স্টাফ রিপোর্টার, কোচবিহার: ভোটে তৃণমূলের বিপর্যয়ে বদলে গিয়েছে ছবি৷ ভিত আলগা হয়েছে শাসক দলের সংগঠনে৷ তা যেন ক্রমশ স্পষ্ট হচ্ছে৷ একবার দু’বার নয়৷ এই নিয়ে তিন তিনবার তাণ্ডবের মুখোমুখি পড়তে হল তৃণমূল নেতৃত্বকে৷ রবিবার দিনহাটায় শাসক দলের বিধায়ক উদন গুহর গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে৷ অভিযোগের তির বিজেপির দিকে৷ যদিও গেরুয়া শিবির সেই অভিযোগ অস্বীকার করেছে৷

কোচবিহারের ঘোর বিপাকে জোড়াফুল শিবির৷ ভোটের পর থেকে রাজ্যের শাসক দল ছেড়ে বিজেপিতে যাওয়ার হিড়িক৷ তৃণমূলের পার্টি অফিসও বিজেপির দখলে৷ জেলা সভাপতি বদলেও লাভ খুব একটা হয়নি৷ এই অবস্থায় তৃণমূল সুপ্রিমোর নির্দেশ কোচবিহারের মাথাভাঙায় যাওয়ার চেষ্টা করেন সাংসদ প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, প্রতিমা মণ্ডল এবং মালা রায়৷ কিন্তু, মাঝপথেই তাদের বিক্ষোভের মুখে পড়তে হয়৷

এখানেই শেষ নয়৷ এরপর তৃণমূলের রাজ্য সভাপতি সুব্রত বক্সী জেলায় গেলে তাঁকে ঘিরেও শুরু হয় বিক্ষোভ৷ কোচবিহারে তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে৷ তার উপর কলেবরে বেড়েছে বিজেপি৷ এই দুই সাঁড়াশি আক্রমণের মুখে পিছু হঠেন সুব্রতবাবু৷

এই ঘটনার কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ফের বিক্ষোভের মুখে জেলার তৃণমূল নেতা৷ এদিন সকালে দিনহাটার নয়ারহাট এলাকা দিয়ে গাড়ি করে যাচ্ছিলেন উদয়ন গুহ৷ স্থানীয় পঞ্চায়েত সদস্যদের নিয়ে বৈঠক করার কথা ছিল তাঁর৷ অভিযোগ, মাঝপথে একদল তাঁর গাড়ি রাস্তার উপর আটকে কালো পতাকা দেখায়। এরপরই ইট ছুঁড়ে ভেঙে দেওয়া হয় বিধায়কের দুধসাদা এসইউভি-র কাচ। গাড়ি থেকে নেমে হেঁটেই গন্তব্যে যান উদয়নবাবু৷ তাঁর দাবি, বিজেপি আশ্রিত দুষ্কৃতীরাই এই কাজ করেছে৷

ভোটের পর থেকে মুখ্যমন্ত্রী থেকে শাসক দলের অধিকাংশ মন্ত্রীরই নেক নজরে পুলিশের একাংশ৷ মুখ্যমন্ত্রী নবান্নে রাজ্য পুলিশের ডিজির সামনেই বলেছিলেন, ‘‘পুলিশের একাংশ ঠিক মতো নির্দেশ মানছেন না৷ তাদের জন্যই পরিস্থিতি ঘোরাল হচ্ছে৷’’ পুলিশকে সতর্কও করে দেন তিনি৷ একই অভিযোগ দিনহাটার তৃণমূল বিধায়কের গলাতেও৷ অভিযোগ, হামলার শুরুতে এলাকায় পুলিশ থাকলেও তারা নীরবই ছিলেন৷

বিজেপি অবশ্য উদয়ন গুহ সহ তৃণমূলের অভিযোগ মানছে না৷ উলটে তারা শাসক শিবিরের গোষ্ঠীদ্বন্দ্বকেই কাঠগড়ায় তুলেছে৷

পপ্রশ্ন অনেক: নবম পর্ব

Tree-bute: আমফানের তাণ্ডবের পর কলকাতা শহরে শতাধিক গাছ বাঁচাল যারা