তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়াঃ নাগরিকত্ব সংশোধনী আইনের প্রতিবাদে দেশজুড়ে আগুন জ্বলছে। অসম, ত্রিপুরা সহ বিভিন্ন রাজ্যে চলছে প্রতিবাদ-বিক্ষোভ। বাংলায় একের পর এক বিজেপি নেতা দল ছাড়ছে। এই অবস্থায় দলবদলের ধারা অব্যাহত বাঁকুড়াতেও।

তবে এবার বিজেপি ছেড়ে নয়, তৃণমূলের ছাত্র সংগঠন টিএমসিপি ছেড়ে বিজেপির ছাত্র সংগঠন এবিভিপিতে যোগ দিলেন প্রচুর কর্মী সমর্থক। জানা গিয়েছে, জেলার বেলিয়াতোড় ও বড়জোড়া কলেজ থেকে প্রায় ১২ জন টিএমসিপি কর্মী এবিভিপিতে যোগ দিলেন। শনিবার বাঁকুড়া শহরের বড়কালীতলা সংলগ্ন এবিভিপি কার্যালয়ে এসে তারা এই সংগঠনে যোগ দেন।

এবিভিপি সূত্রে দাবী করা হয়েছে ‘দুর্নীতিমুক্ত কলেজ ক্যাম্পাস’ তৈরীর লক্ষ্যে সাধারণ ছাত্র ছাত্রীরা তাদের পতাকাতলে আসছেন। এদিন ওই দুই কলেজ থেকে ১২ জন সদস্য টিএমসিপি ছেড়ে তাদের সংগঠনে যোগ দিয়েছেন বলে তাদের দাবী। এবিভিপি স্বনুপ পাত্র বলেন, তাদের সংগঠন একটা নির্দিষ্ট আদর্শ নিয়ে চলে। শাসক দলের অনুগামী ছাত্র সংগঠনটি সাধারণ ছাত্র ছাত্রীদের উপর ‘আঘাত’ হানছে দাবী করে ‘দুর্নীতি’র অভিযোগ তোলেন। এদিন বেলিয়াতোড় ও বড়জোড়া কলেজ থেকে ‘প্রায় ১২ জন’ ছাত্র ছাত্রী টিএমসিপি ছেড়ে তাদের সংগঠনে যোগ দিয়েছেন বলে তিনি দাবী করেন।

টিএমসিপি ছেড়ে এবিভিপিতে নাম লেখানো বড়জোড়া কলেজের পার্থ মণ্ডল রাজ্য জুড়ে টিএমসিপি ‘সন্ত্রাসের আবহ’ তৈরী করে রেখেছে দাবী করে বলেন, বহিরাগত গুণ্ডা এনে কলেজে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরী করার চেষ্টা হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে তাদের মতো আরও অনেক ছাত্র ছাত্রী এবিভিপিতে যোগ দেবে বলে তিনি জানান। টিএমসিপির তরফে এবিভিপির দাবী অস্বীকার করা হয়েছে। সংগঠনের পক্ষে তীর্থঙ্কর কুণ্ডুর দাবী, যাদের কথা বলা হচ্ছে তাদের কেউ ঐ দুই কলেজে টিএমসিপির সঙ্গে যুক্ত নয়। যারা ভুল বুঝে এবিভিপি বা এসএফআই তে নাম লিখেয়েছিল তারা আবারো টিএমসিপিতে ফিরে আসছে। কেউ কেউ নিজেদের ‘ওজন বাড়াতে’ টিএমসিপি-র নাম নিচ্ছে। এর দায়বদ্ধতা তাদের সংগঠনের নয় বলেই তিনি দাবী করেন।