স্টাফ রিপোর্টার, মালদহ: শাক দিয়ে মাছ ঢাকার বৃথা চেষ্টা। ফের এনআরসি’র প্রতিবাদ সভাকে কেন্দ্র করে প্রকাশ্যে চলে এল তৃণমূলের গোষ্ঠী কোন্দল।

মালদহের রতুয়া এলাকায় এনআরসি নিয়ে যখন সভা করছেন এলাকারই ডাকসাইটে তৃণমূলের যুবনেতা মোহাম্মদ ইয়াসিন। ঠিক তখনই সেখান থেকে ঢিল ছোঁড়া দূরত্বে পাল্টা সভা করলেন কংগ্রেস থেকে তৃণমূলে যোগ দেওয়া রতুয়ার বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায়। যা নিয়ে শুরু হয়েছে জোর রাজনৈতিক তরজা। চলছে একে অপরের বিরুদ্ধে দোষারোপ। যার ফলে এনআরসির প্রতিবাদের সভা কার্যত তৃণমূলের দুই গোষ্ঠীর ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই হয়ে দাঁড়াল এদিন।

এদিকে মোহাম্মদ ইয়াসিন দাবি করে জানিয়েছেন সমর মুখোপাধ্যায় দলের ক্ষতি করছে। তিনি আরও জানান, জেলা নেতৃত্বের নির্দেশেই তিনি এই সভা করছেন। সেখান থেকে কিছুটা দূরত্বে পাল্টা সভা ডেকে দলকে ছোট করছেন ঐ বিধায়ক। গত লোকসভা নির্বাচনে নিজের এলাকাতেই ভোট করতে পারেননি বিধায়ক। ফলে বিধায়কের বুথে তৃণমূলের থেকে বিজেপি অনেক বেশি ভোট পেয়েছিল। যার ফলে এখন এই সভা ডেকে দলকে মানুষের কাছে আরও ছোট করছেন তিনি।

এই বিষয়ে বিধায়ক সমর মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওখানে কারা সভা করছে তা বলতে পারছিনা। আমি মালদহ জেলার সহ-সভাপতি। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে এই সভা করছি।” যদিও এই ঘটনায় চরম অস্বস্তিতে জেলা তৃণমূল নেতৃত্ব। তৃণমূলের মালদহ জেলার কার্যকরী সভাপতি দুলাল সরকার জানান, রতুয়া এলাকায় দু’টি বিধানসভা কেন্দ্র রয়েছে। সেই কারণেই হয়ত দুটি সভা হচ্ছে। এদিকে দুলাল বাবু যতই শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করুক। গোষ্ঠী কোন্দলের জের যে আগামী দিনে নির্বাচনে পড়তে চলেছে তা স্পষ্ট।

অন্যদিকে, একই এলাকায় এই দুই সভা ঘিরে কটাক্ষ করতে ছাড়েনি বিজেপির জেলা নেতা সুদীপ্ত চট্টোপাধ্যায়। বিজেপি নেতার দাবি, মানুষ তৃণমূলের পাশে নেই এটা গোষ্ঠী কোন্দল ও ক্ষমতা প্রদর্শনের লড়াই।