স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: ‘দিদিকে বলো’-র পর এবার এল ‘আমার গর্ব মমতা’।ফেসবুক, টুইটার, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব যেখানে ইচ্ছে কমেন্ট করে দিদিকে নিয়ে গর্বের কারণ জানাতে পারবেন আপনি। এই ধরনের একের পর এক প্রচার স্পষ্ট তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ইমেজকে মূলধন করে ২০২১ সালের রণনীতি তৈরি করছেন প্রশান্ত কিশোর।

শুক্রবার তৃণমূলের তরফে একটি টুইটে জানানো হয়েছে, ‘দিদি আমাদের জন্য লড়েছেন, আমাদের পাশে দাঁড়িয়েছেন, আমাদের জন্য নিরলস পরিশ্রম করছেন। বিশ্বজুড়ে লক্ষ লক্ষ মানুষের গর্ব আমাদের দিদি। #আমারগর্বমমতা’। কমেন্ট করে জানান কেন আপনি দিদিকে নিয়ে গর্বিত।

এদিকে‘দিদিকে বলো’ আরও আকর্ষণীয় করে তুলতে এবার পুরস্কারের টোপ দেওয়া হল। তৃণমূলের ফেসবুক পেজে এদিন ৬৩০৯৯৫৭৬১০- এই হোয়াটসঅ্যাপ নম্বরটি দেওয়া হয়েছে৷ এই নম্বরে‘দিদিকে বলো’ কেমন লাগছে তা জানিয়ে ভিডিও পাঠাতে হবে। সেই ভিডিওগুলি থেকে সেরা ৩টি ভিডিওকে দেওয়া হবে পুরস্কার। যদিও কী পুরস্কার দেওয়া হবে, তা খোলসা করা হয়নি। জানা গিয়েছেল, সেই পুরস্কার নাকি দেবেন স্বয়ং মুখ্যমন্ত্রী।

তবে তৃণমূলের এই প্রচারকে বিরোধীরা নিজেদের অস্ত্র বানিয়ে ফেলেছে৷নানা আশ্বাস সত্ত্বেও সরকারি ও বেসরকারি ক্ষেত্রে পড়াশোনার খরচ কেন বেড়েইে চলেছে? মাদ্রাসায় কেন পর্যাপ্ত শিক্ষক নিয়োগ নেই, জঙ্গলমহলের কলেজগুলি কেন শিক্ষকের অভাবে ভুগছে?সিপিএমের ছাত্র সংগঠনের তরফ থেকে ইতিমধ্যেই হাফ ডজন প্রশ্ন তোলা হয়েছে৷ ‘দিদিকে বলো’র পাল্টা প্রচারে আলিমুদ্দিনের স্লোগান হয়েছে ‘বন্ধু হও, হাত বাড়াও’। দিদিকে ছেড়ে মোদিকে বলো’ পাল্টা স্লোগান তুলেছে গেরুয়া বাহিনী।

বিরোধীদের নেগেটিভ প্রচার যদিও তৃণমূলকে দমাতে পারেনি৷ পিকের উপর তারা পুরোপুরি ভরসা রাখছে৷ উল্লেখ্য, এর আগে ২০১৪ সালেও দলকে ছাপিয়ে নেতাকে মুখ করে তুলেছিলেন প্রশান্ত। সেবার গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীই ছিলেন বিজেপির মুখ, প্রধানমন্ত্রী পদপ্রার্থী। বিজেপির স্লোগান ছিল, ‘আবকি বার মোদী সরকার’। সেই ছকেই এবার বাংলায় চলছেন প্রশান্ত কিশোর। তবে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের এই মেকি ইমেজ মানুষ আদৌ ভালভাবে নেবে কিনা তা নিয়ে তৃণমূলের অন্দরেই প্রশ্ন উঠছে৷