প্রতীতি ঘোষ, বারাসত: চলতি বছরের মধ্যেই ভেঙে যাবে তৃণমূল কংগ্রেস পরিচালিত পশ্চিমবঙ্গ সরকার। এমনই দাবি করলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। আরও একধাপ এগিয়ে রাজ্যের শাসকদলকে হুমকিও দিয়ে রাখলেন দিলীপ।

শুক্রবার বারাসতে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে এই বিস্ফোর মন্তব্য করেন দিলীপ। যার পিছনে বড় ভিত্তি ছিল তৃণমূলের দাপুটে নেতা অর্জুন সিং। বর্তমানে অর্জুন সিং বিজেপি নেতা। চলতি সপ্তাহের বৃহস্পতিবারে দিল্লিতে গিয়ে গেরুয়া নামাবলী গায়ে চাপিয়েছেন ভাটপাড়ার বিধায়ক অর্জুন।

দলের দীর্ঘদিনের নেতার দল বদল নিয়ে পালটা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়েছেন তৃণমূলের যুব নেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বারাকপুর কেন্দ্রে অর্জুন সিং বিজেপি প্রার্থী হলেও দীনেশ ত্রিবেদী দুই লক্ষ ভোটে জিতবেন। অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় নিজের কাঁধে সেই দায়িত্ব তুলে নিয়েছেন। অর্জুনের দল বদলের ২৪ ঘন্টার মধ্যে একাধিকবার প্রকাশ্যে এই দাবি করেছেন ডায়মন্ড হারবার কেন্দ্রের সাংসদ। পালটা দল ভাঙানো নিয়েও বিজেপি তথা মুকুল রায়কে কটাক্ষ করেছেন অভিষেক।

আরও পড়ু- ভয় দেখাচ্ছেন অর্জুন, অভিযোগ ভাটপাড়া পুরসভার তৃণমূল কাউন্সিলরদের

এই সকল প্রশ্নের জবাব দিয়েছেন বঙ্গ বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ। তিনি বলেছেন, “তৃণমূল দলটা তৈরিই হয়েছে তো অন্য দল ভাঙিয়ে।” অর্জুন সিং-কে দুই লক্ষ ভোটে হারানো সম্পর্কে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভবিষ্যদ্বাণী নিয়ে দিলীপের ইঙ্গিতবহ উত্তর, “ভোটের পরে অভিষেক থাকবেন কোথায়, আগে তিনি সেটা ভাবুন।”

গ্রাফিক্স- kolkata24x7

যদিও এখানেই শেষ হেয় যায়নি তৃণমূল কংগ্রেসের প্রতি বিজেপির রাজ্য সভাপতির আক্রমণ। দিলীপ ঘোষ আরও বলেছেন, “চমক আরও বাকি আছে। আগামী ১৫ দিনের মধ্যে ইট-বালি-সিমেন্ট সব আলাদা করে দেব। দিদিমণির মুখ আমসি হয়ে যাবে। ডিসেম্বরের মধ্যে দেখবেন, এই সরকার দেখতে পাবেন না।”

এই একই সুর শোনা গিয়েছিল বিজেপির কেন্দ্রীয় নেতা মুকুল রায়ের গলাতেও। গত মাসে দিল্লিতে প্রাক্তন তৃণমূল নেতা শঙ্কুদেব পণ্ডা বিজেপিতে যোগ দেওয়ার পরে Kolkata24x7-কে মুকুল রায় বলেছিলেন, “আগামী লোকসভা নির্বাচনে তৃণমূল ২০টির বেশি আসন পাবে না। হেরে যাওয়া আসনের তৃণমূল বিধায়কেরা সবাই ভারতীয় জনতা পার্টিতে যোগ দেবে। কারণ সবাই ক্ষমতার অলিন্দে থাকতে চায়।” একই সঙ্গে তিনি আরও বলেছিলেন, “এই প্রক্রিয়াতেই ২০১৯ সালের মধ্যেই বাংলায় তৃণমূল কংগ্রেসের সরকার ভেঙে যাবে।”