সৌমেন শীল, ব্যারাকপুর: পাড়ার নাম লেনিননগর। নামের মধ্যেই রয়েছে কমিউনিজমের ছায়া। ২০১১ সালের পর লাল ঝান্ডার দাপট ফিকে হলেও মুছে যায়নি। আছে বিশাল পার্টি অফিস। পাশেই আছে সুসজ্জিত শহীদবেদি। লেনিননগর গঠনের সময় পাড়ার জন্য যারা আত্মবলিদান দিয়েছিলেন তাঁদের উদ্দেশ্যেই নির্মিত এই শহীদবেদি। কাস্তে-হাতুড়ি প্রতীকের নীচে খোদাই করে লেখা আছে চারজন শহীদের নাম।

ব্যারাকপুর মহকুমার গাড়ুলিয়া পুরসভার ১৩ ও ১৪ নং ওয়ার্ড নিয়ে অবস্থিত এই লেনিনগর একদা ছিল বামেদের শক্ত ঘাঁটি। গত পুর নির্বাচনে প্রথমবারের জন্য তা গিয়েছে তৃণমূলের হাতে। এই নিয়ে বিরোধীদের নানান অভিযোগ রয়েছে। যদিও এখন সেই সব বিষয় নিয়ে মাথা ঘামাতে নারাজ মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের অনুগামীরা। রবিবার এই লেনিননগর খেলার মাঠেই হতে চলেছে তৃণমূল কংগ্রেসের বিশাল কর্মী সম্মেলন। পার্থ চট্টোপাধ্যায়, জ্যোতিপ্রিয় মল্লিক সহ রাজ্যের একাধিক মন্ত্রীর উপস্থিত থাকার কথা আছে ওই সম্মেলনে। এছাড়াও উত্তর ২৪ পরগণা জেলার একাধিক বিধায়ক, পুরপ্রধানও উপস্থিত থাকবেন লেনিননগরে। এইরকম একাধিক হাইপ্রোফাইল রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নিয়ে অনুষ্ঠান এর আগে হয়নি লেনিননগরে কিংবা গাড়ুলিয়াতে। বামেদের সুদিনেও কখনও তাদের পলিটব্যুরোর একাধিক নেতা একসঙ্গে এই পুর এলাকায় পদার্পণ করেছিল কি না তা অনেক ভেবেও বলতে পারলেন না এক সিপিএম কর্মী। "১৯৮০-র দশকে জ্যোতি বসু এসেছিলেন একবার। এছাড়া এলাকার প্রাক্তন সাংসদ তড়িৎ বরণ তোপদারকে দেখা যেত বিভিন্ন সময়ে।" এর বেশি আর কিছুই মনে করতে পারলেন না প্রবীণ ওই সিপিএম কর্মী। ২০১০ সালের গোড়ার দিকে বাম পরিচালিত গাড়ুলিয়া পুরসভার পুরবোর্ডের দুর্নীতির প্রতিবাদে পুরসভার সামনে অবস্থানে বসেছিল তৃণমূল। সেই সময় কেন্দ্রে তৃণমূলের অনেক সাংসদ কেন্দ্রের মন্ত্রী। ওই এলাকার সাংসদ দীনেশ ত্রিবেদীও তখন কেন্দ্রের স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। ফলাও করে প্রচার করা হলেও ব্যস্ততার কারণে আসতে পারেননি কেউ। সেই কারণে এখনও পর্যন্ত এটিই হতে চলেছে গাড়ুলিয়ার সবথেকে বড় রাজনৈতিক সম্মেলন। প্রস্তুতিও চলতে জোড়কদমে। মাঠের পূর্ব প্রান্তে তৈরি হচ্ছে বিশাল মঞ্চ। মন্ত্রীরা আসবেন বলে কথা!

একাধিক মন্ত্রী মহোদয় আসার প্রাককালেই ঝকঝকে হয়ে গিয়েছে লেনিননগরের মাদোল ডাঙ্গা রোড। এই বিষয়ে গাড়ুলিয়া পুরসভার চেয়ারম্যান সুনীল সিংয়ের দাবি, "সম্মেলনের জন্য কিছু হয়নি। পুরসভার স্বাভাবিক নিয়মেই লেনিননগরে রাস্তা হয়েছে। এর পিছনে অন্য কোনও কারণ নেই। আমার পুর এলাকায় উন্নয়ন হয়নি এটা কোনও বিরোধী বলতে পারবে না। আমি সবার সঙ্গেই ভালো সম্পর্ক রেখে চলি।" সম্মেলনের বড় বড় ফ্লেক্স, পোস্টারে ছেয়ে গিয়েছে সমগ্র ব্যারাকপুর এলাকা। সেখানে অনেক বিধায়ক-নেতা-মন্ত্রীর নাম থাকলেও ঠাঁই মেলেনি নির্বাচন কমিশনে রাজনৈতিক দল তৃণমূল কংগ্রেস গঠনের আবেদনকারীর। একই জেলা, মহকুমা ও লোকসভা কেন্দ্রের অন্তর্গত হলেও মুকুল রায় কেন আসছেন না তা বলতে পারেননি সুনীল সিং। মুকুল রায় প্রসঙ্গে তাঁর সাফ জবাব, "আমি এই বিষয়ে কিছু জানিনা। এটা দলের শীর্ষ নেতৃত্বের ব্যাপার।"

লাল-নীল-গেরুয়া...! 'রঙ' ছাড়া সংবাদ খুঁজে পাওয়া কঠিন। কোন খবরটা 'খাচ্ছে'? সেটাই কি শেষ কথা? নাকি আসল সত্যিটার নাম 'সংবাদ'! 'ব্রেকিং' আর প্রাইম টাইমের পিছনে দৌড়তে গিয়ে দেওয়ালে পিঠ ঠেকেছে সত্যিকারের সাংবাদিকতার। অর্থ আর চোখ রাঙানিতে হাত বাঁধা সাংবাদিকদের। কিন্তু, গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভে 'রঙ' লাগানোয় বিশ্বাসী নই আমরা। আর মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরিয়ে আনতে পারেন আপনারাই। সোশ্যালের ওয়াল জুড়ে বিনামূল্যে পাওয়া খবরে 'ফেক' তকমা জুড়ে যাচ্ছে না তো? আসলে পৃথিবীতে কোনও কিছুই 'ফ্রি' নয়। তাই, আপনার দেওয়া একটি টাকাও অক্সিজেন জোগাতে পারে। স্বতন্ত্র সাংবাদিকতার স্বার্থে আপনার স্বল্প অনুদানও মূল্যবান। পাশে থাকুন।.

করোনা পরিস্থিতির জন্য থিয়েটার জগতের অবস্থা কঠিন। আগামীর জন্য পরিকল্পনাটাই বা কী? জানাবেন মাসুম রেজা ও তূর্ণা দাশ।