কলকাতা: এনআরসির প্রতিবাদে মঙ্গলবার পথে নামল কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের তৃণমূল ছাত্র পরিষদ। এদিন দুপুরবেলা বিশ্ববিদ্যালয় প্রাঙ্গন থেকে তৃণমূল ছাত্রপরিষদের পক্ষ থেকে একটি শান্তিপূর্ণ মিছিলের আয়োজন করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শুরু হওয়া ওই মিছিল শেষ হয় কলেজ স্ট্রিটের বাটার মোড়ে। মিছিলে অংশগ্রহণ করেছিল ছাত্রনেতা মণিশঙ্কর মণ্ডল, রাজা মেহেতি, সৌরভ হালদার, রনি ঘোষ এবং অভিরূপ চক্রবর্তী প্রমুখ। মিছিল এগিয়ে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে যোগ দেয় সাধারণ মানুষ।

মিছিল শেষে কলেজ স্ট্রিটের বাটার মোড়ে একটি সভার আয়োজন করে তৃণমূল ছাত্রপরিষদ। এদিনের সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তৈরি সিএএ আইনের কড়া সমালোচনা করেন মনিশঙ্কর মণ্ডল। তিনি বলেন, ”সিএএ হল দেশের সার্বভৌমত্ব বিনষ্টকারী আইন। নিজের দেশেই আজ হিন্দু নাগরিকদের শরনার্থী তকমা দেওয়া হচ্ছে। তাঁদের ভুল বোঝানো হচ্ছে। শুধু তাই নয়, মুসলিমদের অনুপ্রবেশকারী বলে তাঁদের দেশ থেকে বিতাড়িত করে দেওয়ার চক্রান্ত চলছে।

ধর্ম নিয়ে এই ছেলে খেলা বন্ধ হোক। মণিশঙ্কর বাবুর কথা, “ধর্মের নামে, চেয়ারের লোভে নেহেরু যে ভাবে দেশকে ভাগ করে হিন্দুস্থান-পাকিস্তান বানিয়েছিল, ঠিক সেই ভাবেই নরেন্দ্র মোদী এবং আসাদুদ্দিন ওয়াইসি ষড়যন্ত্র করে দেশকে ভাঙতে চাইছে। এর প্রতিবাদে এবং এই ষড়যন্ত্রের রুখতে আমাদের এই আন্দোলন চলছে এবং চলবে।”

দেশ জুড়ে এখন প্রতিবাদ। প্রতিনাদের আঁচ বাংলাতেও। ইতিমধ্যেই পথে নেমেছেন তৃণমূল সিপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। সোমবারের পর মঙ্গলবারও নাগরিকত্ব আইনের প্রতিবাদে পথে নামেন মমতা। দুপুর ১২ টা ৪৫ নাগাদ যাদবপুরে পৌঁছান তিনি। বেলা ১ টা নাগাদ শপথ নিয়ে পথে নামে তৃণমূল। মিছিল শুরুর আগে তিনি মনে করে দেন ‘ধর্ম আপনার আপনার, দেশ সবার’।

মিছিল শুরুর আগে দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে শপথ নেয় তৃণমূল কংগ্রেসের নেতা কর্মীরা। “আমাদের শপথ আমারা সবাই নাগরিক। কাউকে বাংলা ছাড়া হতে দেব না। শান্তিতে থাকুন। নিশ্চিন্তে থাকুন। বাংলায় এনআরসি, ক্যাব হতে দিচ্ছি না, দেব না। বাংলায় নাগরিকত্ব সংশোধন আইন হবে না।” এই শপথ নেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও তাঁর দলের নেতাকর্মীরা।

পপ্রশ্ন অনেক: চতুর্থ পর্ব

বর্ণ বৈষম্য নিয়ে যে প্রশ্ন, তার সমাধান কী শুধুই মাঝে মাঝে কিছু প্রতিবাদ