বালুরঘাট: দলবিরোধী একাধিক অভিযোগে তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করল শাসকদল তৃণমূল। দক্ষিণ দিনাজপুরের বহিস্কৃতদের মধ্যে দু’জন দলের কার্যকরী সভাপতি শুভাশীষ ওরফে সোনা পাল ও দেবাশীষ মজুমদার ওরফে দেবা। আরেক জন দলের সাধারণ সম্পাদক সুনির্মলজ্যোতি বিশ্বাস ওরফে বুড়া।

গত ২৪ আগষ্ট তৃণমূল নেতৃত্ব তাঁদের শোকজ করার পাশাপাশি দলের সব কাজ থেকে বিরত থাকার নির্দেশ দিয়েছিলেন। দক্ষিণ দিনাজপুর জেলা তৃণমূল নেতৃত্বের তরফে জানানো হয়েছে যে তিনজনের বিরুদ্ধেই ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলকে ক্ষতিগ্রস্ত করা ও একাধিক দূর্নীতি সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগ রয়েছে।

শুভাশীষ পাল ও দেবাশীষ মজুমদার দুইজনে যথাক্রমে জেলাপরিষদের মেন্টর ও সিডব্লিউসি’র চেয়ারম্যান ছিলেন। অন্যদিকে সুনির্মলজ্যোতি বিশ্বাস লোকসভার প্রাক্তন সাংসদ অর্পিতা ঘোষের প্রতিনিধি ছিলেন।

এদের বিরুদ্ধে ক্ষমতার অপব্যবহার দুর্নীতি ও দলবিরোধী একাধিক অভিযোগ দলীয় কর্মীরা বহুবার করলেও তাঁরা দলের প্রভাবশালী কারও স্নেহধন্য হওয়ায় এতদিন পাড় পেয়ে যেতেন।

অভিযোগগুলির পরিপ্রেক্ষিতে দীর্ঘদিন পর গত ২৫ জুন বুনিয়াদপুরের কর্মীসভায় তৃণমূলের তৎকালীন পর্যবেক্ষক ও মন্ত্রী রাজীব বন্দোপাধ্যায় শুভাশীষ পাল ও দেবাশীষ মজুমদারকে দলীয় কাজকর্ম থেকে বিরত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন।

মাঝে আত্রেয়ী পুনর্ভবা দিয়ে বহু জল গড়িয়ে যাওয়ার পর অবশেষে শনিবার বর্তমান জেলাসভাপতি তিনজনকে বহিষ্কারের কথা ঘোষণা করলেন। এদিন বালুরঘাটে জেলা কার্যালয়ে রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করেন।

সেখানে সভাপতি ছাড়াও উপস্থিত ছিলেন দলের চেয়ারম্যান শঙ্কর চক্রবর্তী মুখপাত্র জয়ন্ত দাস দুই কো-অর্ডিনেটর সুভাষ চাকি ও ললিতা টিগ্গা। জেলা তৃণমূল সভাপতি গৌতম দাস বলেন, দেবাশিস মজুমদার, শুভাশিস পাল এবং সুনির্মল জ্যোতি বিশ্বাস তিনজনে ক্ষমতার অপব্যবহার করে দলের ক্ষতি করেছেন।

এছাড়াও নানান দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার কারণে গত ২৪ আগস্ট তাঁদের শো-কজ করা হয়েছিল। তিনজনেরই শো-কজের উত্তরে সন্তুষ্ট নয় দল। অবশেষে আলোচনা করে দলের পক্ষ থেকে তাঁদের বহিষ্কার করা হয়েছে বলেও তিনি জানিয়েছেন।

সপ্তম পর্বের দশভূজা লুভা নাহিদ চৌধুরী।