স্টাফ রিপোর্টার, তমলুক: টান টান উত্তেজনার সঙ্গে শেষ হয়েছে সপ্তদশ লোকসভা নির্বাচন৷ গত সাত দফার ভোটে বাংলার আমজনতা দেখেছে নিরীহ মানুষের প্রাণের বলি৷ দেখেছে বোমাবাজি থেকে সংর্ঘষের ঘটনা৷ একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি হয়েছে উপনির্বাচনেও৷ তাই এই সব কাটিয়ে মানুষ এখন ২৩ মে অর্থাৎ ভোটের ফলাফলের দিকে তাকিয়ে রয়েছে৷ গোটা দেশের পাশাপাশি বাংলার মানুষ তাকিয়ে দেশের রায়ের দিকে। ক্ষমতার মসনদে মোদী না অন্য কেউ? নজর আগামী বৃহস্পতিবারের দিকে।

কিন্তু এর আগেই এক্সিট পোলের আভাস কার্যত ঘুম উবিয়ে দিয়েছে মোদী বিরোধীদের। বুথ ফেরত সমীক্ষা বলছে, সংখ্যাগরিষ্ঠের আসনেরও বেশি পেয়ে ফের দিল্লির মসনদে বসছেন মোদীই। শুধু তাই নয়, বাংলাতেও তৃণমূল থেকে ধাক্কা দিয়ে সর্বনিম্ন ১৬টা আর সর্বোচ্চ ২৩টি আসন বিজেপি পেতে পারে বলে পূর্বাভাস বুথ ফেরত সমীক্ষায়। আর তাতেই প্রবল চাপের মুখে বিজেপি বিরোধীরা। ইভিএমের কারচুপির আশঙ্কায় কখনও বৈঠকে তো আবার কখনও নির্বাচন কমিশনে ছুটছেন বিরোধীরা।

ইতিমধ্যে এই এক্সিট পোলকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছেন তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। পাশাপাশি ইভিএমে মোদী-অমিত শাহেরা কারচুপি করতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁর। আর সেজন্যে কর্মীদের রাতের অন্ধকারে স্ট্রং রুমগুলিতে নজরদারি চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

আর সেই নির্দেশ মতো পূর্ব মেদিনীপুর জেলার দুটি লোকসভা তমলুক ও কাঁথি গণনা কেন্দ্রে কড়া নজরদারির মধ্যে রেখেছে তৃণমূল নেতৃত্ব। কাঁথি লোকসভা কেন্দ্রে ভোট গণনা হবে কাঁথি পিকে কলেজে এবং তমলুক লোকসভার ভোট গণনা হবে কেটিপিপি হাই স্কুলে। দুটি ভোট গণনা কেন্দ্রে সরকারিভাবে কড়া পুলিশ পাহারার পাশাপাশি রয়েছে তৃণমূলের নেতৃত্বরাও৷ গেটের সামনে নজরদারি চালাতে দেখা গিয়েছে তৃণমূল নেতা-কর্মীদের।

এবারের লোকসভা নির্বাচনে বিজেপির স্লোগান ছিল ‘চৌকিদার’৷ প্রধানমন্ত্রী মোদী থেকে বিজেপির সমস্ত প্রার্থী, নেতা-কর্মীরা নিজেদের নামের সামনে ‘চৌকিদার’ লিখে কার্যত প্রচার সেরেছে। যদিও বিরোধীরা বিশেষ করে রাহুল-মমতা বিজেপির এই চৌকিদার স্লোগানকে কটাক্ষ করতে ছাড়েননি। প্রত্যেক প্রচারে গিয়ে জনগনের উদ্দেশ্যে ছুঁড়ে দিয়েছেন চৌকিদার…আর সবাই চিৎকার করে উঠেছে চোর বলে। কিন্তু সমীক্ষা বলছে সেই ‘চৌকিদারে’র উপর ভরসা রেখেছে দেশবাসী। আর তাতেই আশঙ্কা তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের।

আশঙ্কা, বিজেপি কেন্দ্রীবাহিনীকে কাজে লাগিয়ে ইভিএম মেশিনে কোন কারচুপি করতে পারে। আর তা যাতে না পারে সে জন্যে সমস্ত ভোট গণনা কেন্দ্রে কড়া নজরদারির মধ্যে থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তৃণমূলের সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। আর সেই মতোই স্ট্রং রুমের বাইরের প্রহরায় কর্মীদের দেখা যাচ্ছে।