ফাইল ছবি। প্রতিবেদনের সঙ্গে কোনও যোগ নেই।

তিমিরকান্তি পতি (বাঁকুড়া): বাংলায় গেরুয়া ঝড়। এই ঝড়ে নিজেদের একাধিক শক্ত ঘাঁটি হারিয়েছে শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। এই অবস্থায় জেলা সাংগঠনিক স্তরে রদবদল ঘটিয়ে ফের হারানো জমি পূনঃরুদ্ধারে নেমে পড়ল রাজ্যের শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেস। দলীয় সিদ্ধান্তে বাঁকুড়ার জয়পুর ও ইন্দাসে দলীয় সভাপতির পদ থেকে সরে যেতে হল স্বপন কোলে ও রবিউল হোসেনকে।

আজ বুধবার জেলা তৃণমূল ভবনে এমনটাই ঘোষণা করেন দলের বিষ্ণপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা। একই সঙ্গে ওই দুই ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তার জায়গায় জয়পুরে ইয়াসমিন শেখকে কনভেনর করে ন’জনের কোর কমিটি ও ইন্দাসে বিধায়ক গুরুপদ মেটেকে কনভেনর করে ১৩ জনের কোর কমিটি গঠিত হয়েছে।

উল্লেখ্য, সারা রাজ্যের সঙ্গে বাঁকুড়া জেলাতেও লোকসভা ভোটে তৃণমূলের শোচনীয় পরাজয় হয়। এরপরেই তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নির্দেশে দলের বাঁকুড়া জেলা সভাপতির পদ থেকে অরুপ খাঁকে সরে যেতে হয়েছে। একই সঙ্গে এই জেলাকে সাংগঠনিকভাবে দুই ভাগ করে বাঁকুড়ার সভাপতির দায়িত্ব তৃণমূল নেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ঘনিষ্ট হিসেবে পরিচিত শুভাশীষ বটব্যালকে দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে বিষ্ণুপুরের সভাপতি হয়েছেন রাজ্যের শ্যামল সাঁতরা। এবার গোষ্ঠীদ্বন্দে জর্জরিত ইন্দাস ব্লকের সভাপতির পদ থেকে রবিউল হোসেনকে সরিয়ে দেওয়া হলো। একই ছবি জয়পুর ব্লকেও। এখানে স্বপন কোলে তার দীর্ঘদিনের সভাপতির পদ হারালেন।

তৃণমূলের বিষ্ণুপুর সাংগঠনিক জেলা সভাপতি শ্যামল সাঁতরা এদিন ঘোষণা করেন, জয়পুর ও ইন্দাসে দলের ব্লক কমিটি ভেঙে দেওয়া হল। এখন থেকে এই দুই জায়গায় একটি ‘কোর কমিটি’ কাজ করবে। জয়পুরে কোর কমিটির ‘কনভেনারে’র দায়িত্ব পেয়েছেন ইয়াসমিন শেখ, অন্যদিকে ইন্দাসে ঐ দায়িত্বে স্থানীয় বিধায়ক গুরুপদ মেটে। দলের সাংগঠনিক রদবদল ঘটিয়ে নিজেদের হারানো জমি পূনঃরুদ্ধারে চেষ্টা করছে শাসক দল, এমনটাই মনে করছেন অনেকে। এদিন সাংবাদিক সম্মেলনে শ্যামল সাঁতরা আরো বলেন, এবার থেকে একক সিদ্ধান্তের কোন জায়গা থাকল না। এবার যেকোন ধরণের সিদ্ধান্ত কোর কমিটির সদস্যরা সকলে মিলে নেবেন।