- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার, কলকাতা: নারদকাণ্ডে ১৩জন অভিযুক্তের পাশেই রয়েছে দল, সাংগঠনিক নির্বাচনের পর নীচুতলার কর্মীদের কাছে ফের সেই বার্তাই দিলেন তৃণমূল সুপ্রিমো মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷ অভিযুক্তদের উদ্দেশ্যে নেত্রীর অভয়বানী, “ভয় পাওয়ার কোনও কারণ নেই৷কোনও কিছু প্রমাণ করতে পারবে না৷ বিচারের বানী নীরবে, নিভৃতে কাঁদবে না৷”

আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের আগেই বুথস্তরের কর্মীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্ক স্থাপন করতে সম্মেলন পর্ব সাড়তে চেয়েছিলেন তৃণমূল নেত্রী।সেইমতো শুক্রবার নেতাজি ইনডোর স্টেডিয়ামে তৃণমূলের সাংগঠনিক নির্বাচনের আয়োজন করা হয়৷প্রত্যাশা মতোই এদিন আনুষ্ঠানিকভাবে ছ’বছরের জন্য দলের সভানেত্রী নির্বাচিত হলেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। নির্বাচনের পরই দলের রাজনৈতিক দিক নির্দেশ দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷সেইসঙ্গে বলেন, “আমি নিজেকে একজন কর্মী বলেই মনে করি কারণ তৃণমূল কংগ্রেসে নেতারা নয়, কর্মীরাই সম্পদ”

- Advertisement -

সারদা, রোজভ্যালি ও নারদায় নাম জড়িয়েছে দলের একাধিক নেতা-মন্ত্রীর৷ প্রতিহিংসার রাজনীতির কথা বলা হলেও নীচুতলার নেতা-কর্মীদের একটা বড় অংশ এখনও অস্বস্তিতে রয়েছে৷ যার ফল টের পাচ্ছে তৃণমূল৷ জেলায় জেলায় নীচুস্তরের কর্মী-সমর্থকরা ঘাসফুল শিবির ছেড়ে পদ্মশিবিরে নাম লেখাচ্ছে৷যা তৃণমূল নেতৃত্বের কপালে ভাঁজ ফেলেছে৷স্বয়ং দলনেত্রীও এবিষয়ে উদ্বিগ্ন৷ দলের নীচুতলার কর্মীদের মন থেকে যাবতীয় সংশয় দূর করতে এদিন আবারও বিজেপির বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জোরালো অভিযোগ করেন মমতা৷

তৃণমূল নেত্রী বললেন, “সুদীপকে অন্যায়ভাবে জেলে ভরা হয়েছে৷ যখন বেরবে তখন বীরের মতই বেরবে৷কতজনকে জেলে ভরবে?একদিন জেলের খেলা খতম হয়ে যাবে৷”ধর্মনিরপেক্ষতার প্রশ্নে বিজেপিকে বিঁধে মমতা বলেন, “আমাকে বলেছিল জগন্নাথের মন্দিরে ঢুকতে দেবে না৷আমি কী খাব, কী করব সেটা অন্য কেউ ঠিক করে দেবে? বিজেপি ধর্মের নামে লোকেদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করছে৷”

নারদায় তৃণমূলের ১৩জন নেতার নামে সিবিআই এফআইআর করার পরও তাঁকে যে এতটুকু দমানো যায়নি এদিন সেই বার্তাই দেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়৷তিনি বলেন, “তৃণমূলকে আঘাত করলে তৃণমূল প্রত্যাঘাত করে৷”

সর্বভারতীয় রাজনীতিতে বিরোধী পরিসরে বিভিন্ন আঞ্চলিক দলগুলিকে নিয়ে ঐক্য গড়ে তোলার প্রশ্নে প্রধান মুখ হয়ে উঠছেন মমতা। আগামী লোকসভা ভোটের দিকে নজর রেখেই দিল্লি অভিযান এখন তৃণমূলের লক্ষ্য। এদিন মমতা বলেন, “রাজনীতির বিরুদ্ধে জুলুমবাজী চলছে দেশে৷ দেশের প্রয়োজনেই সব আঞ্চলিক দলগুলির এক হওয়া দরকার৷”