মহিষাদল; বছর ঘুরলেই বাংলায় বিধানসভা নির্বাচন। আর সেই নির্বাচনের আগে সংগঠনকে মজবুত করতে মাঠে নেমেছে। ভোট কৌশলি প্রশান্ত কিশোরের হাত ধরে একের পর এক বিজেপির শক্ত ঘাঁটিতে থাবা বসাচ্ছে তৃণমূল কংগ্রেস। ইতিমধ্যে একাধিক হেবিওয়েট বিজেপি নেতৃত্বকে ঘরে তুলেছে শাসকদল।

সেই তালিকায় রয়েছে এক বিধায়কও। কার্যত গোষ্ঠী কোন্দলে ল্যাজে গোবরে বিজেপি। আর সেই পরিস্থিতিকেই কাজে লাগাচ্ছে শাসকদল। যদিও গত কয়েকদিন আগেই মুকুল রায়কে পাশে রেখেই বাংলায় বিজেপি সরকার গড়বে বলে ডাক দিয়েছেন কেন্দ্রীয় পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়।

এরপরেই ফের একবার চাঙ্গা বিজেপি শিবির। চাঙ্গা মুকুল রায়ও। এবার তৃণমূলকে পালটা চাপ বিজেপির। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় দল ভাঙতে শুরু করল বিজেপি। মহিষাদলে শাসকদল এবং বিরোধি শিবিরে বড়সড় ধস নামাল বিজেপি। আজ মঙ্গলবার মহিষাদল বিধানসভা এলাকায় অন্তগত অমৃতবেড়িয়য়া ১১১ বুথে সি.পি.আই(এম) এর নিরাপদ দাস ও তূনমূল কংগ্রেসের বুথ সভাপতি ধনঞ্জয় দাদ সহ ৫৩ টি পরিবারের ১৫০ জন মানুষ বিজেপিতে যোগ দিলেন।

ভারতীয় জনতা পার্টির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুন নায়েক ও সহ সভাপতি তপন বন্দ্যোপাধ্যায়ের হাত থেকে ভারতীয় জনতা পার্টির পতাকা গ্রহণ করেন। শাসকদল এবং বিরোধী শিবির থেকে আসা বিজেপিতে প্রাথমিক সদস্য গ্রহণ করলেন।

আগামীদিনে দলকে শক্তিশালী করার জন্য সকল স্তরের মানুষদের সাথে নিয়ে শাসকদলের বিরুদ্ধে লড়াই জারি থাকবে বলে জানান ভারতীয় জনতা পার্টির তমলুক সাংগঠনিক জেলার সভাপতি নবারুন নায়েক। শুধু তাই নয়, আগামিদিনে আরও মানুষ বিজেপিতে যোগ দেবেন বলে আশা স্থানীয় বিজেপি নেতৃত্বদের।

বিধানসভা নির্বাচনের আগে বাংলা জুড়ে বিজেপির ‘আমার পরিবার-বিজেপি পরিবার’ কর্মসূচি চলছে। সেই কর্মসূচি অনুযায়ী দল ভাঙছে বিজেপি। শাসকদলের পালটা বাংলার বিভিন্ন জায়গায় দল ভাঙছে বিজেপি। শাসকদল ছাড়াও, কংগ্রেস-সিপিএমেও থাবা বসিয়েছে বিজেপি।

প্রসঙ্গত, বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ নয়, মুকুল রায়ের উপরই বাংলা দখলের ভরসা রেখেছেন বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা তথা দলের পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যবেক্ষক কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। গত শুক্রবার মেয়ো রোডে ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ মঞ্চ থেকে বিজয়বর্গীয় বলেন, “মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে মুখ্যমন্ত্রী করেছিলেন মুকুল রায়। মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও তাঁকে সরাবেন মুকুল রায়ই।”

বাঙালির ভাবাবেগ বুঝে চলা দক্ষ রাজনৈতিক ব্যক্তি মুকুল রায়। তৃণমূলে তাঁকে চাণক্য বলা হত। বিজেপিতে গিয়ে সেই মর্যাদা খুইয়েছিলেন মুকুল। এতদিন পর বিজেপিতেই তাঁকে চাণক্যের মর্যাদা দিলেন কৈলাশ বিজয়বর্গীয়। এদিন তিনি বললেন, ‘মুকুল রায় তৃণমূল কংগ্রেস ছাড়তেই তাঁর বিরুদ্ধে ৫০টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুলে গেলে চলবে না তিনি বাংলার রাজনীতির চাণক্য। মমতাকে মুখ্যমন্ত্রী তিনি বানিয়েছেন। মুকুল রায়ই মুখ্যমন্ত্রীর পদ থেকেও মমতাকে সরাবেন।”

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে কৈলাস বিজয়বর্গীয় এই বক্তব্যের যথেষ্ট তাৎপর্য রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনের বৈতরণী পার করার জন্য মুকুল রায়ের ওপরই যে নির্ভর করছে দল, বিজয়বর্গীয়র এ দিনের বক্তব্যই তার ইঙ্গিত স্পষ্ট বলে মত বিশ্লেষকদের।

আর যেখানে দলের রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ যখন নিজে বলছেন, একুশে বিজেপিকে ক্ষমতায় আনতে তিনি একাই যথেষ্ট, তখন কৈলাশের একথা ধারে-ভারে অনেকটাই বলে মত বিশ্লেষকদের।

স্বামীর সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বস্ত্র ব্যবসাকে অন্যমাত্রা দিয়েছেন।'প্রশ্ন অনেকে'-এ মুখোমুখি দশভূজা স্বর্ণালী কাঞ্জিলাল I