স্টাফ রিপোর্টার, নন্দীগ্রাম: তৎকালীন রেলমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চেয়েছিলেন৷ তাই জেলা তথা নন্দীগ্রামের মানুষের সুবিধার্থে নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু তার পর থেকে কেন্দ্রের সরকার আর উদ্যোগ নেয়নি সেই প্রকল্প শেষ করার৷ তাই বেহাল অবস্থায় পড়ে রয়েছে সেই কাজ।

আসন্ন লোকসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রামে এই ইস্যুকেই সামনে রেখে ছক্কা মারতে চাইছে শাসকদল তৃণমূল। জমি আন্দোলনের ‘আঁতুড়ঘর’ শহিদভূমি নন্দীগ্রামকে প্রণাম জানিয়ে ভোট প্রচারে নেমেছে তৃণমূল। এখন প্রচার ইস্যুতেও উঠে আসছে সেই নন্দীগ্রামের নাম। নন্দীগ্রাম বিধানসভা এলাকায় ভোট প্রচারে অন্যতম ইস্যু হয়েছে এলাকার বন্ধ রেল প্রকল্প।

তৃণমূলের দাবি, কেন্দ্রের সরকারে বদল হলেই নন্দীগ্রামে হবে রেলপ্রকল্প। সম্প্রতি জেলার বাজকুলে প্রশাসনিক সভাতে এসেও এই বার্তা দিয়ে গিয়েছিলেন মুখ্যমন্ত্রী৷ আর এখন ভোটবেলায় দলনেত্রীর সেই বার্তাকে প্রচারে এলাকার মানুষের কাছে তুলে ধরছেন তৃণমূলের নেতা-কর্মীরা।

নন্দীগ্রামে প্রস্তাবিত কেমিক্যাল হাবের জমি নেওয়ার বিরুদ্ধে ২০০৭ সালে আন্দোলনে নেমেছিলেন স্থানীয়রা। জমি আন্দোলনের জন্য পিছিয়ে আসতে বাধ্য হয়েছিল তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার। কেমিক্যাল হাব গড়ে না উঠলেও ২০১০ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় রেলমন্ত্রী থাকার সময় নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের ঘোষণা করেছিলেন।

নন্দীগ্রামে রেললাইনের জন্য জমিদাতা পরিবারের সদস্যদের চাকরির প্রতিশ্রুতিও দিয়েছিলেন। দেশপ্রাণ (বাজকুল)- নন্দীগ্রাম রেলপ্রকল্পের শিলান্যাসের পর জমি অধিগ্রহণ ও প্রকল্পের রূপায়ণের জন্য ঠিকাদার নিয়োগ করে কাজও শুরু হয়েছিল। ১৭ কিলোমিটার দীর্ঘ প্রস্তাবিত এই রেলপথের জন্য জমি অধিগ্রহণের সময় জমিদাতাদের একাংশকে ক্ষতিপূরণও দেওয়া হয়েছিল।

জমি অধিগ্রহণ, লাইন পাতা এবং স্টেশন ও আবাসন নির্মাণ কাজ শুরু হয়েছিল। কিন্তু ইউপিএ জমানায় রেলমন্ত্রক তৃণমূলের ‘হাতছাড়া’ হওয়ার পর থেকেই নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের কাজ আর এগোয়নি। বর্তমানে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্পের বিশ বাঁও জলে।

তমলুক লোকসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী সাংসদ দিব্যেন্দু অধিকারী অভিযোগ করে বলেন,” কেন্দ্রের মোদি সরকার চক্রান্ত করে নন্দীগ্রাম রেল প্রকল্প বন্ধ করে দিয়েছে। বাজকুল (দেশপ্রাণ) থেকে নন্দীগ্রাম পর্যন্ত রেললাইন জুড়ে দেওয়া হয়েছিল। এরা রুখে দিয়েছে। সংসদের ভিতর ও বাইরে বহুবার নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্পের থমকে থাকা কাজ শুরুর দাবি জানানো হয়েছে তৃণমূলের তরফে। কিন্তু কেন্দ্র তাতে কানই দেয়নি। তাই নন্দীগ্রাম থেকে দেশপ্রাণ পর্যন্ত অসম্পূর্ণ রেল প্রকল্প শেষ করার দাবি নিয়ে আগামী দিনে কাজ করার সুযোগ চাইব।”

দিব্যেন্দু আরও বলেন,” মনে রাখতে হবে মমতা ব্যানার্জি না চাইলে নন্দীগ্রামে রেল প্রকল্প ঘোষণাই হত না। তাই নন্দীগ্রামের বন্ধ রেল প্রকল্প নিয়ে আমরা মানুষের কাছে সত্যিটা তুলে ধরব।” তৃণমূলের এমন প্রচারকে অবশ্য গুরুত্ব দিতে নারাজ তমলুক কেন্দ্রের বিজেপি প্রার্থী সিদ্ধার্থ নস্কর। বলেন,”তৃণমূল শুধুই ধাপ্পা দিচ্ছে।ওরা ফায়দা নিতে শুধু শিলা পুঁতে ছিল। ক্ষমতায় ফিরলে আমরাই নন্দীগ্রামে নতুন করে রেল প্রকল্প চালু করব।”