স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: লোকসভা কিংবা বিধানসভা নির্বাচনের আগে মূলত নিজেদের ইস্তাহার প্রকাশ করে রাজনৈতিক দলগুলি৷ তবে এবার উপনির্বাচনে ইস্তেহার প্রকাশ করতে চলেছে রাজ্যের শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার খড়গপুর কেন্দ্রের ইশতেহার প্রকাশ করা হবে। এক সপ্তাহের মধ্যে বাকি দুই কেন্দ্রের ইস্তেহার প্রকাশেরও সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

২৫ নভেম্বর রাজ্যের তিনটি কেন্দ্রে উপনির্বাচন। উত্তর দিনাজপুরের কালিয়াগঞ্জ, নদিয়ার করিমপুর এবং পশ্চিম মেদিনীপুরের খড়গপুর সদরে উপনির্বাচনের ভোটগ্রহণ হতে চলেছে ওই দিন।এই তিন কেন্দ্রের উপনির্বাচনে পৃথক পৃথক ইশতেহার প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। উল্লেখ্য, কালিয়াগঞ্জে তৃণমূলের প্রার্থী হচ্ছেন তপন দেব সিংহ। করিমপুরে তৃণমূলের হয়ে লড়বেন বিমলেন্দু সিংহ রায়। খড়গপুর সদর থেকে তৃণমূলের প্রার্থী প্রদীপ সরকার।

কিন্তু হঠাৎ উপনির্বাচনে ইশতেহার প্রকাশ কেন? খড়গপুর, করিমপুর এবং কালিয়াগঞ্জ- এই তিন কেন্দ্রের মধ্যে করিমপুর বাদে লোকসভা নির্বাচনের নিরিখে বাকি দুটি কেন্দ্রে অনেকটা পিছিয়ে ছিল তৃণমূল। কালিয়াগঞ্জ কংগ্রেসের দখলে ছিল। খড়গপুর আসনটিও দীর্ঘ দিন কংগ্রেসের দখলে থাকলেও, গত বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ সেখানে জেতেন।

খড়্গপুর আসনটি নিয়ে টানটান লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে বলে রাজনৈতিক মহলের ধারণা। তৃণমূলের হেভিওয়েট নেতা পরিবহণমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারি মাঠে নেমেছেন তৃণমূল প্রার্থী প্রদীপ সরকারকে জেতাতে। ওই আসনে বিজেপির প্রার্থী প্রেমচাঁদ ঝা। তবে আসনটি নিজেদের দখলে রাখতে আশাবাদী বাম সমর্থিত কংগ্রেস প্রার্থী চিত্তরঞ্জন মণ্ডল।

তবে লোকসভা নির্বাচনে করিমপুর কেন্দ্রটি তৃণমূল নিজেদের দখলে রাখলেও জাতীয় নাগরিক পঞ্জি (এনআরসি) নিয়ে তারা বেশ চাপে রয়েছে৷ কারণ এনআরসিকে প্রচারের হাতিয়ার করে ওই কেন্দ্রটি ছিনিয়ে নেওয়ার জন্য মরিয়া হয়ে গিয়েছে বিজেপি৷

তৃণমূল সূত্রে খবর, গত কয়েক মাসে তিন উপনির্বাচন কেন্দ্রের বিভিন্ন এলাকায় সমীক্ষা করে এলাকাভিত্তিক কিছু সমস্যা এবং সেই এলাকার প্রয়োজনীয়তা বার করেছে টিম পিকে। বিধানসভা নির্বাচনের আগে রাজ্যের ওই তিন কেন্দ্রের স্থানীয় সমস্যা ও প্রয়োজনীয়তাকে মাথায় রেখেই তৈরি হয়েছে ইস্তাহার।