হাওড়া: বস্তি উচ্ছেদ করে নির্ধারিত উন্নয়ন প্রকল্প শুরু করতে চেয়েছিল রেল৷ তবে বাধা হয়ে দাঁড়াল তৃণমূল কংগ্রেস৷ পরিষ্কার জানিয়ে দেওয়া হল জোর জবরদস্তি করে কাউকে উচ্ছেদ করা চলবে না। উন্নয়নের কাজ করতে হলে আগে সবার পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।

রেলের জমিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে বসবাস করা প্রায় শতাধিক পরিবারের পাশে দাঁড়িয়ে রেলের কাজ আটকে দিল তৃণমূল কংগ্রেস বলে অভিযোগ৷ শুক্রবার সকালে হাওড়ার শালিমার ৫ নং গেটের কাছে পাক্কাখালিতে একটি বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল দক্ষিণ-পূর্ব রেল। উচ্ছেদের জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল। কিন্তু সেখানে বাধা হয়ে দাঁড়ান এখানকার বাসিন্দারা।

আরও পড়ুন : জন্মাষ্টমীর মিছিলে মিষ্টি মুখ করালেন মুসলিমরা, সম্প্রীতির নজির বাংলায়

গোটা ঘটনা শুনে ছুটে আসেন ৩৯ নং ওয়ার্ডের প্রাক্তন জনপ্রতিনিধি তথা প্রাক্তন বোরো চেয়ারম্যান সৈকত চৌধুরী। সৈকতবাবু দাবি করেন, এদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করা পর্যন্ত রেলের জমি থেকে কাউকে উচ্ছেদ করা যাবে না। এরা এই জমিতে দীর্ঘ পাঁচ দশকেরও বেশি সময় ধরে বসবাস করছেন। এদের বৈধ ভোটার কার্ড রয়েছে। এদের জোর করে উচ্ছেদ করা হলে এরা কোথায় যাবেন।

তাঁর আরও দাবি রেল তার জমিতে অবশ্যই উন্নয়নের কাজ করবে। কিন্তু তার আগে এদের জন্য কাছাকাছি জমি দেখে সেখানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে। রেলের জমিতে ডেভেলপমেন্টের জন্য স্কিম নেওয়া রয়েছে। এদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা না করা হলে উচ্ছেদ মানা হবে না৷ কোনও পুনর্বাসনের ব্যবস্থা না করে রেল শুক্রবার বস্তি উচ্ছেদের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল৷ কোনও নোটিশও দেওয়া হয়নি৷ তাতে বাধা দেওয়া হয়েছে৷

সৈকত চৌধুরী জানান, স্থির হয়েছে আগামী মঙ্গলবার প্ল্যান নিয়ে রেলের সঙ্গে আলোচনায় বসা হবে। মন্ত্রী অরূপ রায়ের সঙ্গে আলোচনা করেই রেলকে বলা হয়েছে এই বাসিন্দাদের কথা৷ তাদের এভাবে উচ্ছেদ করা যায় না৷ ওদের জন্য কাছাকাছি কোনও বিকল্প জায়গা দিতে হবে। ঠিক হয়েছে মঙ্গলবার প্ল্যান নিয়ে রেল আলোচনায় বসবে৷