স্টাফ রিপোর্টার, বাঁকুড়া: সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচনের দলীয় প্রার্থী ঘোষণার পর পরই বাঁকুড়ার জঙ্গলমহলের ‘আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক’ ফিরে পেতে দেওয়াল লিখনকেই হাতিয়ার করলো শাসক তৃণমূল। জঙ্গলমহলের আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি জেলাপরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মুর হাত দিয়ে সাঁওতালী ভাষায়, অলচিকি হরফে নির্বাচনী প্রচারে দেওয়াল লিখনের কাজ শুরু হলো।

সভাধিপতির উপস্থিতিতে শাসক শিবিরের দেওয়াল লিখনকে কেন্দ্র করে সারেঙ্গার কালাপাথর, বেলাটিকরি গ্রামে উৎসবের চেহারা নিয়েছে। একদিকে যখন সভাধিপতি, তৃণমূল নেতা মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মুর নেতৃত্বে অলচিকি হরফে সাঁওতালী ভাষায় একের পর এক দেওয়াল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়ের নাম আর জোড়া ফুল চিহ্নে সেজে উঠছে, অন্যদিকে তখন আদিবাসী পুরুষ-মহিলারা নিজস্ব ধারার নাচ ও গানে মেতে উঠেছেন।

‘লালদূর্গ’ হিসেবে পরিচিত এই জঙ্গলমহল এক সময় অশান্তির চরম সীমায় পৌঁছে গিয়েছিল। মাওবাদি আর যৌথ বাহিনীর গুলির লড়াইয়ে তটস্থ থাকতেন এখানকার মানুষ। জরুরী প্রয়োজনেও বাইরে বেরোতে সাহস পেতেননা এখানকার। মাওবাদীদের হাতে খুন আর সন্ত্রাসের স্বর্গ রাজ্য হয়ে উঠেছিল শান্ত নিরীহ জঙ্গলমহল। ২০১১ পরবর্ত্তী সময়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত ধরে এলাকায় শান্তি নেমে এসেছে। ছন্দে ফিরিছে জঙ্গলমহল।

তারই কৃতজ্ঞতা স্বরুপ জঙ্গলমহলের মানুষ ২০১৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনে এখানকার মানুষ তৃণমূলের হাতে তিন তিনটি বিধানসভাকেন্দ্র তুলে দিয়েছিলেন। কিন্তু ২০১৮ সালের পঞ্চায়েত ভোটে ঘাস ফুল শিবির থেকে অনেকটাই মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন জঙ্গলমহলের মানুষ। সারেঙ্গার বিক্রমপুর, রাইপুরের মণ্ডলকুলী ও ঢেকো, সিমলাপালের দুবরাজপুর, বিক্রমপুর, পার্শ্বলা গ্রাম পঞ্চায়েত হাতছাড়া হয় তাদের। এর মধ্যে সারেঙ্গার একটি, রাইপুরের দু’টি ও সিমলাপালের একটি গ্রাম পঞ্চায়েতে বোর্ড গঠন বিজেপি।

এই পরিস্থিতিতে আসন্ন লোকসভা ভোটে ‘আদিবাসী ভোট ব্যাঙ্ক’ ফিরে পেতে মরিয়া শাসক শিবির। সেকারণেই জঙ্গলমহলের আদিবাসী গ্রাম গুলিতে সাঁওতালী ভাষা আর অলচিকি হরফে দলীয় প্রার্থীর সমর্থনে দেওয়াল লেখার কাজ তৃণমূলের পক্ষ থেকে করা হচ্ছে বলে জেলা রাজনৈতিক মহলের একাংশের ধারণা।

আরও পড়ুন : প্রচারের গান: বাবুল সুপ্রিয়র বিরুদ্ধে এফআইআর

তৃণমূলের এই উদ্যোগে খুশি জঙ্গল মহলের আদিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষও। তারা জানিয়েছেন এখন ছোটো বড় সবার জন্যই অলচিকিতে পড়াশুনার সুযোগ তৈরী হয়েছে। একই সঙ্গে জঙ্গলমহলে পরিকাঠামোগত ব্যাপক উন্নয়ন হয়েছে স্বীকার করে গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, রাস্তাঘাট, পানীয় জল, স্বাস্থ্য, শিক্ষার উন্নতির পাশাপাশি এখন আর ভয় আর আতঙ্ককে সঙ্গী করে কাটাতে হয়না। এখন নিজের মতো থাকা যায়। যা বিগত ২০১১ পূর্ববর্ত্তী কয়েক বছরে ভাবাই যেত না।

স্থানীয় বাসিন্দা বাসন্তী কিস্কু বলেন, একটা সময় তো আমরা সাহস করে বাজারে পর্যন্ত যেতে পারতাম না। এখন অবস্থার পরিবর্তন হয়েছে। এরফলে তারা যথেষ্ট আনন্দিত বলেই তিনি জানিয়েছেন।

দেওয়াল লেখার ফাঁকে তৃণমূল কর্মীরা বলেন, প্রাথমিক স্তর থেকে কলেজ এখন অলচিকা শিক্ষার সুযোগ তৈরী হয়েছে। সেকারণেই গ্রামের শিশু থেকে বৃদ্ধ সকলেই আমাদের দেওয়াল পড়তে পারবেন। তা ঠিক কি লিখলেন? এই প্রতিবেদকের প্রশ্নের উত্তরে তারা বলেন, রাজ্য সরকারের স্বাস্থ্য সাথী, সবুজ সাথী, খাদ্যসাথী, সবুজশ্রী প্রকল্পের কথাই লেখা হয়েছে।

দেওয়াল লিখনে তুলে ধরা হয়েছে মা, মাটি, মানুষের সরকারের সৌজন্যে এই ক’বছরের জঙ্গল মহলের আদিবাসী মানুষের সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নতির কথা৷ একই সঙ্গে বাঁকুড়া লোকসভা কেন্দ্রে তৃণমূল প্রার্থী সুব্রত মুখোপাধ্যায়কে বিপুল ভোটে জেতানোর আবেদন সাঁওতালী ভাষায় আর অলচিকি হরফে গ্রামের দেওয়ালে দেওয়ালে লেখা হচ্ছে বলে তারা জানান।

জঙ্গল মহলের আদিবাসী সমাজের প্রতিনিধি তৃণমূল নেতা ও জেলা পরিষদের সভাধিপতি মৃত্যুঞ্জয় মুর্ম্মু পূর্বতন বামফ্রন্ট সরকারকে আক্রমণ করে বলেন, আগে নিত্যদিন বনধ, হরতাল, অবরোধ লেগেই থাকতো। মাওবাদীদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতেন এখানকার মানুষ। এখন জঙ্গল মহলের মানুষ নিশ্চিন্ত আর নিরাপদ জীবন যাপন করতে পারছেন। তাই এখানকার মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে তৃণমূল প্রার্থীর সমর্থনে প্রচারে ঝাঁপিয়ে পড়েছেন।

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।