতির হার ৬০ শতাংশ না হওয়া সত্ত্বেও পরীক্ষায় বসার দাবিতে বিক্ষোভ শুরু হয় হেরম্বচন্দ্র ও শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজে৷ এক্ষেত্রেও অভিযোগ ছিল টিএমসিপি পরিচালিত ছাত্র পরিষদের বিরুদ্ধে৷
শনিবার হেরম্বচন্দ্র কলেজের অধ্যক্ষার সঙ্গে আলোচনা করেন শিক্ষামন্ত্রী৷ হেরম্বচন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষের তরফে জানানো হয় ৬০ এর বদলে যাদের উপস্থিতি ৫৫ শতাংশ রয়েছে তারাও বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষায় বসতে পারবে৷

এই বৈঠকের আগেই শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে দেখা করেন টিএমসিপি সভাপতি তৃণাঙ্কুর ভট্টাচার্য৷ সেখানেই মন্ত্রীকেল নিয়ম শিথিলের আবেদন করেন তিনি৷ প্রশ্ন উঠছে কেন হঠাৎ আইন ভাঙার মতো অন্যায় দাবিতে সরব শাসক দলের ছাত্র শাখার সভাপতি?

মনে করা হচ্ছে, কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের যেসব কলেজে উপস্থিতি নিয়ে গণ্ডগোল সেই সব কলেজের ছাত্র সংসদ তৃণমূল ছাত্র পরিষদের দখলে৷ সাধারণ পড়ুয়াদের অভিযোগের তীর-ও তাদের দিকেই৷ ফলে নিয়ম কড়া হলে বিরূপ প্রভাব হপরতে পারে সংগঠনে৷ অভিযোগের কাটা ছেঁড়া হলে উঠে আসবে বেশ কয়েকজন ছাত্র নেতার নাম৷ ফলে নিয়ম শিথিল করেই আপাতত পাড় পেতে মরিয়া শাসক দলের ছাত্র পরিষদ সভাপতি৷

আরও পড়ুন: রথযাত্রা ইস্যু: দেওয়াল নিয়ে কাড়াকাড়ি বিজেপি-তৃণমূলে

প্রশ্ন উঠছে হেরম্বচন্দ্র কলেজ কর্তৃপক্ষই বা কেন উপস্থিতির হার ৬০ থেকে কমিয়ে ৫৫ শতাংশ করল পরীক্ষায় বসাতে দেওয়ার জন্য৷ এই সিদ্ধান্তের পিছনে কী তাহলে কোনও চাপ কাজ করছে? সব দেখে বিরোধীদের কটাক্ষ, মমতাদেবীর আপন দেশে আইনকানুন সর্বনেশে৷

এদিনও সন্ধ্যায় কলেজ কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামে হেরম্বচন্দ্র ও শিবনাথ শাস্ত্রী কলেজের পড়ুয়ারা৷ গোলপার্ক মোড় অবরোধ করে রাখেন তারা৷ নাকাল হচে হয় যাত্রীদের৷ পরে পুলিশি হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়৷