তিমিরকান্তি পতি, বাঁকুড়া: হারানো জায়গা ফিরে পেতে এবার সোশ্যাল মিডিয়াকেই হাতিয়ার করল শাসক দল তৃণমূল। সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে গোটা রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়াতেও ব্যাপক ভরাডুবি শাসক শিবিরে। ২০২১ এর বিধানসভা নির্বাচনের আগে তৃণমূলের ঘাড়ের কাছে নিঃশ্বাস ফেলছে তাদের অন্যতম প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী বিজেপি। এই অবস্থায় গেরুয়া ঝড় ঠেকাতে জনসংযোগের অন্যতম প্রধান অস্ত্র হতে পারে সোশ্যাল মিডিয়াই, এমনটাই মনে করছে শাসক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব।

তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি অধ্যাপক শ্যামল সাঁতরা এই বিষয়ে সাংবাদিকদের সামনে অকপট বলেন, ‘‘আমরা সোশ্যাল মিডিয়ার উপরেই বিশেষ গুরুত্ব দিতে চাইছি। বর্তমান সময়ে এখন প্রতিটি হাতে, প্রতিটি বাড়িতেই অ্যানড্রয়েড ফোন রয়েছে। প্রতিটি বুথ স্তরে এক একটি বাড়ি থেকে এক বা একাধিক জনকে নিয়ে সংশ্লিষ্ট বুথ সভাপতি একটি হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি করবেন। ওই গ্রুপে অঞ্চল, ব্লক নেতৃত্বের পাশাপাশি জেলা সভাপতিকেও যুক্ত করবেন। বুথ স্তরের কর্মীরা কি ধরণের কর্মসূচী গ্রহণ করছেন তা ওই গ্রুপে দেবেন৷ পাশাপাশি জেলা বা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশিকা, কর্মসূচীও ওখানে জানিয়ে দেওয়া হবে। ফলে সহজেই বুথ থেকে দলের সর্বোচ্চ স্তর পর্যন্ত সমস্ত কর্মসূচীর খবর সহজেই পৌঁছে যাবে।’’

একই সঙ্গে তিনি আরও বলেন, দিদি যে জনসংযোগ যাত্রার কথা ঘোষণা করেছেন, তা একবার পায়ে হেঁটেই এলাকা প্রদক্ষিণ নয়, মানুষের কাছে নিয়মিত যেতে হবে। মানুষের ঘরে গিয়ে তাদের বাড়িতে বসে জল খাওয়া, গল্প করা এমনকি ইচ্ছে না থাকলেও একসঙ্গে বসে টিভি দেখার বিষয়ে কর্মীদের নিদান দেন তিনি। তবে শুধু গেলে, জল খেয়ে, টিভি দেখেই ফিরে আসলে চলবে না। সেই ছবি ও ভিডিও বুথ স্তরের হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে দিতে হবে বলেও স্পষ্ট নির্দেশিকা তিনি জারি করেন।

দলীয় কর্মসূচী প্রচারের পাশাপাশি এলাকার সমস্যা সমাধান সহ বিভিন্ন সামাজিক কাজে দলের কর্মীরা নিয়মিত অংশগ্রহণ করবেন বলে জানান তিনি৷ বলেন, মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মতো জনসংযোগ যাত্রাকে বাস্তব রূপ দিতে এই হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরির বিষয়টি ভাবা হয়েছে। ইতিমধ্যে জেলার অনেক জায়গাতেই এই ধরণের গ্রুপ তৈরি হয়েছে, বাকি সমস্ত জায়গায় আগামী ১৫ জুলাইয়ের মধ্যে সর্বত্র বুথ স্তরীয় হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ তৈরি হয়ে যাবে বলে জানান তিনি।

প্রসঙ্গত, সদ্য সমাপ্ত লোকসভা নির্বাচনে জেলার দুই কেন্দ্রই হাতছাড়া হয়েছে শাসক দলের। এমনকি লোকসভা ভোটের নিরিখে বাঁকুড়া জেলার সব কটি বিধানসভা কেন্দ্রেই বিজেপির কাছে বেশ খানিকটা পিছিয়ে আছে তারা। এই অবস্থায় ২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জেলার সিংহভাগ বিধানসভা নিজেদের দখলে রাখতে মরিয়া বিজেপি।

সেই পরিস্থিতিতে দাঁড়িয়ে জেলায় নিজেদের গড় রক্ষা করা শাসক শিবিরের কাছে অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেকারণেই হোয়াটসঅ্যাপের মতো সোশ্যাল মিডিয়াকে ভর করে নিজেদের হারানো জমি পুনরুদ্ধারে তৃণমূল উঠে পড়ে লেগেছে বলেই জেলা রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞ মহলের একাংশ মনে করছেন।