নিউজডেস্ক, কলকাতা: রাজ্যের বিশেষ পর্যবেক্ষক বলেছেন, আজকের পশ্চিমবঙ্গের অবস্থা ১০-১৫ বছর আগের বিহারের মত। তাঁর এই মন্তব্যের জন্য এবার কমিশনকে চিঠি দিল তৃণমূল। চিঠি দিয়ে অজয় নায়েকের অপসারণের দাবি জানিয়েছে তৃণমূল।

দশ বছর আগের বিহারের মতো পশ্চিমবঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতি বলে মন্তব্য করেছেন রাজ্যে নির্বাচন কমিশনের বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক। তারপরই কমিশনকে চিঠি দিয়েছে তৃণমূল। কমিশনকে পাঠানো চিঠিতে তৃণমূল লিখেছে, দশ বছর আগে বিহারের সঙ্গে বাংলাকে তুলনা করে মন্তব্য করেছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক অজয় নায়েক। তাঁর মন্তব্য সম্পূর্ণভাবে আপত্তিকর।

চিঠিতে তৃণমূলের দাবি, দ্বিতীয় দফায় বিক্ষিপ্ত কয়েকটি ঘটনা ছাড়া ভোট শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তার দুদিন পর পর্যবেক্ষকের এমন প্রতিক্রিয়া গণতন্ত্রের পক্ষে অনভিপ্রেত ও আপত্তিকর। দুটি জেলায় মাত্র একটি বুথে পুনর্নির্বাচন হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

অজয় নায়েকের উপস্থিতিতে নিরপেক্ষভাবে ভোটগ্রহণ সম্ভব নয় বলে মনে করে তৃণমূল। চিঠিতে তারা লিখেছে, শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন ভোটদানের পথে ভয়ের পরিবেশ তৈরি করছেন বিশেষ পর্যবেক্ষক। আরএসএস ও বিজেপির সঙ্গে তাঁর রাজনৈতিক যোগ রয়েছে। তাদের মুখপাত্র হয়েই তিনি কাজ করছেন বলে দাবি তৃণমূলের।

শনিবার অজয় নায়েক বলেন, ”১০ বছর আগে বিহারে যে অবস্থা ছিল, বাংলায় এখন সেরকমই অবস্থা। বিহারের মানুষ ও রাজনৈতিক দল বুঝে গিয়েছে যে, মারপিট করে নির্বাচন হয় না। কিন্তু, পশ্চিমবঙ্গে সেটা এখনও কেউ বোঝেনি। বিহার যা পেরেছে, পশ্চিমবঙ্গ তা আজও পারেনি।”

তিনি আরও বলেন যে, রাজ্যের মানুষের পুলিশের উপর কোনও আস্থা নেই। তাই তারা প্রত্যেক বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী চাইছে। সেজন্যই তৃতীয় দফায় রাজ্যে ৯২ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে বিহারে বিশেষ পর্যবেক্ষক ছিলেন তিনি। চলতি সপ্তাহে পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে নির্বাচন কমিশন থেকে। রাজ্যের নির্বাচন নিয়ে একগুচ্ছ অভিযোগ জমা পড়ার পরই তাঁকে দায়িত্ব দেওয়া হয়।

অজয় নায়েক বলেন, “এই মুহূর্তে কেন্দ্রীয় বাহিনী ছাড়া নির্বাচন সম্ভব নয় ।” নির্বাচন কমিশন নিযুক্ত বিশেষ পর্যবেক্ষকের বক্তব্য, “বিহারের ২০ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকছে। আর সেখানে বাংলার ৯২ শতাংশ বুথে কেন্দ্রীয় বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের জন্য ভালো নয়।”