স্টাফ রিপোর্টার, খড়গপুর: এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়ে গিয়েছে মানুষ। যার ফল ভোট বাক্সে পড়েছে৷ উপনির্বাচনে খড়গপুর সদর আসনটি জেতার পর এই মন্তব্য করলেন তৃণমূল কংগ্রেসের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায়৷

তৃণমূলের প্রতিষ্ঠার পর থেকে কালিয়াগঞ্জ ও খড়্গপুর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গিয়েছে। কালিয়াগঞ্জে প্রাথমিক ভোটগণনায় এগিয়ে ছিলেন বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু ক্রমশ পিছিয়ে পড়েন তিনি। চূড়ান্ত গণনায় ২৩০৪ ভোটে জিতে গিয়েছেন তৃণমূল প্রার্থী তপন সিংহ। খড়্গপুরে কংগ্রেসের সোহন পাল সিংকে হারিয়েছিলেন দিলীপ ঘোষ।

ওই কেন্দ্রে কার্যত প্রেস্টিজ ফাইটে নেমেছিল তৃণমূল। খড়গপুরে প্রথম রাউন্ডের গণনার শেষে এগিয়ে ছিলেন বাম-কংগ্রেস জোটের প্রার্থী। যদিও পরের রাউন্ডেই এগিয়ে যান বিজেপি প্রার্থী। কিন্তু বেলা বাড়তেই এখানেও চিত্রটা পাল্টাতে থাকে। ধীরে ধীরে ব্যবধান কমাতে থাকেন এবং পঞ্চম রাউন্ডেই বিজেপি প্রার্থীকে পিছনে ফেলে এগিয়ে যান তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকার। তার পর থেকে গণনা যত এগিয়েছে, ব্যবধান বেড়েছে তৃণমূল প্রার্থীর। এই কেন্দ্রেও শেষ লোকসভা ভোটের নিরীখে খড়গপুর সদর কেন্দ্রে দিলীপ ঘোষ এগিয়ে ছিলেন ৪৫১৩২ ভোটে। আবার ২০১৪ সালের বিধানসভা নির্বাচনে দিলীপ ঘোষ এই কেন্দ্র থেকে জিতেছিলেন ৬৩০৯ ভোটে। সেখানেও এসেছে সাফল্য। করিমপুর তৃণমূলের দখলেই রয়েছে৷

তবে বিজেপির শক্ত ঘাঁটি খড়গপুর ছিনিয়ে নিয়ে তৃণমূলের মহাসচিব পার্থ চট্টোপাধ্যায় জানিয়েছেন, সাধারণ মানুষ রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দোপ্যাধ্যায়ের উপর আস্থা রেখেছেন। পার্থ আরও জানান বিজেপির এনআরসি নিয়ে কেন্দ্রের প্রতি বীতশ্রদ্ধ হয়েছে মানুষ। যার ফল ভোট বাক্সে পড়েছে বলে জানান তিনি।

খড়গপুর সদরে তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার জানিয়েছেন, এনআরসি ইস্যুকে ভালো চোখে নেয়নি এই রাজ্যের মানুষ। যার ফলে বিজেপির উপর আস্থা হারিয়ে সাধারণ মানুষ ভরসা রেখেছে তৃণমূলেই। এই কেন্দ্রে প্রেস্টিজ ফাইটে হার হয়েছে বিজেপির বলেও মন্তব্য করেন তিনি। ফলে ভোটের ফলাফলের সমীকরণ যে দিকে এগোচ্ছে তাতে সব কেন্দ্রেই শাসক দলের দাপট অব্যহত রয়েছে। মানুষের রায় মাথা পেতে নিয়েছে শাসক দল।